অধ্যক্ষ আদুল হামিদ ও  আমার সাংবাদিকতার জগতে পথচলা……..

Spread the love
( ২৪ আগষ্ট-২০২৬, ২০তম মৃত্যু দিবস স্মরণে) 
আবুল কালাম আজাদ।। 
১৯৮০ সালের মার্চ মাস। গুরুদাসপুর বিলচলন শহীদ ডঃ শামসুজ্জোহা কলেজে   উচ্চ মাধ্যমিক  দ্বিতীয়  বর্ষের ছাত্র আমি। আমার বাড়ি শিকারপুর থেকে প্রায় ৬/৭ কিলোমিটার পশ্চিমে থানা সদরে কলেজ।  বয়ে যাওয়া গুমানী নদীর দক্ষিন পাড় জঙ্গলের মধ্যে পায়ে হাটা  নদীভাঙ্গা রাস্তা  দিয়ে মেঠো পথে  প্রতিদিন পায়ে হেটে অথবা সাইকেলে বন্ধুদের সাথে কলেজে যাতায়াত করতাম। সে সময় এখনকার মত পাকা বা প্রশস্ত কোন রাস্তা ছিলনা। একমাত্র পা অথবা সাইকেলই ভরসা। এখনও বামনকোলা  সালাম এমসিএর বাড়ি থেকে কালিনগর চুনাপাড়া হয়ে সাহাপুর- শিকারপুর হিন্দুপাড়া পর্যন্ত গুমানী নদীর পাড় দিয়ে সাও রাস্তা বিদ্যমান।
সকাল ৮ টার দিকে খেয়ে সাইকেল নিয়ে কলেজে যাওয়ার জন্য বের হচ্ছি । এই সময়  চাঁচকৈড় থেকে তরুন  সাংবাদিক কিরন আর আবুল ( দুইজনই আমার জুনিয়ার, বয়সেও ছোট, তারা চাঁচকৈড় নাজিম উদ্দিন হাইস্কুলের ছাত্র ) আমার বাড়িতে দুইজন সাইকেল নিয়ে এসে হাজির।    আমি জানতে চাইলাম , তোমরা কোথায় যাচ্ছো? কিরন জানালো ,তাড়াশ থানার সিও (রাজস্ব) অফিসে জমি বিষয়ে কাজ আছে তাই আমরা তাড়াশ যাচ্ছি।আমাকেও  যাওয়ার জন্য প্রস্তাব দিল। আমি কলেজে যাওয়ার জন্যে প্রস্ততই ছিলাম । প্রস্তাব পাওয়ার সাথে সাথে বাড়িতে কাউকে না জানিয়েই সাইকেল নিয়ে তিনজন রওনা দিলাম। শিকারপুর বাড়ি থেকে বাহাদুরপাড়া  গুমানি নদির ভাঙ্গা পাড়ের পা হাঁটা রাস্তা দিয়ে সাইকেল চালিয়ে ধামাইচ বাজার ত্রি মোহনা ঘাটে খেয়া পাড় হয়ে কুশাবাড়ি- চরকুশাবাড়ি গ্রামের মধ্যে দিয়ে চলনবিলে  বিশাল খোলা মাঠে ঢুকি। চলনবিলের রাস্তা এত খারাপ যে , সাইকেল চালিয়ে  যাওয়ার কোন উপায়ই ছিলনা। কিরন সাইকেল চালানোতে দুর্বল। গরু-মহিষের  কাদার পাওটা  এবং গাড়ি নিড়িকের মধ্যে দিয়ে যাওয়ায়  (পাওটা গাড়ির চাকায় কাদা উঠে চিকন চিকন লাইন)  শুকায়ে ধারালো হয়ে শক্ত হওয়ায় হেঁটে যাওয়া খুবই কষ্টদায়ক। এদিকে চৈত্রের কাঠফাটা রোদে আমরা ঘেমে অস্থির। এভাবেই কখনো সাইকেল ঠেলে হেঁটে , কখনও  সাইকেলে চড়ে দীর্ঘ ১০/১২ কিলো  দুর্গম মেঠ পথ গনগনে আগুনে রোদ মাথায় নিয়ে সাড়ে ১২ টার দিকে তাড়াশ গিয়ে পৌছাই।
