স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বলছেন চেতনা বাড়াতে হবে
আবুল কালাম আজাদ।।
যক্ষ্মা (!) একটি বহুল আলোচিত মরণঘাতি সংক্রমন রোগ।এক সময়ে যক্ষ্মা সম্পর্কে চরম ভীতি ছিল দেশে। যক্ষ্মা যার হয়েছে তার মৃত্যুতেই মুক্তি মনে করা হতো।প্রবাদ আছে “ যার হয়েছে যক্ষ্মা , তার নাই রক্ষা”। কিন্তু এখন আধুনিক চিকিতসায় যক্ষ্মা মরণঘাতি রোগ নয়। নিয়ম মেনে চিকিতসা নিলে যক্ষ্মা রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। সরকারি হাসপাতাল থেকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সহযোগিতায় বিনা খরচে পরিক্ষা-নিরিক্ষা করে ঔষধপত্র সহ সকল্প্রকার সেবা দেওয়া হচ্ছে। নিয়মিত ফলোয়াপ দিয়ে রুগির খোঁজ খবর নেওয়া হচ্ছে। এতে আক্রান্ত যক্ষ্মা রোগির মৃত্যু সংখ্য অনেক কমে এসেছে। এখন প্রবাদ বিপরীত ভাবে বলা হচ্ছে “ যক্ষ্মা হলে রক্ষা নাই, এ কথার ভিত্তি নাই”।চিকিতসকদের মতে চিকিৎসার দ্বারা টিবিকে প্রায় চিরতরে সারিয়ে তোলা সম্ভব। ৬ মাসের জন্য অ্যান্টিবায়োটিকের কোর্স অবশ্যই নিতে হবে। নানা ধরনের অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করা হয়। কারণ কয়েক ধরনের টিবিতে কয়েকটি অ্যান্টিবায়োটিক কাজে দেয় না।
তার পরও নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলায় যক্ষ্মায় আক্রান্ত রোগির মৃত্যুর সংখ্যা শুন্য /এক ডিজিটের ঘর আনা যাচ্ছেনা। উপজেলা হাসপাতালের তথ্যে জানা গেছে, গত দুই বছরে যক্ষ্মা রোগে আক্রান্ত চিকিতসাধীন রুগীর মধ্যে ৫১ জন মারা গেছেন। এর মধ্যে পুরুষ ৪১ এবং নারী ১১ জন। তথ্যে জানা যায় ২০২৪-২৫ সালে পুরুষ ২২ জন এবং নারী ৫ জন সহ মোট ২৭ জন মারা গেছেন। এ বছরে যক্ষ্মায় সনাক্ত রুগীর সংখ্যা ছিল পুরুষ ৫৪৩ এবং নারী ৩০০ জনসহ মোট ৮৪৩ জন। ২০২৫-২০২৬ সালে মারা গেছেন পুরুষ ১৮ এবং নারী ৬ জনসহ মোট ২৪ জন। টিবি সন্দেহে ল্যাবরেটরিতে পরিক্ষা করা হয়েছে পুরুষ ১হাজার ১২৫ এবং নারী ৭৬৭জন সহ মোট ১হাজার ৮৯২ জন।
উপজেলা হাসপাতালের case Finding of Tuberculosis – TB 10 গত ২০২৫-২০২৬ সালের বার্ষিক প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, ব্যাক্টেরিওলজিক্যালী কনফার্ম টিবি কেস- নতুন পুরুষ ১৫২ ,নারী ৬৩ জন সহ ২১৫ জন এবং প্রিভিয়াস রিপ্লেস পুরুষ ৭ নারী ৩ জন সহ মোট ১০ জন , সর্বমোট ২২৫ জন। ক্লিনিক্যালী ডায়াগনোসড- নতুন-পুঃ ৮৪, নাঃ ৩২ সহ মোট ১১৬জন এবং প্রিভিয়াস