এম এ মাজিদঃ সিরাজগঞ্জের তাড়াশে ৩ দৃষ্টি প্রতিবন্ধি সস্তান নিয়ে বিপাকে পরেছেন এক অসহায় বাবা। জন্মের সময় সুস্থ হয়ে জন্ম নিলেও বয়স বাড়ার সাথে সাথে অজানা এক রোগে আক্রান্ত হয়ে দৃষ্টি হারিয়েছেন ওই হত -দরিদ্র বাবার তিন তিনটি সন্তান। কি এক অজানা রোগে আক্রান্ত হয়ে পর পর নিষ্পাপ তিন সন্তান দৃষ্টি হারিয়ে প্রতিবন্ধি হয়ে পড়লেও অর্থাভাবে তা জানতে পারলেন না দরিদ্র বাবা। অবশেষে হতাশ হয়ে পড়েছে নিঃস্ব ওই বাবার পরিবারটি।
জানা গেছে, উপজেলার মাধাইনগর ইউনিয়নের মালশিন গ্রামের ক্ষুদে মেকানিক আকবর আলী (৬০) প্রায় ৪ দশক আগে বিয়ে করেন একই গ্রামের মর্জিনা খাতুনকে (৫৫) । বিয়ের পর তাদের ঘর আলো করে একে একে জন্ম নেয় আফরোজা খাতুন (৩৫) মনসুর রহমান টুটুল (৩০) মাহফুজা খাতুন (১৯) এবং ওমর ফারুক (১৭)। জন্মের পর বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে প্রায় সম্পূর্ণ দৃষ্টি শক্তি হারিয়ে প্রতিবন্ধি হয়ে পরেছে এক ছেলে ও দুই মেয়ে । ৩ ভাই-বোন সুস্থ হয়ে জন্ম নিলেও বয়স বাড়ার সাথে সাথে তারা দৃষ্টি প্রতিবন্ধি হয়ে পরে।
বড় মেয়ে আফরোজা খাতুন ও ছেলে মনসুর রহমান টুটুলকে কয়েক দফা চিকিৎসা করানো হলেও দৃষ্টি ফেরেনি তাদের। সমাজের আর অন্য মেয়েদের মত স্বামীর সংসার করার কথা থাকলেও দৃষ্টি হারানোর অপরাধে স্বামীর পরিবার থেকে বিতারিত হয়ে এক সন্তানসহ বাবার ঘরের বোঝা হয়ে বসে আছেন আফরোজা খাতুন। ছেলে টুটুল দৃষ্টি হারিয়ে কাজ করতে অক্ষম হওয়ায় স্ত্রী ও এক সন্তান সহ বাবার সংসারে অভাবের বোঝাটাকে আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। মেয়ে মাহফুজা খাতুন আলিম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ালেখা করলেও দৃষ্টি না থাকায় পড়ালেখা বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে। ছোট ছেলে ওমর ফারুক বাবার মেকানিকের কাজে কিছুটা সহযোগিতা করলেও তার দৃষ্টি হারানোর আতংকে রয়েছে অসহায় পরিবারটি। সেই সাথে ৮০ বছর বয়সের বৃদ্ধা মাকেও টানতে হচ্ছে তাকে।
এদিকে ৩ প্রতিবন্ধি সন্তানের মধ্যে অনেক কষ্টে মাত্র ১জনের নামে সরকারি সাহায্যে (প্রতিবন্ধি) কার্ড মিললেও অন্য জনের নামে কোন মহযোগীতার কার্ড নেই।হতভাগ্য বাবা আকবর আলী জানান, নুন আনতে যেখানে পানতা ফুরায় সেখানে ১০ সদস্যের পরিবারের চাহিদা পুরন করে ছেলে মেয়েদের চিকিৎসা করানো আমার সাধ্যের মধ্যে নেই। এত বড় পরিবারের ভরন-পোষনের জন্য আমার হাতুরে মেকানিকের কাজই একমাত্র ভরসা। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, কি রোগে আক্রান্ত হয়ে ছেলে-মেয়েরা এমনভাবে দৃষ্টি হারাচ্ছে তা জানতেও পারলাম না। সম্পদ বলতে আমার সরকারি ২ শতক জামির উপর কুড়ে ঘরে বসবাস। আমার অবর্তমানে অভাবের এ বিশাল পরিবার কিভাবে চলবে একথা বলতেই তিনি কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। অজানা রোগ সম্পর্কে জানা ও সুচিকিৎসার জন্য তিনি সরকার ও দেশের বিত্তবানদের সহযোগিতা চেয়েছেন।এবিষয়ে তাড়াশ চক্ষু হাসপাতালের চিকিৎসক ডাঃ শরিফুল ইসলাম বলেন, তারা বয়স বাড়ার সাথে সাথে কি কারণে দৃষ্টি প্রতিবন্ধি হন তা পরিক্ষার পর জানা যাবে।
চলনবিল বার্তা chalonbeelbarta.com