তাড়াশ পৌছে প্রথমে সিও ( রেভঃ )অর্থাৎ সার্কেল অফিসার  (রাজস্ব) অফিসে কিরনের জমির কাজ সেরে  চলনবিল প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য সাংবাদিক আব্দুর রাজ্জাক (রাজু চাচা )[বর্তমানে তাড়াশ থেকে প্রকাশিত ‘সাপ্তাহিক চলনবিল বার্তার সম্পাদক’] , সাইদুর রহমান সাজু এবং রুহুল আমিন মাষ্টারকে খোঁজ করে ।
 সে সময়ে তাড়াশ বাজারে মাত্র হাতে গোনা কয়েকটি দোকান ছিল। খোঁজ করে যে ষ্টলে সাংবাদিকরা বসেন সেই ষ্টলে গিয়ে তিনজনকেই এক সাথে পেলাম। কিরন ও  আবুল( তখন চাঁচকৈড় নাজিম উদ্দিন হাই স্কুলের  ছাত্র)    হাইস্কুলের ছত্র হলেও তারা আগে থেকেই সাংবাদিকতা এবং চলনবিল প্রেসক্লাবের সাথে সম্পৃক্ত ছিল ।
১৯৭৮ সালে এস এস সি পাশ করে   আমি গুরুদাসপুর বিলচলন ডঃ শহীদ শামসুজ্জোহা ডিগ্রী কলেজে উচ্চমাধ্যমিকে ভর্তি হওয়ার পর কলেজ ছুটির হলে  বাড়ি যাওয়ার পথে সুযোগ পেলেই চাঁচকৈড় শিক্ষা সংঘে গিয়ে  প্রেসক্লাবে বসে পেপার পড়তাম। সেই সুবাদে কিরন , আবুলসহ  সাংবাদিকদের সাথে আমার  ঘনিষ্ঠতা তৈরী হয়। তারা আমাকে পত্রিকায় লেখার জন্য উতসাহিত কর।  আমারও সাংবাদিক হওয়ার ইচ্ছা জাগে। যেহেতু আমার আব্বাও ১৯৬৫ সাল থেকে ইত্তেফাকে লিখতেন এবং আমার মেঝ চাচা শামসুর রহমানও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালিন  থেকেই সাংবাদিকতা করেন। এসব দেখে আমিও পত্রিকায় লেখা জন্য উতসাহিত হই। আমার মেঝ চাচা সাংবাদিক অধ্যাপক শামসুর রহমানও  ছিলেন চলনবিল প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। এই সুত্রে তাড়াশের রাজু চাচা ,সাজু চাচা, রুহুল আমিন মাষ্টার তাড়াশ থেকে  চাঁচকৈড় প্রেসক্লাবে আসার পথে এবং যাওয়ার পথে আমাদের বাড়িতে উঠতেন । বসতেন আমার  পড়ার ঘরে। পড়ার ফাঁকে পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ নিয়ে আলোচনা সমালোচনা শুনতাম। শামসু চাচা  ইংরেজি পত্রিকায় লিখতেন। সংবাদ ছাপা হলে আমার আব্বা বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ আব্দুল জাব্বার মাষ্টারকে দেখাতেন। আমাদের তিনজনকেই হোটেলে  উপস্থিত আরো কয়েকজন সাংবাদিকের সাথে পরিচয় করে দিলেন রাজু এবং সাজু চাচা।  