চাটমোহর (পাবনা) প্রতিনিধি
শুরু হয়েছে বিশ্বকাপ ফুটবল। বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও লেগেছে ফুটবল উন্মাদনার ছোঁয়া। ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনাকে ভালবেসে বিভিন্ন আয়োজনে নিজেদের নিজেদের সমর্থন জানান দিচ্ছেন ভক্ত সমর্থকরা। বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা নিয়ে বাংলাদেশের দর্শকদের মধ্যে তৈরি হয় আলাদা আমেজ আর উন্মাদনা। বিশেষ করে আর্জেন্টিনা ব্রাজিল সময়র্থকদের মধ্যে দেখা দেয় উৎসবের আমেজ। পছন্দের দলেন পতাকা উড়ানোর হিড়িক পড়ে। তেমনি প্রতিযোগিতা চলে কে কার চেয়ে কত বড় পতাকা তৈরি করবে।
এবার সেই উন্মাদনায় ২০২২ ফুট দৈর্ঘ্যের পতাকা তৈরি করে তাক লাগিয়েছে পাবনার চাটমোহর উপজেলার বালুদিয়ার গ্রামের আর্জেন্টিনার সমর্থকরা। শুক্রবার বিকেলে সেই পতাকা নিয়ে মিছিল করে গ্রামের রাস্তায় টাঙিয়ে দেয় তারা। তাদের দাবি, ২০২২ ফুট দৈর্ঘ্যের এই আর্জেন্টাইন পতাকা এখন পর্যন্ত শুধু পাবনা জেলার মধ্যে নয়, পুরো বাংলাদেশের মধ্যে সবচেয়ে বড় পতাকা। বিশালাকৃতির এই পতাকা দেখতে প্রতিদিন বালুদিয়ার গ্রামে শত শত আর্জেন্টাইন ভক্ত ভিড় জমাচ্ছেন। ফুটবল উন্মদনায় এবং পতাকা তৈরিতে যোগ দিয়েছেন কলেজের শিক্ষক, শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে নানা শ্রেণিপেশার আর্জেন্টাইন ভক্ত।
সরেজমিন গিয়ে জানা গেছে, বালুদিয়ার গ্রামের রাসেল মাহমুদ, সেলিম হোসেন ও আলামিন হোসেন নামের তিন যুবক ২০২৬ বিশ্বকাপ শুরুর প্রাক্কালে পরিকল্পনা করেন বিশ্বেন আর্জেন্টাইন ভক্ত ও বিশ্বকে চমকে দেওয়ার মতো কিছু একটা করবেন। স্মরণীয় ও উৎসাহ জোগাতে ২০২২ ফুট দৈর্ঘ্যের পতাকা তৈরি। গ্রামের সন্তানদের এমন পরিকল্পনার ভিত গড়তে বালুদিয়ার গ্রামের আর্জেন্টাইন ভক্ত শিক্ষক-শিক্ষার্থী, প্রবাসী, কৃষক থেকে শুরু করে নানা শ্রেণিপেশার মানুষের আর্থিক সহযোগিতা দেওয়া শুরু করেন। চলতে থাকে আর্জেন্টিনা দলের পতাকা তৈরির কাজ। প্রায় দশদিনব্যাপি চলে এই পতাকা তৈরি। এরপর পাতাকার ওপর চলে আর্জেন্টিনা দলের লোগো বসানোর কাজ। বিশালাকৃতির এই পতাকা তৈরিতে ব্যয় হয় প্রায় ৫০ হাজার টাকা। শুক্রবার বিকেলে আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে দিয়ে বালুদিয়ার গ্রাম জুড়ে ২০২২ ফুট দৈর্ঘ্যরে পতাকাটি টাঙানো হয়।
রাসেল মাহমুদ, ফরিদ হোসেন, সেলিম হোসেন এবং আলামিন হোসেন বলেন, আসলে ছোটবেলা থেকেই আমরা মেসির খেলা দেখে আসছি। সেই থেকেই আমরা আর্জেন্টিনা দলের ভক্ত। ২০২২ সালে ফ্রান্সের সাথে শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে মেসির নের্তৃত্বে বিশ্বকাপ জিতেছিল আর্জেন্টিনা দল। আর্জেন্টিনা দলকে সুদূর বাংলাদেশ থেকে উৎসাহ জোগাতে এতো বড় পতাকা বানানোর পরিকল্পনা নেওয় হয়। আমরা চাই, মেসির শেষ বিশ্বকাপে আবরো সেই সোনালী ট্রফিটা হাতেই উঠুক।পার্শ্বডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান রবিউল করিম তারেক বলেন, আর্জেন্টিনার ভক্তদের এমন উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই। আমি নিজেও আর্জেন্টিনার সমর্থক। তাই আজকের আয়োজনে উৎসাহ দিতে আমি নিজেও এসেছি। আশা করি সমর্থকদের এমন উন্মাদনা যেন কোন বিশৃঙ্খলা তৈরি না হয়।
Weekly Chalonbeel Barta chalonbeelbarta.com