মো. মিজানুর রহমান
‘বড়াল’ পদ্মার প্রধান শাখা নদী, যা রাজশাহীর চারঘাট থেকে উৎপন্ন হয়ে পাবনা, নাটোর এবং সিরাজগঞ্জ মোট চারটি জেলার দশটি উপজেলার মধ্য দিয়ে এবং চলনবিলের মাঝ দিয়ে প্রবাহিত হয়ে মুশাখা, নারদ, নন্দকুজা, চিকনাই সহ বেশ কয়েকটি নদীর জন্ম দান করে শেষ পর্যন্ত সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়ী হয়ে হুড়াসাগর নদীর সাথে যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে যমুনায় মিলিত হয়েছে। নদীটি চলনবিলের পানির অন্যতম প্রধান আধার। এর পাড়ের দৈর্ঘ্য প্রায় ২২০ কি.মি.। বড়াল নদী চার জেলার দশটি উপজেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হলেও পুরো চলনবিল অঞ্চল অর্থাৎ প্রায় বিশ উপজেলায় এই নদীর প্রভাব আছে। বড়াল নদীর সাথে যুক্ত আছে প্রায় ১০০টি ক্যানেল। এক একটি ক্যানেলের সাথে আবার যুক্ত আছে ৪/৫টি করে বিল। এ সকল ক্যানেল এখন প্রায় সবই মৃত। বড়াল নদীর সাথে প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত রয়েছেন কমপক্ষে পঞ্চাশ লক্ষ মানুষ। এই নদী ৪টি জেলা এবং ১০টি উপজেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। দেশের বৃহত্তম দুটি নদী পদ্মা-যমুনা এবং বৃহত্তর জলাভূমি চলনবিলের মধ্যে প্রধান সংযোগ রক্ষাকারী নদী হচ্ছে বড়াল।
১৯৮১ সালে রাজশাহীর চারঘাটে বড়ালের উৎস মুখে একটি ৩০ ফিট চওড়া এবং ৮ ফিট উচ্চতার স্লুইসগেট, ৪৬ কি.মি. ভাটিতে আটঘড়ি নামক স্থানে ১৯৮৫ সালে আবারও একটি স্লুইসগেট, এরই ধারাবাহিকতায় বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়ায় ব্যাপক দখল, ১২৫ কি.মি. ভাটিতে পাবনা জেলার চাটমোহর উপজেলায় ১৯৮৯ সালে বড়ালের বুকের উপর আবারো তিনটি ক্রস বাঁধ যা পরবর্তিতে নদীর বুকে পাকা রাস্তা হিসেবে ব্যবহৃত হয় এবং দহপাড়া নামক স্থানে আরো এক দরজার একটি স্লুইসগেট প্রমত্তা বড়াল নদীকে কয়েকটি বৃহৎ পুকুরে পরিণত করে। ১৯৮১ সালে চারঘাটে যখন এই স্লুইচগেট তৈরী হয় তখন পদ্মা থেকে বড়াল নদীতে ২১ হাজার কিউসেক পানি প্রবাহিত হতো। স্লুইচগেট দেবার সময় পরিকল্পনাই করা হয় ৫ হাজার কিউসেক পানি প্রবাহিত হবে। এ সকল ঘটনার পরিপ্রক্ষিতে ক্রমান্ময়ে ২২০ কি.মি ব্যাপি বড়ালে ভরাট, দখল, দুষণ ব্যাপকভাবে শুরু হয় এবং আরো ছোট ছোট স্থাপনা গড়ে উঠে। শুধু পানি উন্নয়ন বোর্ডই নয়, এলজিইডি, রোড্স এন্ড হাইওয়ে তারাও ছোট ছোট কালভার্ট অথবা ছোট ছোট ব্রীজ করে নদীর ব্যাপক ক্ষতি সাধন করেছে।
২রা আগষ্ট ২০০৮ সালে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) এবং চলনবিল উদ্যোগ সোসাইটির যৌথ উদ্যোগে পাবনা জেলার চাটমোহর টেকনিক্যাল এন্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজএ বড়াল পাড়ের এবং চলনবিলের ২০টি উপজেলার রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সিভিল সোসাইটি, বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা, সংবাদকর্মী,বিভিন্ন পেশাজিবীদের প্রতিনিধি সহ এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বড়াল রক্ষা আন্দোলন নামে এবং চলনবিল রক্ষা আন্দোলন নামে ২টি কমিটি হয়।