আমাদের তিন জনকে নাস্তা করালেন। নাস্তা  এবং দুপুরে হোটেলে খাওয়ার সময় কিরণ এবং আবুল পরিকল্পানা করলো সাইকেল নিয়ে বগুড়া যাবে। বগুড়া আজিজুল হক কলেজে ভাইস প্রিন্সিপল  প্রফেসর আব্দুল হামিদ টি কে আছেন । আব্দুল হামিদ টিকে  চলনবিল প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা পৃষ্ঠপোষোক এবং শিক্ষা সংঘের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হওয়ায় কিরণ এবং আবুলকে শিশু সাংবাদিক হিসেবে খুব স্নেহ করতেন। সেই ভালোবাসার টানেই বগুড়া যাওয়ার ইচ্ছে  জাগে। আমার আব্বাক ১০৭০-১৯৭৩  সালে গুরুদাসপুর থানা শিক্ষাসংঘের সেক্রেটারী ও আজীবন সদস্য হওয়ায়জেবং কলেজে পড়াকালে প্রায়ই  বই নিতে শিক্ষা সঙ্ঘে যেতাম। সেই সুবাদে হামিদ সাহেব সম্পর্কে জানতাম।
কিরন এবং আবুলের প্রস্তাবে আমিও রাজী হওয়ায় তিনজনই বাই সাইকেলে বগুড়া যাওয়ার পথ  জেনে নিয়ে চৈত্রের দুপুরের প্রখের রোদ মাথায় নিয়ে ধুলিময় মেঠ পথে তাড়াশ থেকে আল্লাহর নাম স্মরণ করে বগুড়ার পথে রওয়না হলাম। আমাদের সিকেল নিয়ে বগুড়া অভিযানের কথা শুনে তাড়াশের সাংবাদিকরাতো হতবাক ! দীর্ঘ পথ সাইকেলে পাড়ি দিতে তিনজনই ক্ষুধ-পিপাসায় ক্লান্ত। আর পথ ফুরায়না। অবশেষ রাত ৮ টার দিকে শেরপুরের মির্জাপুর হাট মহা সড়কে উঠলাম।আমরা আতংকিত হলাম এই ক্লান্ত শরীরে সাইকেল  চালিয়ে রাত্রীতে বগুড়া যাওয়া সম্ভব না। উপায় কী  ভাবছি। এই মুহুর্তে  মনে হলো আমার এক বাই খলিল শেরপুর সেনানিবাসে আর্মি মেডিক্যাল কোরে আছে। সেখানে থাকআ যতেত পারে। রাত ১০ টায় সেনানিবাসে খলিলের  কাছে গেলাম । সেনানিবাসে সাইকেল রেখেক্লান্ত শরীর নিয়ে খেয়ে  হঠেত  ভ্রমনের কাহিনীর গল্প করে রাত ১২ টার দিকে ঘুমিয়ে গেলাম।
ভোরে উঠে তিনজন বগুড়ার বাসে বগুড়ার সাতমাথায় নামলাম।সাতমাথা থেকে রিক্সায় আজিজুল হক কলেজে গেলাম। গেটে গিয়ে নেমে গেট সংলগ্ন পোষ্ট  অফিসে ঢুকলাম । পোষ্টমাষ্টারের কাছে জানতে চাইলাম অধ্যাপক আব্দুল হামিদ টি কে আছেন কিনা।কারণ আমাদের ধারণা যে,  অধ্যাপক আব্দুল হামিদের সাথে পোষ্ট অফিসের যোগাযোগ ছিল অস্বাভাবিক। প্রতিদিনই পোষ্ট অফিসে তিনি চিঠি পাঠাতেন এবং তাঁর নামে বহু চিঠি আসতো। আব্দুল  হামিদের কথা শুনেই পোষ্টমাষ্টার শ্রদ্ধাভরে হা্মিদ স্যারের অনেক প্রশংসা করলেন। ফোনে পোষ্টমাষ্টার  আমাদের আগমনের কথা জানালেন। আমাদের নিয়ে যাওয়ার জন্য তিনি একজন পিয়ন পাঠালেন। পিয়ন এসে আমাদের সাথে করে নিয়ে ওয়েটিং রুমে বসতে দিয়ে খবর দিলেন। ইতমধ্যে চা-বিস্কুট দিয়ে গেছে পিয়ন। আমরা চা খাচ্ছি এরমধ্যে শ্রদ্ধাভাজন  হামিদ স্যার ধবধবে সাদা পাজামা আর পঞ্জাবি পড়ে আমাদের কাছে হাস্যজ্জল মুখে এসে আমাদের জড়িয়ে ধরে স্নেহের পরশে সিক্ত