বিশেষ প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জের তাড়াশে ধামাইচ বাজার খেয়াঘাটে গুমানী নদীর উপর একটি ব্রিজের অভাবে যুগযুগ ধরে শুষ্ক মৌসুমে বাঁশের সাঁকো আর বর্ষাকালে নৌকায় ঝুঁকিপূর্ণভাবে পারাপার হচ্ছেন নদীর দু’পাশের লাখো মানুষ। আশায় বুক বেধে থাকে। তবুও তাদের দুঃখ দুর্দশার দিকে আজও পর্যন্ত কেউ ফিরে তাকান নি। জনদুর্ভোগ এড়াতে উপজেলার সগুনা ইউনিয়নের ধামাইচ বাজার খেয়াঘাটে গুমানী নদীর উপর ব্রিজ নির্মাণের জোড় দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, গুমানী নদীর ধামাইচ বাজার খেয়াঘাটের বাঁশোর সাঁকো পারাপার হচ্ছেন কয়েকজন কোমলমতী শিক্ষার্থীরা ও সাধারণ মানুষ। স্থানীয় বাসিন্দা রহমত আলী, কাজেম উদ্দিন, শহিদুল ইসলাম, সাহেব আলী, চাঁদ আলী, মহিবুল্লাহ, নাছিমা খাতুন, ইসমাতারা, শাহীনুর প্রমূখ বলেন, নদীর উত্তর পারের গ্রামগুলোতে প্রচুর পরিমাণে ধান ও সবজি উৎপাদন করেন কৃষকরা। তাদের উৎপাদিত ফসল নিজ উদ্যোগে বহু কষ্টে নদীর দক্ষিণ পারের প্রসিদ্ধ বাজারগুলোতে বিক্রি করেন। যাতায়াত ব্যবস্থা ভাল না থাকায় বরাবরই তারা ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হয়ে থাকেন। ব্রিজ না থাকায় ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হতে বাধ্য হচ্ছেন নদীর দু’পারের ধামাইচ গ্রাম, ইশ^রপুর, হেমনগর, নওখাদা, বিন্নাবাড়ি, চরকুশাবাড়ি, দবিরগঞ্জ, রানী গ্রাম, কাটাবাড়ি, বাহাদুর পাড়াসহ কমপক্ষে ২০ গ্রামের লাখ মানুষ। গুরুতর অসুস্থদের লোকজনের মাথায় করে বাঁশের সাঁকো পার করে দিতে হয়। এলাকায় দুর্ঘটনা হলে প্রশাসনসহ কারো পক্ষেই দ্রুত পৌঁছা সম্ভব হয় না। সাধারণ লোকজনের পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থী রাশিদুল ইসলাম, মারুফ হোসেন, এমরান সরকার, জাহিদ হাসান, রুবেল হাসান, সোমা খাতুন, রাইফা খাতুন, কাজলী, শিউলি ও নাদিরা বলেন, নদীর দক্ষিণ পাড়ে একটি হাইস্কুল, একটি মাদ্রাসা ও একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় থাকায় প্রতিদিন তাদের মতো কয়েকশ’ শিক্ষাথী বহু কষ্টে বাঁশের সাঁকো পার হয়ে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে যাওয়া-আসা করেন। তাছাড়া হাটবাজারগুলিও ওপারেই। বাঁশের সাঁকোর পাটাতন অসমতল, দু’পাশে রেলিংও নেই। হাঁটার সময় কেমন যেন দুলতে থাকে! মাঝে মধ্যে নদীতে পড়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটে। তবে শুষ্ক মৌসুমে পানি কম থাকায় প্রাণহানী থেকে বেঁচে যান তারা।
সগুনা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান টি এম আব্দুল্লাহ হেল বাকি জানান, ব্রিজের অভাবে লাখো মানুষ বহুকাল ধরে ঝুঁকিতে আছেন। জীবনমান উন্নয়নেও পিছিয়ে তারা। ধামাইচ বাজার খেয়াঘাটে ব্রিজ নির্মাণ করা হলে এলাকার মানুষের দুর্ভোগ লাঘব হবে।
এ প্রসঙ্গে তাড়াশ উপজেলা প্রকৌশলী মো. রোকনুজ্জামান খান বলেন, প্রায় দু বছরের মতো হলো প্রাক্কলিত প্রকল্প জমা দেওয়া হয়েছে। অনুমোদন পেলে ধামাইচ বাজার খেয়াঘাটে ব্রিজ নির্মাণ করা সম্ভব।
চলনবিল বার্তা chalonbeelbarta.com