লুৎফর রহমান : তাড়াশসহ চলনবিলের প্রায় সবগুলো উপজেলায় বেড়েই চলছে বন্যার পানি। ফলে জনজীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্বিসহ অবস্থা। গত কয়েক দিনের ভারী বর্ষন ও উজান থেকে ঢলের পানি নেমে আসায় তাড়াশ ও বিলপাড়ের অন্যান্য ১০টি উপজেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির ব্যাপক অবনতি হয়েছে। বন্যার পানি দিন দিন বাড়ার ফলে উপজেলাগুলোর বিভিন্ন গ্রামের শতশত মাছের পুকুর ও ঘর বাড়ি তলিয়ে যাচ্ছে। মাছ চাষিরা নেট দিয়ে পুকুরের মাছ রক্ষা করতে চেষ্টা করছে। কর্মহীন হয়ে পড়েছে হাজারো মানুষ। যার ফলে বন্যা কবলিত পরিবারগুলো কষ্টে দিনাতিপাত করছে। বিশেষ করে দরিদ্র শ্রমজীবি শ্রেনির মানুষের দুরাবস্থা চরমে উঠেছে। কোথাও পর্যাপ্ত ত্রাণের ব্যবস্থা নেই।
বন্যার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় গবাদীপশু নিয়ে বিপাকে পরেছে খামারীরা। গো-খাদ্যের সংকটের আশংকা করছে খামার মালিকরা। বন্যা কবলিত গ্রামগুলোতে দেখা দিচ্ছে পানি বাহিত রোগ। সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার কুন্দইল, মাকড়শোন,ভেটুয়া মাগুড়া,দক্ষিন শ্যামপুর, চরহামকুরিয়া, দিঘিসগুনা, লালুয়ামাঝিরা, খরখড়িয়া সহ অনেক গ্রামের সিংহভাগ পরিবার পানি বন্দি হয়ে পরেছে। ঘরবাড়ী এখন পানির নিচে। বন্যায় তলিয়ে যাওয়া পরিবারগুলো আশ্রয় নিয়েছে বিভিন্ন উঁচু স্থানে। তাদের খাবার পানির সংকট দেখা দিয়েছে। মাছ চাষী, জিয়াউর রহমান, সুলতান মাহমুদ, হাসান খন্দকার বলেন, কোন কিছু বুঝে উঠার আগেই রাতে হঠাৎ করে বন্যার পানিতে পুকুরের পাড় তলিয়ে মাছ ভেসে গেছে। এতে আমাদের অনেক টাকার ক্ষতি সাধিত হয়েছে। বন্যার পানিতে ডুবে যাওয়া পরিবারগুলো বিভিন্ন স্কুলে আশ্রয় নিয়েছে। গাদাগাদি করে একত্রে বসবাসের ফলে রয়েছে করোনা সংক্রমনের ঝুঁকি। ভেটুয়া গ্রামের বানভাসী পরিবারগুলো অভিযোগ করে বলেন, বাড়িঘর বন্যার পানিতে ডুবে গেছে। আশ্রয়ের জন্য সরকারী স্কুলে অবস্থান করছি । আমাদেরকে এখন পর্যন্ত কেউ কোন সহযোগীতার হাত বাড়ায়নি । মাত্র কয়দিন পর কোরবানীর ঈদ, কী করব বুঝতে পারছি না। আল্লাহ ভাল জানেন।
এ বিষয়ে সগুনা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহেল বাকী জানান, আমার ইউনিয়নের প্রায় বেশীর ভাগ গ্রাম বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে। ইতিমধ্যে ত্রাণের জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর তালিকা জমা দিয়েছি। মাগুড়া বিনোদ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আতিকুল ইসলাম বুলবুল জানান, মাগুড়া ইউনিয়নের ১৫টি গ্রাম বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স ভবনও পানির নিচে অবস্থান করছে। বন্যা কবলিত বিভিন্ন গ্রাম পরিদর্শন করেছি। বন্য কবলিত লোকজনের ত্রানের জন্য এমপি সাহেবের সাথে যোগাযাগ রাখছি। তাড়াশ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মশগুল আজাদ বলেন, তাড়াশ উপজেলা মৎস্য ভান্ডারখ্যাত। এখানে প্রচুর পরিমাণে পুকুরে মৎস্য চাষ হয়ে থাকে। হঠাৎ অতি বন্যার কারণে অনেক পুকুর তলিয়ে বন্যার পানিতে ভেসে যাচ্ছে। এতে মাছ চাষীরা চরম ক্ষতির মধ্যে পরবে। এছাড়া অনেক ফসল এবং সব্জিক্ষেতও পানির নীচে। এ বিষয়ে তাড়াশ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ মনিরুজামান মনি বলেন, বন্যা কবলিত এলাকার জন্য প্রাথমিক বিদ্যালয়সমূহ আশ্রয়ন কেন্দ্র হিসেবে খুলে দেওয়া হয়েছে। সেখানে তারা আশ্রয় নিতে শুরু করেছে। ইতোমধ্যে সরকারীভাবে চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। ওদিকে এখবর লেখার সময়ও ভারী বৃষ্পিাতের কারণে বিলাঞ্চলের সর্বত্র বন্যার পানি বেড়েই চলেছে এবং তা আশংকাজনক রুপ নিতে পারে বলে ধারণা হচ্ছে।
চলনবিল বার্তা chalonbeelbarta.com