ডাঃ আমজাদ হোসেন, উল্লাপাড়া প্রতিনিধিঃ সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় কলা ফসল আবাদকারী কৃষকদের সবারই লাভ হচ্ছে । এর আবাদে খরচ কম করে বেশী টাকা লাভ করছেন। কৃষকেরা সফল হচ্ছেন। আবাদকারীদের কথায় অন্য ফসলের চেয়ে কলা ফসলের আবাদ করে বেশী টাকা আয় হয়। এরপরও কলা ফসলের আবাদে কৃষক বাড়ছে না। এলাকায় আরো ব্যাপক হারে কলা ফসলের আবাদ করা হলে মোকামী কলার আমদানী কমবে।
উল্লাপাড়া উপজেলার হাটিকুমরুল , সলঙ্গা ও বড়হর ইউনিয়ন এলাকায় অনেক বছর থেকেই কলা ফসলের আবাদ হয়ে আসছে । এর মধ্যে হাটিকুমরুল ইউনিয়নের বিভিন্ন মাঠে সবচেয়ে বেশী পরিমাণ জমিতে নানা জাতের কলা ফসলের আবাদ করা হচ্ছে। এলাকায় আবাদী মাঠগুলোয় শবরী, সাগরকলা জাতের কলা ফসল আবাদ হয়ে থাকে ও তাই হচ্ছে। উপজেলা কৃষি অফিস থেকে জানানো হয় গোটা উপজেলায় প্রায় বিশ হেক্টর পরিমাণ জমিতে নানা জাতের কলা ফসলের আবাদ হচ্ছে। হাটিকুমরুল ইউনিয়নের নবরত্নপাড়া , হাটিপাড়া , হাসানপুর এলাকায় মাঠে অনেক জমিতে কৃষকেরা কলা ফসলের আবাদ করেছেন
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নবরত্নপাড়ার কৃষক রুবেল ইসলাম মাঠে নিজের দুই বিঘা পরিমাণ জমিতে শবরী ও রংয়ের সাগরকলার আবাদ করেছেন। এরই মধ্যে প্রায় আধাআধি গাছের কলা ফসল (পুরো কাধি ধরে) বেচেছেন।
প্রতিবেদককে বলেন জমিতে একবার কলা গাছ লাগানোর পর টানা তিন বছর আবাদ করা হয়। তিন বছর পর এক বছর সে জমিতে অন্য ফসলের আবাদ করে পরে কলা ফসল আবাদ করা হয়ে থাকে। এর আবাদে এক বছরকালে এ যাবত বিশ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এরই মধ্যে কলা বেচে খরচ বাদে প্রায় পচিশ হাজার টাকা লাভ হয়েছে। বিভিন্ন এলাকা থেকে আড়ত মালিকেরা সরাসরি জমিতে এসে পাইকারি দরে কলা কেনেন। আবার কলা আবাদকারীদের কেউ কেউ নিজেরাও কলা কাধি কেটে আড়তে নিয়ে বেচে থাকেন। একই এলাকার উত্তরপাড়া মাঠে কৃষক ফজল মিয়া নিজের বিশ শতক পরিমাণ জমিতে গত সপ্তাহ খানেক আগে কলা চারা লাগিয়েছেন। এখন লাগানো গাছের পরিচর্যা করছেন।
সাপ্তাহিক চলনবিল বার্তা
প্রতিবেদককে বলেন বিশ থেকে বাইশ বছর ধরে কলা ফসলের আবাদ করে আসছেন। তার কথায় লাভ হয় বলেই বছরের পর বছর এর আবাদ করে আসছেন। সলঙ্গা ইউনিয়নের চর গোজা মাঠে একজন কৃষক অন্যের কয়েক বিঘা জমি লিজ নিয়ে জমিতে কলা ফসলের আবাদ করেছেন। বিভিন্ন মাঠে কলা ফসলের আবাদকারী কৃষকেরা জানান অন্য ফসলের আবাদে যে পরিমাণ টাকা খরচ হয় তার চেয়ে কম টাকা কলা ফসলের আবাদে খরচ হয়। সে হিসেবে কলা ফসলের আবাদে বেশী টাকা লাভ হয়। উপজেলার পাচিলা, হাটিকুমরুল বাজার এলাকায় গোটা দশেক কলা আড়ত আছে। এসব আড়তে পাইকারি দরে কলা কেনাবেচা হয়। হাটিকুমরুল বাজারের আড়ত মালিক আশরাফ আলী বলেন এলাকার কলা ফসলের আবাদকারী কৃষকদের অনেকেই জমি থেকে এক সাথে পনেরো বিশ কাধি কলা কেটে আড়তে এনে পাইকারি দরে বেচে থাকেন। আবার তিনি ছাড়াও অন্য আড়ত মালিকেরা সরাসরি কৃষকের জমিতে এবং বিভিন্ন মোকাম বাজারে থেকে কলা কিনে আড়তে এনে বিভিন্ন এলাকার দোকানীদের কাছে বেচেন। একাধিক আড়ত মালিকের কথায় এলাকায় ব্যাপক হারে কলা ফসলের আবাদ করা হলে বগুড়াসহ বিভিন্ন এলাকার মোকামী কলার আমদানী কমবে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সূবর্ণা ইয়াসমিন সূমী বলেন হাটিকুমরুল ও আরো একাধিক ইউনিয়নের বিভিন্ন মাঠে কৃষকেরা কলা ফসলের আবাদ করে আসছেন। এসব উচু মাঠে বন্যার পানি উঠে না। কলা ফসলের আবাদে কম খরচে বেশী টাকা কৃষকদের আয় হয়। তবে সঠিক সময়ে সঠিক পরিচর্যা করতে হয়। আর ভালো জাতের কাধিতে বেশী ছড়ি হয় এমন জাতের কলা ফসল আবাদে তার বিভাগ থেকে পরামর্শ সহযোগিতা করা দেওয়া হয়। প্রথম বছর কলা ফসল আবাদ করা জমিতে সাথী ফসল হিসেবে সবজী জাতীয় অন্য ফসল আবাদ করা যেতে পারে। আর তা করা হলে কৃষকদের আরো বেশী টাকা লাভ হবে
চলনবিল বার্তা chalonbeelbarta.com