তাড়াশে বেপড়োয়া পুকুর খনন প্রশাসন অসহায়

Spread the love

স্টাফ রিপোর্টার : তাড়াশে বেপড়োয়া পুকুর খনন রুখতে প্রশাসন ব্যর্থ হচ্ছে – এমন অভিযোগ উঠেছে।। অবশ্য উপজেলা নির্বাহী অফিসার এ অভিযোগ অস্বীকার করে জনবল সংকটকে দায়ী করেছেন।

স্থানীয়রা বলছেন,প্রশাসনের এমন দ্বিচারিতায় একদিকে কমছে ফসলী জমি,অন্যদিকে সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা। খাল,নদী দখল করে পুকুরের পাড় করায় পানি প্রবাহের পথ বন্ধ হওয়ায় জলাবদ্ধতার কারণে এ বছর এ উপজেলায় সরিষার আবাদ নেমে এসেছে প্রায় শূণ্যের কোঠায়। সরিষার আবাদ না হওয়ায় কোটি টাকার মধূ আহরণও সম্ভব হয়নি। অথচ গত বছর এ উপজেলায় পাঁচ হাজার হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছিল। স্থানীয় কৃষি বিভাগ জানাচ্ছে , গত বছর বাড়তি ফসল হিসেবে সাত হাজার সাত শ মেট্রিক টন সরিষা পেয়েছিল কৃষক। যার আর্থিক মূল্য প্রায় ২৬ কোটি  ৯৫ লাখ টাকা। স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, ধানের দাম কম হওয়ায়, উৎপাদন খরচ তুলতে না পেরে পুকুর ঋণের দিকে ঝুঁকে পরে কৃষক। নিচু জমিতে পুকুর খনন করে মাছ চাষে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ায় গণহারে চলতে থাকে পুকুর খননের প্রতিযোগিতা। সরকারি অনুমতি ছাড়া পুকুর খনন বেআইনি হলেও স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করে প্রতি বছর শত শত পুকুর খনন অব্যাহত রয়েছে। কৃষি বিভাগের সূত্রমতে, গত এক দশকে এ উপজেলায় পুকুর খননের ফলে প্রায় পাঁচ শ হেক্টর কৃষি জমি কমেছে। যা বিভিন্ন ফসল উৎপাদনের ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

তাড়াশ উপজেলা কৃষি অফিস সূত্র জানায়, ২০১৩ সাল থেকে ২০১৮  সাল পর্যন্ত তাড়াশ উপজেলায় ৫১৫টি পুকুর খনন করা হয়। এ পুকুর খননের ফলে ৩১৫ হেক্টর আবাদী জমি কমে যায়। চলতি বছরেও এ উপজেলায় শতাধিক পুকুর খনন চলমান থাকলেও প্রশাসন রয়েছে নির্বিকার। স্থানীয় কয়েকটি সূত্র নিশ্চিত করেছে, উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে কর্মরত জারিকারক মো:মোসলেম উদ্দিন,দপ্তরী সানোয়ার হোসেন ও ড্রাইভার মো:আল মামুন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিসের মো: রহুল আমিন ও সদর তহশীলের পিয়ন মো: রাকিব, পুলিশের এ এস আই আল আমিন ও কতিপয় সাংবাদিক এসব খননকৃত পুকুরে গিয়ে নির্দিষ্ট অংকের টাকা দাবি করে। মিটলে তারা পুকুর খনন করতে পারেন। আর না মিটলে অভিযান চালিয়ে ধরে এনে মোটা অংকের টাকা জরিমানা করা হয়।

সম্প্রতি উপজেলার চকজয়কৃষ্ণপুর গ্রামের অবসর প্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক মো: আজিজল হক ক্ষোভের সাথে বলেন, এরা আমার কাছে টাকা দাবি করেছিল, না দেয়ায় আমার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। অথচ প্রতিদিন কি করে অসংখ্য পুকুর প্রকাশ্যে খনন করছে তা উপজেলা প্রশাসনই বলতে পারবে।

সূত্রমতে, তাড়াশ উপজেলার পুকুর খননকারী চক্রের মূলহোতা  আড়ঙ্গাইল গ্রামের জান মাহমুদ, শোলাপাড়া গ্রামের মুরশিদ ও আসাদ, সলঙ্গার নান্নু, কাউরাইলের আব্দুস সাত্তার,তাড়াশ পৌর এলাকার আমিন ও আব্দুল জলিল প্রতিটা পুকুর খননের জন্য  জমির মালিকদের কাছ থেকে প্রতি বিঘা জমি ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা করে নেন। তারাই সাধারণত: প্রশাসন,পুলিশ ও সাংবাদিকদের সাথে অর্থের বিনিময়ে চুক্তি করে পুকুর খনন করে।

জানতে চাওয়া হলে তাড়াশ থানার ওসি মো:মাহবুবুল আলম বলেন, আমি সদ্য যোগদান করেছি। খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ প্রসঙ্গে তাড়াশ উপজেলা ভারপ্রাপ্ত  নির্বাহী অফিসার মো:ওবায়দুল্লাহ বলেন, আমি একাই তিনটি পদের দায়িত্ব পালন করার করণে অনেক সময় সকল বিষয় দেখা সম্ভব হয় না। তা ছাড়া আমার জনবলের সংকটও রয়েছে। তবে যে অভিযোগ আপনাদের মাধ্যমে পেয়েছি, তা খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক ড. ফারুক আহম্মেদ বলেন, চলনবিল অঞ্চলে পুকুর খননের আলাদা নীতিমালা জরুরি। নিচু জমিতে জলাবদ্ধতার কারণে কৃষক পুকুর খনন করে লাভবান হওয়ার চেষ্টা করছেন। প্রশাসন বাধা দিয়েও বিশেষ কিছু করতে পারছে না।

Please follow and like us:
Pin Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Website Design, Developed & Hosted by ALL IT BD