করলেন। আমরা আপ্লুত হয়ে পড়লাম। চেম্বারে নিয়ে বসে আমাদের বগুড়ায় আগমনের তিনজনের এডভেন্সারের কথা  শুনে বিস্মিত হলেন। ইতমধ্যেই বগুড়ার নামকারা সিঙ্গরা, কেক, চা  চলে এলো। আমি এখনো সাংবাদিকতা শুরুই করিনাই। কেবল এইচএস সি পরিক্ষা দিয়েছি। কিরন-আবুল আগে থকেই  সাংবাদিকতা করে। তাই আবুল আর কিরণকে হামিদ স্যার আগে থেকেই চিনেন। হামিদ স্যারের হাত ধরেই কিরণ আবুলের সাংবাদিকতায় হাতে খড়ি।  আমি আব্দুল জাব্বার মাষ্টারের ছেলে পরিচয় পেয়ে খুব খুশি হলেন। তিনি আমাকেও সাংবাদিকতা করার উতসাহ দেন। আমি আগ্রহ জানালে তিনি আরও খুশি হয়ে বললেন, ‘সাতমাথায় দৈনিক উত্তরবার্তা পত্রিকা বের হয়। প্রকাশক ও সম্পাদক মাহাবুবুর রহমান টোকন  আমার ছাত্র। আমি ফোন করে বলে দিচ্ছি। আমার কথা বলো।‘ বলেই উত্তরবার্তা পত্রিকার  সম্পাদক মাহাবুব ভাইকে ফোন করে আমাদের  কথা বললেন। । এছাড়া দৈনিক করতোয়া এবং দৈনিক উত্তরাঞ্চল পত্রিকা অফিসেও যেতে বললেন। পত্রিকা অফিস থেকে  কাজ সেরে কলেজে আসতে বললেন ,বাসায় দুপুরে খাওয়ার জন্য।
আমরা প্রথমে বগুড়ার ঐতিহাসিক সাতমাথায় গিয়ে উত্তরবার্তা পত্রিকা অফিস খুঁজে  ঢুকলাম জীর্ন   এক পুড়ানা বিল্ডিংয়ের গেট দিয়ে। বিল্ডিংয়ের দোতালায় বগুড়া প্রেসক্লাব। পত্রিকা অফিস পরিত্যক্ত টিনসেড ঘরের টিনের বারান্দায় বেড়া দিয়ে ঘেরা। দেখি ২/৩ জন  বসে আছেন। একজন ছিলেন বয়স্ক ভাবগম্ভির মোটাসোটা ব্যাক্তি। আমাদের পরিচয় দিলাম । সম্পাদকের সাথে দেখা করতে চাইলে আমাদেরকে সম্পাদক মাহাবুব  ভাইয়ের কাছে নিয়ে গেলেন। আমরা নিজ নিজ পরিচয় দিলাম । সম্পাদক নিজের নাম ও পরিচয় দিয়ে জানালেন,  স্যার আপনাদের কথা ফোনে জানিয়েছেন। ইতমধ্যে আমাদের জন্য চা-সিংগারা দিয়ে আপ্যায়ন করলেন। এসময়ে আমাদেরকে কলামিষ্ট বুদ্ধিজীবি সেই ভাবগম্ভির মানুষ মতিন খালু ( সম্পাদকের খালু), বার্তা সম্পাদক  প্রদীপ ভট্রাচার্য শংকর দা,  সিনিয়র ষ্টাফ রিপোর্টার  আশিষ উর রহমান শুভ , বিজ্ঞাপন ম্যানেজার হামিদ ভাই  এবং সার্কুলেশন ম্যানেজা আবু বক্কার সিদ্দিক ও অন্যান্যরদের সাথে পরিচয় করিয়ে দিলেন। আমরা চলনবিলের  কৃতিসন্তান প্রফেসর আব্দুল হামিদ স্যারে এলাকার হওয়ায় খুব সম্মান করলেন সবাই। বগুড়ার মানুষ অধ্যাপক আব্দু হামিদ স্যারকে শুধু চলনবিলের প্রখ্যাত মানুষ বা শিক্ষাবিদ নয় প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ ও সাহিত্যক বলে পরম শ্রদ্ধার সাথে  সম্মান করে।