মোঃ মুন্না হুসাইন তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ
তাড়াশে তালের শাঁসে ভরে উঠেছে প্রত্যেকটা বাজার।
মধুমাসে আম, জাম, কাঁঠাল ও লিচু ছাড়াও আরেকটি ভিন্নধর্মী ফল তালের শাঁসের চাহিদা তাড়াশে সর্বত্র। স্থানীয় ভাষায় ‘তালকুর’ নামে পরিচিত এই সুস্বাদু ফল। বর্তমানে তাড়াশে হাট-বাজার থেকে শুরু করে পাড়া-মহল্লার বিভিন্ন অলিগলিতে এই মৌসুমি ফল বিক্রির হিড়িক পড়েছে।
মৌসুমি ব্যবসায়ীরা তাল গাছ থেকে অপরিপক্ক তাল পাইকারি কিনে খুচরা বিক্রয় করেন। তবে নরম অবস্থায় তাল শাঁসের দাম অনেক বেশি। কিন্তু দিন যতই যেতে থাকে, এই তাল শাঁস ততই শক্ত হতে থাকে। তখন শাঁসের দাম কমতে থাকে এবং এক সময় তাল পরিপক্ক হয়ে গেলে আর এই শাঁস খাওয়া সম্ভব হয় না।
বজ্রপাত ঠেকাতে ব্যাপকহারে তালগাছের চারা রোপণ করায় চলতি বছরে জেলায় তালের বাম্পার ফলন হয়েছে। জেলার চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে যাচ্ছে তাড়াশের তাল। নাটোরের বিভিন্ন এলাকার তালগাছগুলোতে এখন কচি তালে ভরে গেছে। মধুমাসের এই ফলকে কেউ বলে তালের শাঁস, কেউ বলে তালকুর, কেউ বলে তালের আঁটি।
তাল বিক্রেতা রাশিদুল ইসলাম জানান, তিনি প্রতি বছরই এ সময়ে তালের শাঁস বিক্রি করেন। বৈশাখ থেকে জৈষ্ঠ্যের অর্ধেক পর্যন্ত এ দেড় মাস চলবে তালের শাঁস বিক্রির কাজ। প্রতিদিন প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ কচি তাল বিক্রি করা যায়। একটি তাল আকার ভেদে ৭ থেকে ১০ টাকা দরে বিক্রি করছি। এতে তার প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা লাভ হয়।
সাবাজ নামে এক ক্রেতা জানান, তালের শাঁস একটি সুস্বাদু ফল। গরম থেকে এসে তালের শাঁস খেয়ে ভালই লাগে মনটা জুড়ে যায়। ফলে এর চাহিদা দিন দিন বেড়েই চলছে।
___________তালের শাঁস ও পুষ্টি গুন_____________
তালের শাঁসের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আলী আশরাফ বলেন, তালের শাঁস শরীরের জন্য খুবই উপকারী একটি ফল। গরমের দিনে তালের শাঁসে থাকা জলীয় অংশ পানি শূন্যতা দূর করে। এছাড়া ক্যালসিয়াম, ভিটামিন সি, এ, বিসহ নানা ধরনের ভিটামিন রয়েছে। তালে থাকা এন্টি-অক্সিডেন্ট শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়। কচি তালের শাঁস রক্ত শূন্যতা দূর করে। চোখের দৃষ্টি শক্তি ও মুখের রুচি বাড়ায়।
মোঃ মুন্না হুসাইন
তাড়াশ,সিরাজগঞ্জ
মোবাইল 01735936294
|
|
Weekly Chalonbeel Barta chalonbeelbarta.com