যারা কুরআন খতম দিচ্ছেন, তাদের জন্য কিছু  জরুরি পরামর্শ 

Spread the love
মুফতি খোন্দকার আমিনুল ইসলাম আবদুল্লাহ 

যারা কুরআন খতম দিচ্ছেন, তাদের জন্য কিছু জরুরি পরামর্শ (এগুলো জানা উচিত)

(১) বেশি খতমের আকাঙ্ক্ষায় এমনভাবে তিলাওয়াত করবেন না যে, পড়া সহিহ হয় না। এতে তেমন ফায়দা হবে না। যেটুকু পড়বেন, ধীরে-সুস্থে, আগ্রহ সহকারে, ভালোবাসা নিয়ে পড়বেন। পরিমাণ কম হলেও আল্লাহ্ এতে বেশি খুশি হবেন।
(২) রামাদানের ২৭ তারিখ বা লাইলাতুল কদরের মধ্যেই খতম শেষ করতে হবে, এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। (২৭ তারিখকে লাইলাতুল কদরের জন্য নির্দিষ্ট করাও ঠিক নয়)
(৩) কুরআন খতম করার পর কোনো ইমাম বা আলিমকে দিয়ে ‘বকশে দিতে হবে’ এমন চিন্তা-ভাবনা সম্পূর্ণ ভুল। নিজের তিলাওয়াত ও উদ্দেশ্যই যথেষ্ট। নিজে তিলাওয়াত শেষে নিজেই দু‘আ করতে পারেন।
(৪) চেষ্টা করবেন, রাতে কিছু সময় তিলাওয়াত করতে। কারণ রাতের তিলাওয়াত আল্লাহ পছন্দ করেন। এটা পূর্ববর্তী নেককারদের রীতি।
(৫) অর্থ বুঝে তিলাওয়াতের মর্যাদা অনেক বেশি। তবে, স্বাভাবিক তিলাওয়াতেও নেকি হয়। হীনম্মন্যতায় ভুগবেন না। সাধারণভাবে খতমের পাশাপাশি প্রতিদিন কিছুটা সময় হলেও অনুবাদ অথবা তাফসিরসহ পড়ার চেষ্টা করবেন। এটা কুরআনের দাবি।
(৬) অধিকাংশ সালাফ এবং ইমামের মতে, মৃত ব্যক্তির মাগফিরাত বা নেকির উদ্দেশ্যে জীবিত ব্যক্তি কুরআন খতম দিতে পারবে। তাই, নিজের মৃত কোনো আত্মীয়ের মাগফিরাতের উদ্দেশ্যে কুরআন খতম দেওয়া যাবে। তবে, উত্তম হলো: মৃতদের জন্য বেশি করে দু‘আ ও দান সাদাকাহ্ করা। এ ব্যাপারে আলেমদের কোনো মতভেদ নেই।
(৭) এত জোরে তিলাওয়াত করবেন না, যাতে অন্যের ইবাদতে (যেমন: নামাজ, যিকর, দু‘আ) ব্যঘাত ঘটে। কারো সামনে তিলাওয়াত করা হলে তা শুনা তার জন্য ওয়াজিব। সুতরাং, কাউকে এই ওয়াজিব পালনে বাধ্য করবেন না। যতটুকু সম্ভব ধীরে পড়বেন। তবে, কেউ আগ্রহী শ্রোতা হলে জোরেই পড়ুন।
(৮) কুরআনে মোট ১৪ টি সিজদার আয়াত আছে। সেগুলো পাঠ করা মাত্রই সিজদা দিন। কোনো প্রয়োজন ব্যতীত এসব সিজদা বিলম্বে আদায় করা উচিত নয়।
(৯) কুরআন খতমের পর বিশেষ কোনো দু‘আ সহিহ কোনো হাদিস দ্বারা সাব্যস্ত নয়। (শাতিবি রহ.-এর সূত্রে আলবানি রহ.)। সুতরাং স্বাভাবিকভাবে শেষ করে দু‘আ করে নেবেন। দু‘আ করে আল্লাহকে তিলাওয়াতের সওয়াবের উদ্দেশ্য বলতে হবে, এমনটা জরুরি নয়। আল্লাহ্ জানেন, আপনি কী উদ্দেশ্যে তিলাওয়াত করছেন।
(১০) মুসহাফ তথা কুরআনের কাগজের কপি ধরতে অজু জরুরি। তবে, মোবাইলে পড়তে অজু জরুরি নয়। এই মত দিয়েছেন দারুল উলুম দেওবন্দের সাবেক প্রধান মুহাদ্দিস আল্লামা সাঈদ আহমাদ পালনপুরী (রহ.) আরবের ওলামায়ে কিরামসহ অনেকে। তবে, অবশ্যই অজু করে পড়াই উচিত। যারা অজু ছাড়া মোবাইলেও পড়া নাজায়েয বলেছেন, তারা এটুকু অনুমতি দিয়েছেন যে, মোবাইলে পড়ার সময় সরাসরি আয়াতে টাচ না করে স্ক্রিনের সাইডে টাচ করে পড়া যাবে। এটি একটি নিরাপদ মত।
সর্বাবস্থায় কুরআনের সাথে লেগে থাকা দরকার। হাদিসের ভাষায় আল্লাহ তা‘আল কুরআনকে যেন আমাদের ‘হৃদয়ের বসন্ত’ বানান। আমিন।
লেখক তরুণ আলোচক ও গবেষক বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব পীরজাদা মুফতি খোন্দকার আমিনুল ইসলাম আবদুল্লাহ ।
Please follow and like us:
Pin Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Website Design, Developed & Hosted by ALL IT BD