মেহেদী হাসান শামীম
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে ভ্যানচালক কছিম উদ্দিনকে হত্যার পর ঘটনাটি ভ্যান ছিনতাই হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। প্রায় দুই বছর পর চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করে নিহতের আপন ছোট ভাই ও মামলার প্রধান আসামি আব্দুল মালেক (৪৫) এবং কাকলী (৩৬) নামে এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
তদন্তসংশ্লিষ্ট পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী ভ্যান ছিনতাইয়ের ঘটনা সাজিয়ে কছিম উদ্দিনকে হত্যা করা হয়। ঘটনার রাতে আব্দুল মালেক ভাড়া করা দুই সহযোগীকে নিয়ে কছিম উদ্দিনকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করেন। পরে তাঁরা ভ্যান নিয়ে পালিয়ে যান। এ ঘটনায় কাকলী নামে এক নারী ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে কছিম উদ্দিনকে ঘটনাস্থলে নিয়ে আসতে সহযোগিতা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।দীর্ঘদিন ধরে অমীমাংসিত থাকা মামলাটির তদন্তে নতুন করে গতি আসে পুলিশ সুপারের নির্দেশনায়। তাঁর দিকনির্দেশনায় রায়গঞ্জ থানার একটি বিশেষ দল হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনে কাজ শুরু করে।পুলিশ জানায়, গত তিন মাসে ঘটনাসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্থানে গোয়েন্দা তৎপরতা চালানো হয়। সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করার পাশাপাশি ঘটনাস্থলের সূত্র ও আলামত বিশ্লেষণ করে হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়।এরপর গত বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) রাতে নিমগাছি এলাকা থেকে আব্দুল মালেককে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরদিন শুক্রবার (২৪ অক্টোবর) কাকলীকে গ্রেপ্তার করা হয়।পুলিশের দাবি, আব্দুল মালেক হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন। পরে তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। এ ঘটনায় জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।রায়গঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানান, দীর্ঘ তদন্ত ও গোয়েন্দা তৎপরতার মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করা হয়েছে। মামলার বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে।

Weekly Chalonbeel Barta chalonbeelbarta.com