ভাঙ্গুড়া (পাবনা)প্রতিনিধিঃ
করোনা মহামারি সারা বিশ্বের ন্যায় বাংলাদেশের শ্রমজীবি মানুষের আয়ের উপর প্রভাব পড়েছে। তাদের আয় আগের চেয়ে তুলনামূলকভাবে কমেছে। কিন্তু জীবনের মৌলিক চাহিদা তো আর থেমে থাকে না। তাই স্বল্প আয়ের মানুষ মহাজনদের নিকট থেকে চড়া সুদের উপর টাকা নিয়েও তাদের নিত্য প্রয়োজন মিটিয়ে চলেছে। আর এই সুযোগ গ্রহণ করছে এক শ্রেণির সুদের কারবারী মহাজন শ্রেণির মানুষ। তাদের প্রলোভনে পড়ে একবার সুদে টাকা গ্রহণ করলেও বছরের পর বছর সুদের টাকা দিলেও মূল টাকা থেকেই যায়। তবে সুধী মহল বলছেন, এক্ষেত্রে সকলের ধর্মীয় দর্শন ও পারিবারিক সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সামাজিক নিরাপত্তা তথা সঞ্চয়ী মনোভাব তাদের জন্য বেশী দরকার।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, উপজেলার পৌর সদর থেকে শুরু করে বিভিন্ন ইউনিয়নের প্রত্যান্ত এলাকাতেও রেজিষ্ট্রেশন বিহীন কতিপয় ব্যক্তি মিলে বাহারী নামে বা আকর্ষনীয় নামাঙ্কিত করে সমিতির অর্ন্তরালে চালিয়ে যাচ্ছেন তাদের সুদের ব্যবসা। আবার কখনো কখনো সমাজের প্রভাবশালী ব্যক্তি নিজ উদ্যোগে এই ব্যবসা করে আসছে। তারা পরিপাটি পোশাকে বিভিন্ন স্থানে ঘুরে ফিরে অভাবী মানুষকে প্রলুব্ধ করে সুদে টাকা প্রদান করে থাকে। আবার কোন কোন সময় অভাবী মানুষ তাদের নিজ প্রয়োজন মেটাতে না বুঝেও এই ধরণের সুদে টাকা গ্রহণ করে থাকে। সুদে টাকা অসহায় ব্যক্তিদেরকে প্রদানের সময় মহাজন শ্রেণির মানুষ কৌশলে স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিয়ে নেয়। এক্ষেত্রে ওই স্ট্যাম্পের টাকাও কেটে রেখে অবশিষ্ট টাকা দিয়ে দেয়। কিন্তু সুদ পুরো টাকার উপরই চলতে থাকে। এভাবে প্রতি হাজারে মাসে ১শত থেকে ৪শত টাকা পর্যন্ত সুদ গুনতে হচ্ছে তাদের। এই সুদের টাকা গ্রহণে নেই কোনো বই বা প্রমান পত্র। এভাবে কেউ যদি একবার এই সুদে টাকা গ্রহণ করলে মুল টাকার দ্বিগুণ,তিনগুণ পরিশোধ করলেও মুল টাকার অপরিবর্তিত অবস্থায় থেকে যায়। টাকা গ্রহীতা এই সুদে টাকা পরিশোধ না করলে স্ট্যাম্পে স্বাক্ষরিত কাগজের বলে মহাজন তাকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করে টাকা তুলতেও পিছপা হন না। সুদে কারবারিরা দলবদ্ধভাবে বা কখনো স্থানীয় প্রভাবশালীদের ছাত্র ছায়ায় থাকে বলে সুদের টাকা না দিলে সাধারণ জনগণকে বিভিন্নভাবে হেনস্তা করলেও তার কোনো প্রতিকার হয় না। এভাবে সুদে টাকা গ্রহীতাদের পরিবারে পারিবারিক কলহ ও অশান্তি দিন দিন বাড়ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পৌর এলাকার সারুটিয়া মহল্লার বাসিন্দা সুদে টাকা গ্রহীতা বলেন, স্ট্যাম্পের উপর স্বাক্ষর করে ৩০ হাজার টাকা গ্রহন করে এক বছর ধরে প্রতিমাসে ৩ হাজার টাকা করে দিয়েও মূল টাকা ধরাই রয়েছে।অপদিকে সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা মনে করেন, ধর্মীয় অনুশাসনে গুরুত্বারোপ, ব্যক্তি ও পারিবারিক সচেতনতা পাশাপাশি সঞ্চয়ের মনোভাব গড়ে তুলেতে পারলে সমাজ থেকে এই ধরণের সমস্যা দুরীকরণ করা সম্ভব।
চলনবিল বার্তা chalonbeelbarta.com