ব্যতিক্রমী প্রতিমায় মুগ্ধ দর্শনার্থী, সম্প্রীতি রক্ষায় জোরদার নিরাপত্তা
মো. মাজেম আলী মলিন গুরুদাসপুর (নাটোর) থেকে
ঢাকের বোল, শঙ্খধ্বনি আর বর্ণিল আলোকসজ্জায় উৎসবমুখর হয়ে উঠেছে নাটোর। জেলার সাতটি উপজেলায় ৪০৩টি পূজামণ্ডপে চলছে শারদীয় দুর্গোৎসব। মণ্ডপে মণ্ডপে পূজা-অর্চনা, অঞ্জলি আর দর্শনার্থীদের পদচারণায় বিরাজ করছে আনন্দঘন পরিবেশ। এবারের দুর্গোৎসবে বিশেষ আকর্ষণ হয়ে উঠেছে সাগু ও ভুট্টার দানা দিয়ে সাজানো ব্যতিক্রমী প্রতিমা। এসব প্রতিমার শিল্পনৈপুণ্য দেখতে ভিড় করছেন বিভিন্ন বয়সী মানুষ।
নাটোর শহরের ঘোষপাড়ার চেয়ারম্যান রোডে শ্রীধর সর্বজনীন পূজামণ্ডপে সাগু দিয়ে সাজানো হয়েছে দেবী দুর্গার প্রতিমা। অন্যদিকে, রানী ভবানীর রাজবাড়ী প্রাঙ্গণের রামচন্দ্র মন্দিরের মণ্ডপে ভুট্টার দানায় সাজানো প্রতিমা দর্শনার্থীদের দৃষ্টি কেড়েছে। প্রচলিত সাজসজ্জার বাইরে ভিন্নধর্মী এই শিল্পকর্ম উৎসবে যোগ করেছে নতুন মাত্রা।
উৎসবকে শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্ন রাখতে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে জোরদার নিরাপত্তাব্যবস্থা। নাটোরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শরীফুল হক বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করে নিরাপত্তাব্যবস্থার খোঁজখবর নিচ্ছেন। এ ছাড়া রাজশাহীতে নিযুক্ত ভারতের সহকারী হাইকমিশনার মনোজ কুমার নাটোর শহরের বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন।উৎসবের পরিবেশ নিয়ে অবসরপ্রাপ্ত সহকারী অধ্যাপক মায়া রানী চক্রবর্তী বলেন, “নাটোরের ৪০৩টি মণ্ডপে দুর্গোৎসবের আয়োজন দেখে আমরা আনন্দিত। মা দুর্গার আশীর্বাদে সবার জীবনে সুখ-শান্তি আসুক। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রেখে আনন্দের সঙ্গে উৎসব উদ্যাপন করতে চাই।”
পূজা দেখতে আসা আশা মনি বলেন, “মণ্ডপের সাজসজ্জা ও প্রতিমার সৌন্দর্য সত্যিই মুগ্ধ করেছে। সব ধর্মের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে নাটোরে সম্প্রীতির সুন্দর পরিবেশ তৈরি হয়েছে।”পূজা উদ্যাপন কমিটির নেতারা জানান, জেলার ৪০৩টি মণ্ডপেই ভক্তদের জন্য পূজা-অর্চনা ও অঞ্জলি প্রদানের আয়োজন রয়েছে। শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদ্যাপনই তাঁদের প্রধান প্রত্যাশা। দেবী দুর্গার আগমনে পৃথিবীতে শান্তি, কল্যাণ ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠিত হবে—এমন আশাবাদও ব্যক্ত করেন তাঁরা।সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আশা করছেন, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতায় ভক্ত-দর্শনার্থীরা নির্বিঘ্নে উৎসব উপভোগ করতে পারবেন। একই সঙ্গে মণ্ডপগুলোতে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অটুট রাখতে আয়োজক ও দর্শনার্থীদের সচেতন থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের গণ্ডি পেরিয়ে নাটোরের দুর্গোৎসব এখন সামাজিক সৌহার্দ্য ও পারস্পরিক সম্প্রীতিরও মিলনমেলা। ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে মানুষের অংশগ্রহণে উৎসবের আনন্দ ছড়িয়ে পড়ুক সবার মাঝে—এমন প্রত্যাশা জেলার মানুষের। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও সহাবস্থানের মধ্য দিয়ে দুর্গোৎসব হয়ে উঠুক শান্তি ও সম্প্রীতির উৎসব।# ১৯.১০.২৬
Weekly Chalonbeel Barta chalonbeelbarta.com