জাহিদ হাসান প্রতিবেদক
টানা ও নিয়মিত বৃষ্টির কারণে তাড়াশ সগুনা বিভিন্ন অঞ্চলের খেটে খাওয়া ও দিনমজুর মানুষের জীবন-জীবিকা চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। যারা প্রতিদিন কাজ করে আয় করেন, তারা দিনের পর দিন কাজ না পেয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। সংসারের নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ মেটাতে হিমশিম খাওয়ার পাশাপাশি এখন তাদের ওপর নতুন করে যোগ হয়েছে এনজিও ও ক্ষুদ্রঋণের কিস্তি পরিশোধের চাপ।
দিনমজুর, রিকশাচালক, নির্মাণশ্রমিক, কৃষিশ্রমিকসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ জানান, কয়েক দিন ধরে টানা বৃষ্টির কারণে কাজের সুযোগ প্রায় নেই বললেই চলে। ফলে তাদের আয় একেবারেই বন্ধ হয়ে গেছে। অনেক পরিবার ধার-দেনা করে কোনোমতে সংসার চালাচ্ছে।এদিকে আয় না থাকলেও বিভিন্ন এনজিও ও ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের কিস্তি আদায়ের চাপ অব্যাহত রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। অনেকেই বলেন, কিস্তির টাকা দিতে না পারলে তাদের বারবার ফোন করা হচ্ছে বা বাড়িতে গিয়ে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। এতে আর্থিক সংকটের পাশাপাশি মানসিক চাপও বেড়ে যাচ্ছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, দুর্যোগপূর্ণ সময়ে নিম্নআয়ের মানুষের প্রতি মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করা প্রয়োজন। বিশেষ করে যেসব পরিবার টানা বৃষ্টির কারণে কর্মহীন হয়ে পড়েছে, তাদের জন্য সাময়িকভাবে কিস্তি আদায় স্থগিত রাখা বা সহজ শর্তে পরিশোধের সুযোগ দেওয়া উচিত।অর্থনীতিবিদ ও সমাজসচেতন ব্যক্তিরাও মনে করেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময়ে দরিদ্র ও শ্রমজীবী মানুষের পাশে দাঁড়ানো রাষ্ট্র, স্থানীয় প্রশাসন এবং ঋণদানকারী প্রতিষ্ঠানের নৈতিক দায়িত্ব। একই সঙ্গে কর্মহীন পরিবারগুলোর জন্য জরুরি খাদ্যসহায়তা ও আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করা হলে তাদের দুর্ভোগ অনেকটাই কমে আসবে।ভুক্তভোগী মানুষের প্রত্যাশা, টানা বৃষ্টির এই সংকটময় সময়ে সরকার, স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের দুর্দশার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা ও বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
Weekly Chalonbeel Barta chalonbeelbarta.com