২০০৮ সাল থেকে যে বড়াল রক্ষা আন্দোলন কমিটি যাত্রা শুরু করে সেই আন্দোলনের ধারাবাহিকতা এখনো চলমান। বড়াল রক্ষা আন্দোলনের সাথে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) সকল সময় যুক্ত আছে। বিভিন্ন সময় বাংলদেশ পরিবেশ নেটওয়ার্ক (বেন), বিপিআই, এএলআরডি ও রিভারাইন পিপল, বাংলাদেশ পরিবেশ আইনজীবি সমিতি (বেলা) যুক্ত হয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। এছাড়া বড়াল পাড়ের বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা, বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ, সিভিল সোসাইটি , অসংখ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন সামাজিক এবং সেবামূলক প্রতিষ্ঠানসহ ব্যক্তিগত পর্যায়েও শত শত মানুষ গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। বড়াল পাড় সহ বাংলাদেশের স্থানীয় এবং জাতীয় পর্যায়ের প্রিন্ট মিডিয়া, ইলেকট্রনিক মিডিয়া, অনলাইন মিডিয়া এবং শত শত মিডিয়া কর্মী বড়াল আন্দোলনে অতীব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে বলেই বড়াল আন্দোলন আজকে একটা যৌক্তিক পর্যায়ে পৌছেছে।
বড়াল নদী আন্দোলনে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের অসংখ্য কর্মকর্তা বিভিন্ন প্রয়োাজনীয় তথ্য দিয়ে এবং তাদের দায়িত্ব পালনের মাধ্যমেও যথেষ্ট অবদান রেখেছেন। বিশেষ করে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন গঠনের শুরু থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত খুবই ইতিবাচক অবদান রেখে যাচ্ছেন। বিভাগীয় পর্যায়ে, জেলা পর্যায়ে, উপজেলা পর্যায়ে নদী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণও সহায়ক ভাল ভূমিকা পালন করছেন।
২০০৮ সাল থেকে আন্দোলন শুরু হওয়ার প্রথমেই বড়াল পাড়ের প্রতিটি উপজেলা পর্য়ায়ে এবং পরবর্তিতে বেশিরভাগ ইউনিয়ন পর্যায়ে স্থানীয় জনগণের সাথে মতবিনিময় সভা, সমাবেশ, মিছিল, মানববন্ধন,সংবাদ সম্মেলন সহ বড় বড় সমাবেশও করা হয়। এরপর স্থানীয় রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দের সাথে, ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদের মাননীয় জনপ্রতিনিধিবৃন্দ সহ বড়াল পাড়ের সকল মাননীয় সংসদ সদস্যদের সাথে প্রয়োজনে বারে বারে মতবিনিময় সভা করা হয়েছে। এ সকল মতবিনিময় সভা শেষে বড়াল পাড়ের বিভিন্ন পর্যায়ে প্রায় ৪০০ প্রতিনিধি, ঢাকার বিশেষজ্ঞ দল এবং সরকারের নীতিনির্ধারকদের নিয়ে ঢাকায় একটি কনভেনশন করা হয়। সেই কনভেনশনে চলনবিল এবং বড়াল নিয়ে ১১০ দফার একটি সুপারিশমালা তৈরী করা হয়। যেটাকে সংক্ষেপে ২৫ দফা দাবিনামা হিসেবে সরকারের সংশ্লিষ্ট দফতরে জমা দেওয়া হয়। সারা বছর ধারাবাহিকভাবে থানা পর্যায়ে, ইউনিয়ন পর্যায়ে এসব দাবিনামাকে সামনে রেখে আন্দোলন পরিচালনা করা হয়। একই সাথে চিঠি, স্মারকলিপি, সমাবেশ, মানববন্ধন ইত্যাদির মাধ্যমে সরকারি সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে দাবিসমূহ পৌছে দেওয়া হয়। এছাড়া আন্দোলনের শুরু থেকেই প্রতি বছর ১৪ই মার্চ একটি করে বড় জনসভা, জনসমাবেশ , মানববন্ধন, গণস্বাক্ষর ইত্যাদির মাধ্যমে সরকারকে দাবিনামা জানিয়ে দেওয়া হয়। এ কয়েক বছরে ছোট বড় ১০০০ (এক হাজার) টির বেশি কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। এই আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে পাবনা-৩ এর মাননীয় সাংসদ আলহাজ¦ মোঃ মকবুল হোসেন ডিও লেটার প্রদান করেছেন। নাটোর-৪ এর মাননীয় সংসদ সদস্য অধ্যাপক মোঃ আব্দুল কুদ্দুস, রাজশাহী- ৬ এর মাননীয় সংসদ সদস্য এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মোঃ শাহারিয়ার আলম বড়াল নদী চলমান করার দাবি মহান সংসদে উত্থাপন করেন। বাপার পক্ষ থেকে নদী বিষয়ক টাস্কফোর্সএ বড়াল নদীর বিষয়টি বার বার উত্থাপন করার ফলে নদী বিষয়ক টাস্কফোর্স এর পক্ষ থেকে তৎকালীন ভূমি মন্ত্রনালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির মাননীয় চেয়ারম্যান বর্তমানে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ.ক.ম মোজাম্মেল হক মহোদয়কে চেয়ারম্যান করে বড়াল নদী বিষয়ক টাস্কফোর্স গঠন করে দেন। তিনি বড়াল নদী সরজমিনে পরিদর্শন করে বড়াল নদীর জন্য ৬ দফা সুপারিশ করেন। আমরাও সেই ৬ দফা সুপারিশ সমর্থন করি। বড়াল নদী চলমান করার দাবির পরিপ্রেক্ষিতে তৎকালীন মাননীয় পরিকল্পনা মন্ত্রী মহোদয়, নৌ-পরিবহন মন্ত্রী মহোদয়, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী মহোদয়, পানি উন্নয়ন বোর্ডের ডিজি মহোদয় সহ উর্দ্ধতন কর্মকর্তাগণ এক বা একাধিকবার বড়াল নদী সরজমিনে পরিদর্শন করেন, মতবিনিময় করেন এবং সকলেই আশস্থ করেন ৬ দফা সুপারিশ বাস্তবায়ন হবে। এমনকি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকেও বাস্তবায়নের নির্দেশনা দেওয়া হয়। কিন্তু ৬ দফা সুপারিশ বাস্তবায়নে কোন অগ্রগতি পরিলক্ষিত হয় না। বরং ২০১১ সালে বড়াল নদীর চাটমোহর অংশে বড়াল নদীকে অবক্ষয় জলাশয় দেখিয়ে ৬৮ লক্ষ টাকার প্রকল্প মৎস্য অধিদপ্তর থেকে পাশ করিয়ে আনা হয়। এখানেও ব্যাপক গণআন্দোলন গড়ে তোলা হয় এবং গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এপর্যায়ে বড়াল রক্ষা আন্দোলনের পক্ষে জেলা মৎস্য কর্মকর্তাকে বিবাদী করে পাবনা জজকোর্টে মামলা করা হয়। শেষ পর্যন্ত জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মাননীয় আদালতে এটি অবক্ষয়িত জলাশয় নয় এই মর্মে আদালতে হলফনামা দিয়ে এটার ফয়সালা হয়। আ.ক.ম মোজাম্মেল হক এর দেয়া ৬ দফা বাস্তবায়নে ধীরগতির পরিপ্রেক্ষিতে বাপা এবং বড়াল রক্ষা আন্দোলনের পক্ষ থেকে যৌথভাবে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা)কে হাইকোর্টে মামলা করতে অনুরোধ করা হয়। বেলা মাননীয় হাইকোর্টে রিট করার ফলে মাননীয় হাইকোর্ট ১৯শে ফেব্রুয়ারী ২০১৪ সালে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে ৬ দফা বাস্তবায়নের পক্ষে আদেশ দেয়।
সমীক্ষার চুড়ান্ত রিপোর্ট ইতোমধ্যেই প্রকাশিত হয়েছে। মহামান্য হাইকোর্টও নদী পূনরুদ্ধারে ইতোপূর্বে আদেশ দিয়েছেন। বড়াল রক্ষায় জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনও নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছে।
ধারাবাহিক আন্দোলনের ফলে ও বিষয়টি জাতীয় নদী রক্ষা টাস্কফোর্সে উত্থাপিত হওয়ার মাধ্যমে, আবদ্ধ বড়াল নদীকে চলমান করার জন্য গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার সরকার ইতিমধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছেন। বড়াল নদী মাছ চাষের জন্য লীজ ব্যবস্থা স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়েছে। এছাড়া পাবনার চাটমোহর উপজেলার দহপাড়া মাটির বাঁধ, নতুন বাজার মাটির বাঁধ, বোথর ঘাটের মাটির বাঁধ, রামনগর ঘাটের মাটির বাঁধ ও একটি স্লুইসগেট অপসারিত হয়েছে। বোথর এবং রামনগর ঘাটের ব্রীজ নির্মানের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। দীর্ঘ ৩০-৩৫ বছর রাজশাহীর চারঘাট স্লুইসগেট অচল