রিপ্লের পু” ৭, নারী ৪ জন সহ মোট ১১ জন সহ সর্বমোট ২১৭ জন। নতুন এবং প্রিভিয়াস ট্রিটমান্ট ১০ জন সহ সর্ব মোট ২৩৭ জনকে কনফার্ম টিবি অক্রান্ত ২৩৭ জন চিকিতসাধীন আছেন। এ ছাড়া no. of Tb patientnts screend for HIV before or during TB transment পুরুষ ১১১, নারী ৬১ জনসহ ১৭২ জন। এক্স-রে করা হয়েছে –পুরুষ ১হাজার ৩০৭ ও নারী ১ হাজার ৭৮৯ জন সহ মোট ৩ হাজার ৯৬ জন। এর মধ্যে টিবি সাজেষ্টেড পুরুষ ২৮০ এবং নারী ১৭৫ জন সহ মোট ৪৫৫ জন।
তথ্যসুত্রে জানা যাচ্ছে- রিপোর্টিং ২০২৫-২০২৬ বছরে যে সব সোর্স থেকে প্রাথমিক সন্দেহজনক রোগি রেফার করা হয়েছে তা হচ্ছে , গ্র্যাজুয়েট প্রাইভেট প্র্যাক্টিশনার থেকে ৯৯ জন, নন গ্র্যাজুয়েট প্রাইভেট প্র্যাক্টিশনার থেকে-১ জন, সরকারি মাঠ কর্মি-৯ জন, স্বাস্থ্য সেবিকা/এন জি এফ সি-১৮০ জন ,ভিলেজ ডাক্তার-১২ জন , কমিউনিটি ভলান্টিয়ার-৪২ জন , প্রাইভেট হাসপাতাল থেকে-১জন এবং সরকারি হাসপাতাল ৯৯ জনসহ মোট ৪৪৩ জন রেফার করেছে ।
গুরুদাসপুর হাসপাতালের যক্ষ্মা বিষয়ক দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মঃ আরিফুল ইসলাম জানান ল্যাবরেটরিতে পরিক্ষার পর দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিতসকের ব্যস্থাপত্র মোতাবেক সম্পুর্ন বিনামূল্যে বয়স ভেদে ঔষধ বিতরণ ও পরামর্শ দেওয়া দচ্ছে। চিকিতসাধীন রোগিদেরকে স্বাস্থ্য সেবিকা/ এনজিওএফএস দিয়ে ফলোয়াপ দিয়ে তারা নিয়ম মেনে ঔষধ খাচ্ছে কিনা , নিয়ম মানছে কিনা, পুষ্টিকর কাবার খাচ্ছেকিনা, রোগির অগ্রগতি যাচাই করে ব্যবস্থাপত্র দেয়া হচ্ছে এবং চেতনা বৃদ্ধিতে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। চিকিতসাধীন রোগিদের অনেকে অধৈর্য্য হয়ে ঔষধ খাওয়া বন্ধ করেন , ব্যবস্থাপত্র মোতাবেক পথ্য না খাওয়ায়এবং নিয়ম না মেনে চলায় মৃত্যুবরন করছেন। যার করণে মৃত্যুর সংখ্যা কমানো যাচ্ছেনা।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও প প কর্মকর্তা ডাঃ এ এস এম আলমাস মুঠো ফোনে বলেন , হাসপাতাল থেকে বিনামুল্যে ল্যাবরেটরি এবং এক্স-রে টেষ্ট করে যক্ষ্মা সনাক্ত হলে ঔষধ ও সেবা দেওয়া হচ্ছে। তার পরও চেতনার অভাবে ও নিয়ম না মানায় অনেকে মারা যাচ্ছেন। সংক্রমন এড়াতে সবাইকে মাস্ক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। মিল-কারখানা, হাট-বাজারের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পরিবেস সম্মত হকরতে হবে। চাউল কল, বয়লার, ইট ভাটার কালো ধোঁইয়া নির্গতের মানসম্পন্ন চিমনী ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। এ জন্য ব্যাক্তি , পারিবারিক এবং সামাজিক চেতনা বাড়াত হবে।