সম্পাদক,  শংকর দা এবং শুভ হামিদ স্যারের ডাইরেক্ট শিক্ষক । প্রত্যেকেই হামিদ স্যারকে শ্রদ্ধা করেন দেখে আমরা গর্বিত হলাম। আমাদের মধ্য থেকে কিরন এবং আবুল  আমাকে এই পত্রিকায় লাখার জন্য বলে। আমিও রাজি হয়ে যাই। সম্পাদক  মাহবুব ভাই আমাকে সংবাদ লেখার কিছু দিক নির্দেশনা দিলেন। আমিতো সংবাদ লেখার কিছুই বুঝি্না, তবুও সম্পাদকের কথাগুলি মনযোগ সহকারে শুনলাম। আমার  নাম, ঠিকানা বার্তা সম্পাদক শংকর দা লিখে রাখলেন। এদিকে অত্যন্ত রাসভারি গুরুগম্ভির  বুদ্ধিদিপ্ত কলামিষ্ট আব্দুল মতিন খালু (আশিষ উর রহমান শুভর বাবা এবং সম্পাদক মাহবুব ভাইয়ের খালু)   আমাকে সংবাদ এবং ফিচার লেখার কিছু ট্রপিকস দিলেন। চলনবিলের ইতিহাস,- ঐতিহ্য,সমস্যা- সম্ভাবনা, প্রয়োজনীয় সুপারিশ,সাক্ষাতকার চলনবিলের গুনীজনদের জীবন ইতিহাস ইত্যাদি বিষয়ে তথ্যসংগ্রহ করে লেখার গাইডলাইন দিলেন। আমরা  উত্তর বার্তা পত্রিকার কয়েক কপি নিয়ে দৈনিক উত্তরাঞ্চল পত্রিকা অফিসে গেলাম। উত্তরাঞ্চল প্ত্রিকার সম্পাদক প্রবিন সাংবাদিক দূর্গাদাস মুখার্জীর সাথে সাক্ষাত করলাম। আমাদের পরিচয় দিতেই  তিনি জানালেন, হামিদ সাহেব আমাদের কথা জানিয়েছেন। আমাদের সিংগারা –চা দিয়ে আপ্যায়ন করলেন। কিরন এই পত্রিকায় চলনবিলের সংবাদ দাতা হিসেবে লিখতে আগ্রহ জানালে সম্পাদক অ ত্যন্ত খুশি হলেন। চলনবিলের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি এবং অতীত-বর্তমান-ভবিষ্যত সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে লেখার জন্য পরামর্শ দেন। তিনি কিছু পত্রিকাও দিলেন। এর পর আমরা গেলাম করতোয়া পত্রিকা অফিসে গিয়ে সম্পাদকের সাথে দেখা করলাম। এখানেও  চলনবিল আর হামিদ স্যর পাঠিয়েছেন শুনে অত্যন্ত সম্মানের সাথে কথাবার্তা বললেন। তখন করতোয়া পত্রিকায় আতহার লিখতেন ( আতহার তখন  প্রেসক্লাব থেকে বহিস্কার ছিলেন)। সম্পাদক হেলালুজ্জামা তালুকদার আতহারের খোঁজ খবর নিলেন। কিরণ আর আবুল  আতহারের বহিস্কারের ঘটনা চেপে যায়। আমি আতহারের বিষয়ে কিছুই জানিনা। করতোয়া পত্রিকা থেকে বের হয়ে সোজা আজিজুল হক কলেজে চলে এলাম। বেলা তখন প্রায় ৩ টা। হামিদ স্যার আমাদের জন্য অপেক্ষা করছেন। আমাদের নিয়ে বসায় গেলেন। সেখানে দুপুরের খাবার খেয়ে অনেক কথা হলো হামিদ স্যারের সাথে। সাংবাদিকতা বিষয়ে আমাদেরকে অনেক তথ্য উপত্য সরবরাহ করেন। সেই থেকেই আমি সাংবাদিকতার পথে যাত্রা শুরু হলো। আজও চলছে  বিরতিহীন ……………
