করোনায় করণীয় 

Spread the love

গত নভেম্বর হতে নভেল করোনাভাইরাস চীনের উহান থেকে উৎপত্তি হয়ে প্রায় সাড়া পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়লেও আল্লাহর ইচ্ছায় বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত এর অনুপ্রবেশ বা সংক্রমণ সেভাবে ঘটেনি বলা যায়। এর আরেক নাম কভোডি-১৯। তবে এ মছিবত বা ঝুঁকির সম্ভাবনা সবসময়ই সব দেশেই থেকে যাচ্ছে নানা কারণে, তা অস্বীকার্য নয়। এমনকি করোনাতে বৈশি^ক দৃশ্যপট বদলাচ্ছে প্রতিনিয়ত। এর প্রভাব পড়েছে পৃথিবীর সবখানে, সমাজের সর্বত্র। সম্প্রতি দেশে যে তিনজনের প্রতি করোনার সন্দেহ ছিল তাদেরও কোন করোনা সনাক্ত হয়নি। ফলে তারা দুজন সুস্থ রয়েছেন আর একজন এখনও পর্যবেক্ষণে। বর্তমানে বিদেশ ফেরত অনেকেই থাকছেন কোয়ারেন্টাইনে। এমতাবস্থায় সচেতনতা ও সতর্কতাই এর প্রধান প্রতিরোধের উপায়। মনে রাখতে হবে, করোনাভাইরাস জীবানুঘটিত হলেও এর জীবানু অদ্যাবধি ধরা পড়েনি অর্থাৎ আবিস্কৃত হয়নি।ফলে কেবল লক্ষণ ধরে চিকিৎসা হচ্ছে মাত্র। একই  কারণে এর প্রতিরোধের কোন ভ্যাকসিন বা প্রতিষেধকও তৈরী সম্ভব হচ্ছে না যদিও বিশ^ স্বাস্থ্য সংস্থার বিশেষজ্ঞ ও চিকিৎসকগণ তা করার আপ্রাণ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তাই মূলত: আমাদের কোন ভয়-ভীতি বা আতঙ্কিত না হয়ে সাবধানী সতর্কতামূলক  স্বাস্থ্যসম্মত নিয়মকানুন মেনে চলা জরুরী। কোনভাবেই ঘাবড়ানো নয়, বরঞ্চ প্রতিদিন আমরা যা উপদেশমূলক তথ্য কিংবা খবর জানতে পারি তা মেনে চলা তথা অনুসরণ করা বাঞ্ছনীয়। এর মধ্যে মোটা দাগে- ব্যক্তিগতভাবে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকা, বাড়ীঘর ও পরিবেশ ময়লা আবর্জনা মুক্ত রাখা, বেশী জনসমাবেশে না যাওয়া, হাঁচি কাঁশিতে সতর্কতা অবলম্বন করা, কোন লক্ষণ অনূভূত হলে দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া, ঘনঘন সাবান দিয়ে হাত ধোয়া ইত্যাদি। করোনা রোগের লক্ষণ হল: শ্বাসকষ্ট, শরীর ব্যথা, জ্বর, সর্দিভাব ইত্যাদি। এটা অতি মাত্রার ছোঁয়াচে বটে। তাই হ্যান্ডসেক, মোলাকাত,কোলাকুলিও চুমু খাওয়ার মত অভ্যার্থনামূলক মেলামেশা এখন না করাই উত্তম। আমাদের দেশে রাস্তা পথে খোলাস্থানে যত্রতত্র থুথু ও আবর্জনা ফেলা এবং মলমুত্র ত্যাগ একটা খারাপ অভ্যাস। বর্তমানে করোনার প্রাদুর্ভাবের সময়টাতে এসব বদভ্যাস পরিত্যাগ করাই শ্রেয়। আর মুখে মাস্ক ব্যবহার করার একটা হুজুগ দেখা যাচ্ছে। যে কারণে ফেস মাস্ক ও স্যানিটাইজারের চাহিদা বৃদ্ধির প্রেক্ষিতে ঘাটতি দেখানোর সুযোগ নিচ্ছে অসৎ ব্যবসায়ীরা, বাড়িয়ে দিচ্ছে মূল্য বা কখনো  বাজারে সরবারহশূণ্য অবস্থা দেখা দিচ্ছে। স্বাস্থ্য কর্মীরা বলছেন, আমাদের দেশে এখনও  তেমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি যে, মাস্ক পড়া অতি আবশ্যক। অর্থাৎ এখুনি মুখোশ ব্যবহারের অতটা প্রয়োজন নেই। একই কারণে এব্যাপারে হন্য হয়ে এমুহুর্তে বেশী দামে এসব কেনা নিস্প্রয়োজন। স্মরণ করা যেতে পারে, ইসলামে পরিচ্ছন্নতাকে ঈমানের অর্ধেক বলা হয়েছে। তাই আমরা যদি নোংরা ও অপরিচ্ছন্ন না থেকে স্বাস্থ্য সম্মত উপায়ে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন থাকি-সেটাই করোনা প্রতিরোধের সর্বত্তোম পন্থা। বলা হচ্ছে, করোনা ভাইরাসে বয়স্কদের আক্রান্তের সংখ্যা বেশী, শিশু তরুণদের কম। ইতোমধ্যেই লক্ষ্য করা গেছে, বিভিন্ন দেশে এই রোগে আক্রান্ত নারী সংখ্যা পুরুষের অর্ধেক। তাই নিজ পরিবার হতে শুরু করে পাড়া,প্রতিবেশী,গ্রাম,মহল্লা,স্কুল,প্রতিষ্ঠান অফিস,আদালত সহ সর্বত্র আমরা যদি সঠিক  সচেতনতা বার্তা পৌছে দিতে পারি যাতে মানুষ আতংকিত না হয়,বিভ্রান্ত না হয় এবং গুজবে কান না দেয়। বরং তারা যেন যথাযথ স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলে এবং  সর্বদা সজাগ ও সতর্কতা অবলম্বণ করে চলে। একই সাথে ধৈর্য ও বুদ্ধিমত্তা কাজে লাগায়। এমুহুর্তে করোনা সম্পর্কে ইতিবাচক বার্তা সবার কাছে পৌছে দেওয়া আমাদের একটা চ্যালেঞ্জ। আমাদের শিক্ষিত সচেতন সমাজকে এই কঠিন সময়ে স্বপ্রণোদিত হয়ে সেই দায়িত্ব পালন করতে হবে। করোনা মোকাবেলায় সেটাই আমাদের  মূখ্য করণীয় , কর্তব্য বলে মনে করি।

 

Please follow and like us:
Pin Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Website Design, Developed & Hosted by ALL IT BD