আরিফুল ইসলাম: সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন ও একটি পৌর এলাকায় প্রায় ২০ হাজার ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানুষ বসবাস করেন। এদের মধ্যে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের নারী-পুরুষ রয়েছেন। উপজেলার কালীবাড়ি গ্রামে দেখা যায় গৃহিনী আশা বালা ওঁরাও, শান্তিবালা ওঁরাও ও মিনতি ওঁরাও সকাল বেলায় সংসারের কাজ সেরে নিত্য দিনের ন্যায় বের হয় বিন্না ফুল তোলার কাজে। জানা যায়, এক সময় এসব সম্প্রদায়ের নারী-পুরুষ বন-জঙ্গলে ঘুরে শিয়াল, খরগোশ, কচ্ছপসহ বিভিন্ন পশু-পাখি শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করত। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে বন-জঙ্গল উজাড় হয়ে যাওয়ায় তাদের জীবিকা নির্বাহে ভাটা পড়েছে। তাই ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর নারী-পুরুষরা এখন কৃষি কাজে সম্পৃক্ত হয়ে পড়েছেন। তারা মাঠে ধান লাগানো, ধান কাটা ও মাড়াইয়ের কাজ করে থাকেন। তারা কঠোর পরিশ্রমি এবং অপেক্ষাকৃত কম পারিশ্রমিক হওয়ায় এলাকায় কৃষি কাজে তাদের বেশ চাহিদাও রয়েছে। কিন্তু আশ্বিন-কার্তিক মাসে এলাকায় তাদের হাতে তেমন কোন কাজ থাকে না। ফলে রোজ উপার্জন করতেও পারেন না তারা। তাই এ সময় উপার্জনের জন্য বেছে নেন বিন্না ফুল তোলার কাজ। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে বিন্না ফুলের আঁটি বেঁধে সেগুলো শুকিয়ে তৈরি করে ঝাড়ু–। তাদের তৈরি ঝাড়ু– বিক্রি করে বিভিন্ন হাটে-বাজারে ও গ্রাম এলাকায় বাড়ি বাড়ি ঘুরে ঘুরে। অবশ্য এ কাজটি নারীদের পাশাপাশি এখন পুরুষেরাও করে থাকেন। আর এভাবেই কেটে যায় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর নারীদের সময়। আর এ অবস্থা চলছে অধিকাংশ ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী পরিবারের সংসার।
জানা যায়, এরা প্রতিটি ঝাড়ু– ৩০-৪০ টাকায় বিক্রি করে। আর ব্যাপারীরা এদের নিকট থেকে ঝাড়ু– সংগ্রহ করে শহরে এনে প্রতিটি ঝাড়ু– বিক্রি করে ৫০-৬০ টাকায়।
তাড়াশ উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. ইলিয়াস হোসেন শেখ জানান, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানুষ অত্যন্ত পরিশ্রমি। তারা ঝাড়ু– তৈরি এবং বিক্রি করে এ সম্প্রদায় অনেকটাই লাভবান হন।
চলনবিল বার্তা chalonbeelbarta.com