আবদুর রাজ্জাক রাজু
যাদের ফেসবুক ঘাঁটাঘাঁটির অভ্যাস আছে
সুক্ষ্মভাবে লক্ষ্য করলে দেখা যাবে তখন
তাদের কোন বিশেষ চাহিদা বা নেশা হয় কি না।
কী অবাক ব্যাপার, ভীষণ জ্বরে আক্রান্ত শিশুকে
পাশে অযতেœ রেখে মোবাইলে ফেসবুক দেখছে মায়ে
আকন্ঠ নিমজ্জিত আসক্ত বেহুঁশের মতো।
বাজারে গেছে কেনাকাটা করতে সেখানেও
ফেসবুকে উঁকিমারে চুপিসারে এক নজর
যদিওবা বাজারে দেরী হবে অথবা তালিকা থেকে
বাদ পড়বে দু’একটি আইটেম — এই যা।
বসেছে কেউ কথা বলতে কারো সাথে
কথার ফাঁকে ফাঁকে আঙ্গুল চলছে ফেসবুকে চ্যাট করতে
ভদ্রতা সৌজন্যতা কতটুকু ক্ষুন্ন হল তার খেয়াল নেই
চলছে পারিবারিক বিষয়ে জরুরী আলাপ বিনিময়
সেখানেও দ্রুত চোখ বুলানো ফেসবুকে একটিবার।
খেতে-শুতে কোথাও যেতে তা বাসে-বিমানে-ট্রেনে
ভ্যানে-সিএনজিতে কিংবা হাঁটা পথে, এমনকি
চায়ের টেবিলেও এক ঝলক ফেসবুক দেখা চাই
তাহলে এটা নেশা না মোহগ্রস্থতা, মোহান্ধতা
না কি মাদকতা, আসক্তি না অতি বেশী আকর্ষণ !
নারী পুরুষের কত রঙ ঢঙয়ের ছবি, কেরিকেচা
শোভা পায় ফেসবুকে কত রকম ‘পোজ’ দেয়া
সবই সুন্দর সুরুচিপূর্ণ কি না সে বিচার করে কে।
এই ফেসবুক যখন রুচিহীন আর অতি বাড়াবাড়ি
ফেসবুক যখন মাতাল হাওয়া অন্ধ আবেগ জড়ানো
অগ্নিস্ফুলিঙ্গ উস্কানি দেয় তখন এর ভারসাম্যপূর্ণ নৈতিক
ও সৃজনশীল সামাজিক ব্যবহার মানুষ প্রত্যাশা করে।
ফেসবুকের ভালো দিক মন্দ দিক সম্পর্কে
সচেতন থাকা প্রয়োজন কারণ, এতে গোটা সমাজ
প্রভাবিত হতে পারে- এতে কল্যাণ-অকল্যাণ দুইই আছে।
চলনবিল বার্তা chalonbeelbarta.com