ছিল, যা গত দুই বছর হলো মেরামত হয়েছে। চারঘাটে পদ্মার সাথে বড়াল সংযোগ চর পরে বিচ্ছিন্ন হয়েছিল। এখানে ১৮০০ মিটার খনন করে বড়াল-পদ্মার সংযোগ স্থল চালু করা হয়েছে। সিরাজগঞ্জ জেলার বাঘাবাড়ী অংশে দেশবন্ধু সিমেন্ট কারখানার দখলের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা শুরু হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক ইনষ্টিটিউট অফ ওয়াটার মডেলিং (আইডব্লুএম) কে সমীক্ষা করার দায়িত্ব দিয়েছিল। সমীক্ষার চুড়ান্ত রিপোর্ট ইতোমধ্যেই প্রকাশিত হয়েছে। মহামান্য হাইকোর্টও নদী পূনরুদ্ধারে ইতোপূর্বে আদেশ দিয়েছেন। বড়াল রক্ষায় জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনও নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছে।
বর্তমানে রাজশাহীর চারঘাট থেকে নাটোরের আটঘড়ি পর্যন্ত ৪৬ কি.মি নদী অনেকটাই চালু হয়েছে, তবে স্লুইসগেটগুলোকে খুলে দিলে পানি প্রবাহ সন্তোষজনক হবে ও নদী-বিপর্যয় বন্ধ হবে। আটঘড়ি থেকে বনপাড়া পর্যন্ত ১৮ কি.মি নদী একেবারে বেদখল হয়ে আছে, বেদখল অংশটুকুর পর থেকে অর্থাৎ নাটোরের বনপাড়া থেকে সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়ি হয়ে যমুনা নদী পর্যন্ত প্রায় ১৪০ কি.মি এর ভেতরেও তেমন বড় কোন বাধা নেই। এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ হচ্ছে, আটঘড়ি থেকে বনপাড়া পর্যন্ত ভূমিদস্যুদের উচ্ছেদ করে প্রায় ১৮ কি.মি নদী খনন করা এবং চারঘাট স্লুইসগেট ও আটঘড়ি স্লুইসগেট উচ্ছেদ করা। তবে আপাতত অত জটিলতায় না গিয়ে নন্দকুজা এবং বড়াল নদীর সাথে যুক্ত কামারদহ থেকে কাচুয়াটি পর্যন্ত মির্জা মহাম্মদ খাল সংস্কার করে দিলে আগামী বণ্যার পানি পদ্মা থেকে বড়াল নদী হয়ে যমুনায় প্রবাহিত হতে পারে । তখন অনেক সমস্যা এমনিতেই ফয়সালা হয়ে যাবে।
এছাড়া কয়েকটি বৃহৎ শিল্প কারখানার বর্জ্য, বড়াল পাড়ের ৮ টি পৌরসভার বর্জ্য, ৮টি সরকারি হাসপাতাল এবং শত শত বেসরকারি ক্লিনিকের বর্জ্য, শত শত পোল্ট্রি খামারের বর্জ্য, শত শত হোটেল/রেস্টুরেন্টের বর্জ্য, হাজার হাজার গৃহস্থালী পরিবারের বর্জ্য এবং পয়: নিস্কাশন লাইন সরাসরি নদীর সাথে যুক্ত আছে। অতি সম্প্রতি চাটমোহরের গুনাইগাছায় প্রাণ কোম্পানী একটি কারখানার বর্জ্য নিষ্কাশনের পাইপ লাইন সরাসরি বড়াল নদীতে যুক্ত করেছে। এসব কারণে পানি দূষণ অব্যাহত রয়েছে। এদিকে ভূমিদস্যুদের দখল প্রক্রিয়াও অব্যাহত আছে। এলাকার জনগণ আজ তাদের সচল প্রবাহমান বড়াল ফেরত চায়। আমরা বিশ^াস করি, এলাকার জনগনের প্রাণের নদী বড়ালকে দখলমুক্ত ও দূষণমুক্ত করে দিলে সর্বসাধারণ নদীতে নামতে পারবে, মানুষের নদী মানুষই রক্ষা করবে।
তাই আজ ৪ মে ২০১৯ শনিবার চাটমোহর উপজেলা মিলয়াতনের কনভেনশন থেকে নি¤েœাক্ত দাবি সমূহ তুলে ধরা হলো ঃ-
১. বড়াল নদীর উপর নির্মিত চারঘাট, আটঘরি স্লুইচগেট অপসারণ করতে হবে এবং মির্জা মহাম্মদ খাল চালু করতে হবে।
২. সি.এস রেকর্ড অনুযায়ী বড়াল নদীর সীমানা চিহ্নিত করতে হবে, দখলদার উচ্ছেদ করে নদী উদ্ধার করতে হবে এবং শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে, দূষণ বন্ধ করতে হবে।
৩. পদ্মা-যমুনার সাথেই বড়াল নদীকে ক্যাপিটাল ড্রেজিংয়ের অন্তর্ভূক্ত করতে হবে, অচল নদী সচল করতে হবে।
লেখক: প্রধান উদ্যোক্তা ও সদস্য সচিব, বড়াল রক্ষা আন্দোলন ও চলনবিল রক্ষা আন্দোলন।
চলনবিল বার্তা chalonbeelbarta.com