৩ বছরের বেতন বাঁকি,৬ টির মধ্যে ২ পাম্পই অচল ;জনবল সঙ্কটে ধুঁকছে
আবুল কালাম আজাদ।।
নাটোরের গুরুদাসপুর ক’ শ্রেনির পৌরসভা। ১৯৯১ সালে স্থাপিত ১৩.৬০ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের পৌরসভা সর্বশেষ এসেসমেন্টে ৯ টি ওয়ার্ডে মোট হোল্ডিং সংখ্যা ৩ হাজার ৯৯৯ টি। পৌরসভার নারিবাড়ি, গুরুদাসপুর, চাঁচকৈড় রসুন হাটা, গাড়িষা পাড়া, আনন্দনগর,এবং পার গুরুদাসপুরসহ মোট ৬টি পয়েন্টে সুপেয় পানিয় সরবরাহের জন্য ৬ টি ডিপ পাম্প স্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে পার গুরুদাসপুরের পাম্প অচল এবং আনন্দনগরের পাম্প পরিত্যক্ত অবস্থায় আছে। এছাড়া পানি বিভাগের কর্মকর্তা কর্মচারিদের প্রায় তিন বছরের বেতন বাঁকি এবং কারিগড়ি জনবল সঙ্কটে খুঁড়িয়ে চলছে পানি বিভাগ।
পৌরসভার পানি বিভাগের তথ্যে জানা যায়, ৯ টি ওয়ার্ডে ৩,৯৯৯টি হোল্ডিং এর মধ্যে পানির সংযোগ দেয়া আছে ১ হাজার ৫৩২ টি (৩৮%)। প্রায় আড়াই হাজার হোল্ডিং পানির সংযোগ এর বাইরে আছে। ২ টি পাম্প অচল থাকায় নতুন করে সংযোগ এবং পানি সরবরাহ বন্ধ আছে এমনটাই জানাচ্ছে পানি বিভাগ। তথ্যে জানা যায়, ১ নং ওয়ার্ডে মোট ১১০২ টি হোল্ডিং এর মধ্যে পানির সংযোগ আছে ২০৭ টি, ২নং ওয়ার্ডে ৭৫২ টি হোল্ডিং এর মধ্যে ১৮০ টি, ৩ নং ওয়ার্ডে ১১০২ হোল্ডিং এর মধ্যে ২৮৫ টি,৪ নং ওয়ার্ডে ১০৮৮ টি হোল্ডিং এর মধ্যে ১২৮ টি, ৫ নং ওয়ার্ডে ১৩১৪ টি হোল্ডিং এর মধ্যে ৩৬৮ টি, ৬ নং ওয়ার্ডে ৯৭৮ হোল্ডিং এর মধ্যে ২০৭ টি, ৭ নং ওয়ার্ডে ৮২৮ টি হোল্ডিং এর মধ্যে ৭৯ টি, ৮ নং ওয়ার্ডে ১০২২ টি হোল্ডিং এর মধ্যে ৭৬ টি সংযোগ আছে এবং ৯ নং ওয়ার্ডে ৮০৫ টি হোল্ডিং এর মধ্যে একটিও সংযোগ নাই। মোট ৩,৯৯৯ টি হোল্ডিং এর মধ্যে সরকারি প্রতিষ্ঠান ৪৪ টি , বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ৪২ টি , বানিজ্যিক ৮৪০ এবং আবাসিক ৮১৫৯ টি।
পানি শাখার বিল ক্লার্ক ফারুক আহমেদ মিলন জানান, আগে দিনে সকালে এবং দুপুরে ২ বার পানি সরবরাহ করা হতো। তাতে নাগরিকদের পানির চাহিদা পুরণ হতোনা। নাগরকদের সুবিধা বিবেচনা করে পৌর কর্তৃপক্ষ বর্তমানে সকাল-দুপুর- সন্ধ্যায় তিনবার নিয়মিত পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে নাগরিক সুবিধা বেড়েছে। কিন্তু মাঝে মাঝে বিদ্যুত সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় পাম্প বন্ধ থাকার ফলে অনেক সময় সময়মত পানি সরবরাহ বন্ধ রাখতে হয় ।তবে বিদ্যুত পাওয়ার সাথে সাথে পাম্প চালু করে পানি সরবরাহ করা হয়।
পানি বিভাগ থেকে জানা যায়, অত্র দপ্তরে মোট ১১ জন জনবল কাঠামোর মধ্যে ৪ জন কারিগরির পদই শুন্য। এর মধ্যে- পাইপলাইন মেকার মোঃ আব্দুল মজিদ – বগুড়ায় ,পাম্প অপারেটর মোঃ শের এ আলম-কুষ্টিয়া, পাইপলাইন মেকার শহীদুল ইসলাম সিংড়া পৌরসভায় বদলিজনিত এবং পাম্প অপারেট রবিউল করিমের অকাল মৃত্যুজনিত কারণে ৪টী পদ শুন্য থাকায় পাম্প ব্যবস্থাপনা এবং নতুন সংযোগ দেওয়া সম্ভব হচ্ছেনা।ফলে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে পানিসরবরহ নাগরিক সেবা । তাছাড়া এই দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারিদের ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর থেক অদ্যাবধি প্রায় ৩ বছরের বেতন বাঁকি থাকায় দ্রব্য মূল্যের উর্ধগতির বাজা্রে অত্যন্ত মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
এ ব্যাপারে গত ২৯ জুন উন্মুক্ত বাজেট অধিবেশনে পৌর প্রশাসক ফাহমিদা আফরোজ ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপনকালে জানান, নাগরিকের পানির সুবিধার্থে গত অর্থবছরে ১৪ লাখ টাকা ব্যয়ে পানির পাম্প পূনঃস্থাপন করা হয়েছে। চলতি বছরেই অচল পাম্পগুলি পূনঃস্থাপন করে সচল করা হবে। এতে পৌরসভার পারগুরুদাসপুর এবং অনন্দনগর এলাকার নাগরিকদের সুপেয় পানি সরবরাহ সেবা বৃদ্ধি পাবে এবং পৌরসভার রজস্ব আয়ও বৃদ্ধি পাবে। তাছাড়া কর্মকর্তা-কর্মচারিদের শুন্য পদ পুরনসহ বকেয়া বেতনও পরিশোধের করার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।।
চলনবিল বার্তা chalonbeelbarta.com