যক্ষ্মা (টিবি) রোগের কারণ, লক্ষণ ও চিকিৎসা বিষয়ে Pulmonology | by Dr. Raja Dhar লিখেছেন, একজন ব্যক্তির নানা ধরনের টিবি হতে পারে। যেমন –সুপ্ত বা প্রচ্ছন্ন টিবি:এই ধরনের টিবিতে শরীরে ব্যাকটেরিয়া নিষ্ক্রিয় আকারে থাকে। তখন প্রতিরোধ ক্ষমতার কারণে আমাদের শরীর এই ব্যাকটেরিয়াকে সক্রিয় হতে দেয় না। এই পরিস্থিতিতে টিবির কোনও লক্ষণও দেখা যায় না। তবে ভবিষ্যতে এই ব্যাকটেরিয়া সক্রিয় হতে পারে। # সক্রিয় টিবি: এই ধরনের টিবিতে শরীরের মধ্যেই ব্যাকটেরিয়া তৈরি হয় এবং এই রোগের সব লক্ষণ শরীরে ফুটে ওঠে। এটা সংক্রামক ধরনের রোগ। #পালমোনারি টিবি: এই ধরনের টিবিকে রোগের প্রাথমিক ধাপ বলে ধরে নেওয়া যায়। এই ধরনের রোগ সরাসরি ফুসফুসে আক্রমণ করে এবং তার ফলে দীর্ঘ দিনের কাশির সমস্যা দেখা দেয়। # এক্সট্রা পালমোনারি টিবি:এই ধরনের টিবিতে রোগ ফুসফুস থেকে শরীরের অন্য অংশে ছড়িয়ে পড়ে। ফুসফুস থেকে সমস্যা হাড়ে, কিডনিতে কিংবা লিম্ফ নোডে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
টিবির লক্ষণ কি কি –
টিবির ব্যাকটেরিয়া শরীরের কোন অংশে বাড়ছে তার ওপর টিবি রোগের লক্ষণগুলি নির্ভর করে। সাধারণভাবে এই রোগের লক্ষণগুলি আলাদা। তবে হাড়ের টিবির কিছু লক্ষণ গলার টিবির লক্ষণের চেয়ে আলাদা। টিবির ব্যাকটেরিয়া সাধারণত বেড়ে ওঠে ফুসফুসে (পালমোনারি টিবি)। টিবি হলে নীচের লক্ষণগুলি দেখা দিতে পারে: -কাশি হতে পারে এবং এই সমস্যা থাকতে পারে তিন সপ্তাহ বা তার বেশি # বুকে ব্যথা #শ্লেষ্মা # দুর্বলতা কিংবা ক্লান্তি #ওজন কমতে পারে #খিদে কমে যেতে পারে # ঠান্ডা লাগা ভাব থাকতে পারে # জ্বর এবং # রাতে ঘাম হতে পারে।
অনেকে ভুল বোঝেন যে নারী ও পুরুষের মধ্যে যক্ষ্মার লক্ষণ আলাদা। না, মোটেও সেরকম নয়। যদি আপনার উপরে উল্লিখিত উপসর্গগুলির কোনটি থাকে, তাহলে আমরা আপনাকে অবিলম্বে একজন পালমোনোলজি ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করার পরামর্শ দিই।।
## আবুল কালাম আজাদ, সাংবাদিক ও কলামিষ্ট, প্রধান উপদেষ্টা ও সাবেক সভাপতি, চলনবিল অরেসক্লাব, গুরুদাসপুর, নাটোর, ০১৭২৪ ০৮৪৯৭৩, তারিখ- ২০/১০/ ২০২৬ ##
Weekly Chalonbeel Barta chalonbeelbarta.com