বাসা থেকে বের হলাম ৫ টার দিকে। বগুড়া থেকে বাসে মাঝিরা ক্যন্টনমেন্টে ফিরে আসি। খলিল আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে। রাত ৯ টার দিকে মক্কেল মিলিটারি এসেছেন  রাতের খাবারের জন্য  আমাদেরকে নিতে। সেখানে রাতের খাবার খেয়ে আবার ক্যান্টনমেন্টে এসে আড্ডা মেরে রাত ১২ টার সময় বিছানায় ঘুমিয়ে গেলাম। পরদিন ভোরে নাস্তা সেরে  সাইকেল নিয়ে  নন্দিগ্রাম – সিংড়া – কলম- নাজিরপুর হয়ে  আব্বার মারের ভয়ে দুরুদুরু বুকে রাত ১১ টায় বাড়ি ফির এসে দেখি সবাই ঘুমিয়ে গেছে। মা টের পেয়ে চুপি চুপি আমার জন্য খাবার নিয়ে আমার ঘরে নিয়ে আসেন। আমি অপরাধির মত  কেরসিনের বাতি জ্বালিয়ে খেয়ে বিছানা শুয়ে পড়ি।
চলনবিলের কৃতি সন্তান,চলনবিলের ইতিহাস,ঐতিহ্যের প্রাণপুরুষ,চলনবিলের পরিচয়,চলনবিলের ইতিহাস প্রনেতা,চলনবিল যাদুঘর,গুরুদাসপুর থানা শিক্ষাসংঘ,গুরুদাসপুর বিলচলন ড.শহীদ শামসুজ্জোহা সরকারি কলেজ এবং খুবজিপুর ডিগ্রী কলেজসহ বহু প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা এবং চলনবিল প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা পৃষ্ঠপোষক, চলনবিলের গর্ব, চলনবিলের উন্নয়নের চিন্তাবিদ, শিক্ষাবিদ  , ইতিহাসবিদ এবং সমাজসেবক অধ্যক্ষ প্রফেসর সরদার আব্দুল হামিদ টি কে এর ২০তম মৃত্যু দিবসে চলনবিল প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে জানাচ্ছি বিনম্র শ্রদ্ধা ও দোয়া। প্রফেসার আব্দুল হামিদ আমাকে সবসময় আমার লেখনির দক্ষতায় প্রসংসা করতেন। বগুড়া থেকে যকনই গুরুদাসপুরে আসতেন আমাকে ডেকে নিয়ে এলাকার বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে লেখার তথ্য দিয়ে উতসাহীত করতেন। তাঁর সাথে আমার বহু স্মৃতি  জড়িয়ে আছে। সময় পেলে পর্যায়ক্রমে লেখার ইচ্ছা আছে।
তিনি ২০০৬ সালে ২৪ আগষ্ট তার প্রানের চলনবিলবাসিকে  নি:স্বংগ করে আল্লাহর ডাকে সারা দিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেছেন।
আল্লাহ তাকে বেহেশতের সর্বোচ্চ মাকাম দান করুন।আমিন।
## আবুল কালাম আজাদ, প্রধান উপদেষ্টা ও সাবেক সভাপতি, চলনবিল প্রেসক্লাব, গুরুদাসপুর, নাটোর, ০১৭২৪০৮৪৯৭৩,তারিখ-২৪।৮।২০২৬
Please follow and like us:
Pin Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Website Design, Developed & Hosted by ALL IT BD