আরিফুল ইসলাম, তাড়াশে(সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি : সিরাজগঞ্জ তাড়াশে শুরু হয়েছে আমন ধান কাটা ও মাড়াইয়ের উৎসব। পাশাপাশি আলু, রসুন পেঁয়াজসহ অন্যান্য ফসলাদি চাষাবাদের কাজ পুরো দমে শুরু হয়েছে সপ্তাহখানেক আগে থেকে। তাই কৃষি শ্রমিক সংকটে ভুগছেন উপজেলার গ্রামীণ জনপদের কৃষকরা। দিন দিন শ্রমিকের চাহিদা বাড়ছে কৃষকের কাছে। শ্রমিকের অভাবে কৃষকরা তাদের আমন ধান কাটতে ও মাড়াই করতে পারছেন না সঠিক সময়ে। যা শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে, তাদেরও অন্য সময়ের চেয়ে এখন তিনগুণ বেশি মজুরি দিতে হচ্ছে। এর ফলে অনেক কৃষক তাদের অতিকষ্টের ফসল আমন ধান ঘরে তুলতে পারছেন না। আর যেসব কৃষক শ্রমিকের মূল্যের চাহিদা অনুযায়ী মজুরি দিতে পারছেন দিনমজুররা সেসব কৃষকের জমিতে বা তাদের বাড়িতে কাজ করতে যাচ্ছেন।
তাড়াশে আমন ধান কাটার শ্রমিক সংকট বিপাকে কৃষক
সরজমিন উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে ঘুরে দেখা গেছে, আমন ধান কাটা ও মাড়াইয়ের মৌসুমে ধান কাটার জন্য শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। পাওয়া গেলেও অন্য সময়ের চেয়ে শ্রমিকের মজুরির অনেক বেশি। ধান কাটতে শ্রমিকদের এক বিঘায় ৪ হাজার টাকা। একজন পুরুষ শ্রমিক ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা মজুরিতে কাজ করছেন। এর পরেও মিলছে না কৃষি শ্রমিক।
উপজেলার ওয়াশিন গ্রামের কৃষক আলাউদ্দিন সহ অনেকে বলেন, আমন ধান কাটা ও মাড়াইয়ের মৌসুম শুরু হয়েছে। কিন্তু আমরা চাহিদা অনুযায়ী ধান কাটার জন্য শ্রমিক পাচ্ছি না। আর পাওয়া গেলেও অন্য সময়ের চেয়ে শ্রমিকের মজুরি দুই থেকে তিনগুণ বেশি। কিন্তু কোনো উপায় না থাকায় বাধ্য হয়েই ধান কাটতে বেশি মজুরি দিয়ে শ্রমিক নিতে হচ্ছে।
আলাউদ্দিন আরো বলেন, ‘এবার ২০বিঘা জমিতে আমন ধান আবাদ করেছিলাম। তার মধ্যে ৬বিঘা কাটাতে পেরেছি। প্রতি বিঘাতে ১৩ থেকে ১৪ মণ করে ফলন হয়েছে। কিন্তু ধানকাটার শ্রমিকের বাড়তি মূল্যের কারণে চাষাবাদ করে লাভবান হতে পারছিনা। এর ওপর মাড়াই খরচ তো রয়েছে।’
ধান কাটা শ্রমিক আবু সাইদ জানান, আমন ধান কাটার পুরো মৌসুম চলছে। কৃষকের তুলনায় শ্রমিকের সংখ্যা অনেক কম। আবার বাজারে সব কিছুর মূল্য বেশি। আমরাও শ্রমের মূল্য বেশি না নিলে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে চলতে পারি না।
চলনবিল বার্তা chalonbeelbarta.com