উল্লাপাড়ায় পাথার প্রান্তরে দল বেধে মজুরেরা

Spread the love
ডাঃ আমজাদ হোসেন উল্লাপাড়া প্রতিনিধিঃ
সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় পাথার প্রান্তর যেমন গয়হাট্রা, আলীগ্রাম, প্রতাপ, মহেশপুর, সুজা এলাকায় উৎসব আমেজে বোরো ( ইরি ) ধান কাটা ও মাড়াই চলছে।গৃহস্থ পরিবারগুলোর উঠোন আঙ্গিনায় আর খোলা মাঠে বছরের প্রধান আবাদের বোরো ধানের খোন্দ ( ধান কাটা ,
মাড়াই , শুকানো , গোলা ঘরে রাখা ) নেওয়া হচ্ছে। গত কয়েকদিন ধরে এলাকায় বোরো ধান কাটা শুরু হয়েছে।
বিভিন্ন এলাকা থেকে দলে দলে ধান কাটতে মজুরেরা আসছেন। এখন দিন যেতেই মজুরদের চাহিদার পাশাপাশি মজুরীর
দাম বাড়ছে। এক জন মজুরের দিনের মজুরী এখন নয়শো টাকা। আর সাথে এক বেলা খাবার থাকছে। গতকাল রবিবার ২৫
মে বিকেলে উপজেলা সদর থেকে প্রায় ত্রিশ কিলোমিটার দূরের পাথার প্রান্তরের সুজা গ্রাম
এসব জানা গেছে।
উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের সুজা এলাকায় শত শত বিঘা আবাদী জমিতে বিগত বছরগুলোর মতো এবারেও বোরো
ধান ফসলের আবাদ হয়েছে। এলাকার বসতিদের কয়েকজন বলেন সুজা গ্রাম মৌজা এলাকায় আবাদী জমির পরিমাণ
প্রায় চার হাজার বিঘা হবে। কৃষকদের কাছ থেকে জানা গেছে এবারে নাবী করে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। এরই
মধ্যে কৃষকেরা ধান কাটা শুরু করেছেন। বিভিন্ন এলাকা থেকে ধান কাটতে দল বেধে মজুরেরা আসছেন। এরা দিনের
ভোর বেলা এসে মাঠের ধান কাটছেন। আবার বিকেলে কাজ শেষে দিনের মজুরীর টাকা নিয়ে বাড়ী ফিরে যাচ্ছেন।
এলাকার গৃহস্থ কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে দিন যেতেই মাঠের ধান কাটায় মজুরদের চাহিদা বাড়ছে।
পাবনার ভাংগুড়া , ফরিদপুর ও শাহজাদপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে ধান কাটতে মজুরেরা সুজা এলাকায়
আসছেন।
পাবনার ফরিদপুর উপজেলার দেওভোগ এলাকা থেকে আটজনের একটি দল সুজায় এসে চুক্তিতে ধান কাটছেন। এরা হলেন
– রাকিবুল ইসলাম , আরিফ , আঃ মালেক , আল আমিন , হাশেম আলী। প্রতিবেদককে রাকিবুল ইসলাম বলেন এরা মাঠের
ধান বিঘা প্রতি ছয় হাজার টাকা চুক্তিতে কাটা ও মাঠেই মাড়াই করে দিচ্ছে। দিনের ভোর সকালে এসে বিকেল
চারটা অবধি বিঘা দেড়েক জমির ধান কাটা ও মাড়াই করে থাকেন। এতে প্রতিজনের দিনের মজুরীতে এক হাজার টাকার
কিছু বেশী হচ্ছে। মোহনপুর ইউনিয়নের কোনাবাড়ী গ্রামের বারো জন সুজা মাঠে দিন হাজিরায় ধান
কাটছেন। প্রতিজনের মজুরী সাড়ে আটশো ও দুপুরের এক বেলা খাওয়া গৃহস্থের সাথে মিটিয়ে কাজ করছেন বলে দলের
জাফর প্রামাণিক , আইনুল হক বলেন। সকাল সাতটা থেকে ধান কাটা শুরু করে বিকেল সাড়ে তিনটা থেকে চারটা
অবধি কাজ করেন বলে জানান। একই মোহনপুর ইউনিয়নের এ্যালংজানী গ্রামের সোলায়মান , খোদা নেওয়াজ , কামাল ও
মাহতাব মিয়া বলেন তারা সুজা এলাকায় মাঠে দিনের আট থেকে সাড়ে আট ঘণ্টা ধান কাটা ও মাড়াই কাজ করছেন।
তাদের দিনের মজুরী সাড়ে আটশো টাকা আর এক বেলা খাবার মিটিয়ে কাজ করছেন। প্রতিদিন বাড়ী থেকে দল বেধে
এসে কাজ করে দিনের মজুরীর টাকা নিয়ে আবার শেষ বিকেলে বাড়ী ফিরে যান। এদিকে নাটোর , রাজশাহীর বিভিন্ন
উপজেলা থেকে ধান কাটায় দল বেধে মজুরেরা আসছেন। লাহিড়ী মোহনপুর রেলস্টেশন থেকে গৃহস্থেরা এদের দর দাম
মিটিয়ে বাড়ী আনছেন।
সুজার গৃহস্থ কৃষক সোহেল প্রামাণিক বলেন তাদের (সুজা ) এলাকায় এবারে বন্যার পানি দেরীতে নামায় বোরো
ধান আবাদ নাবী ( দেরী ) করে করা হয়েছে। সবে ধান কাটা শুরু হয়েছে। আর দিন চার – পাচ দিন পর থেকেই পুরোদমে
ধান কাটা শুরু হবে। তখন ধান কাটার মজুরদের চাহিদা আরো বাড়বে। বিভিন্ন জেলা থেকে ধান কাটার মজুরেরা দল
বেধে আসতে শুরু করেছেন। এরা গৃহস্থ বাড়ীতে থেকে ভর দিন ও রাতের বেলায় ধান মাড়াই কাজ করে থাকেন বলে জানান

Please follow and like us:
Pin Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Website Design, Developed & Hosted by ALL IT BD