তাড়াশের মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধা প্রাসঙ্গিক কথা

Spread the love

১৯৭১ সালে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে তথা মুক্তিযুদ্ধে দেশের অনেরক অঞ্চলের মতো তাড়াশের মানুষের অংশগ্রহণ ও অবদান অবিস্মরণীয় হয়ে আছে। এটা যে শুধু এলাকাবাসীর কৃতিত্বের স্বাক্ষর তাই নয়, তা জাতির জন্যেও গর্বের ও গৌরবের বিষয় বটে।

প্রথমে উল্লেখযোগ্য হলো তাড়াশের নওগাঁয় পাক হানাদার বাহিনীর সাথে ১১ই নভেম্বর আমাদের দামাল ছেলে মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মুখ যুদ্ধ এবং বিস্ময়কর বিজয়। এখানে তাড়াশের সহ চলনবিলের বিভিন্ন এলাকার বহু মুক্তিযোদ্ধা  সরাসরি অংশ নেয়। কিন্তু  এই নওগাঁ রণাঙ্গণকে সরকার কর্তৃক জাতীয়ভাবে আজও স্বীকৃতি দেয়া হয়নি যা দ্রুতই দেয়া দরকার। এখানে অংশগ্রহণকারী মুক্তিযোদ্ধাদের খেতাব ও সে অনুযায়ী সম্মাননা প্রদানের দাবীও এই এলাকার মুক্তিযোদ্ধাদের দীর্ঘদিনের। নওগাঁয় একটি মিনি মুক্তিযোদ্ধা যাদুঘর প্রতিষ্ঠা,একটি বহুমুখী কমপ্লেক্স নির্মাণ, এখানকার যোগাযোগ ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন, মুক্তিযুদ্ধ কর্ণার স্থাপন, এখানকার মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ও বিস্তারিত ইতিহাস প্রণয়ন এবং অংশগ্রহীতা মুক্তিযোদ্ধাদের একটি প্রকৃত তালিকা তৈরী ইত্যাদি করা খুবই জরুরী আবশ্যক।

অপরদিকে নওগাঁর অদুরে মাগুরাবিনোদ ইউনিয়নের চলনবিল অধ্যুষিত আমবাড়িয়া গ্রামে মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিকামী শহীদদের গণকবরও আজ  প্রায় চার যুগ যাবৎ অযতœ অবহেলায় পরে আছে। এই গণকবরের যথোপযুক্ত সংরক্ষণ ও উন্নয়ন কল্পে ওখানে যাতায়াতের রাস্তা সংস্কার, কবরস্থানে মাটিভরাট, সুরক্ষা প্রাচীর নির্মাণ এবং সর্বোপরি এখানে একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের দাবী উপজেলাবাসীর দীর্ঘকালের। একই সাথে এসব শহীদদের আত্মত্যাগের সবিস্তার কাহিনি সংরক্ষণেরও ব্যবস্থা করা গেলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য তা জানা সম্ভব হবে।

আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হলো, তাড়াশের বীরাঙ্গনা তালিকা তৈরীর উদ্যোগে এপর্যন্ত মাত্র তিন/চার জন বীরাঙ্গনার নাম সরকারী গেজেটে প্রকাশ পেয়েছে। কিন্তু আমরা মনে করি এই সংখ্যা অনেক বেশী হবে যদি এক্ষেত্রে সঠিক তথ্যানুসন্ধান ও গবেষণার নীরিখে মাঠ পর্যায়ে কাজ করা যায়। প্রয়োজনে কমিটি সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষের সহযোগীতা ও সমন্বয়ক্রমে প্রচেষ্টা চালিয়ে গেলে তাড়াশ উপজেলার বীরাঙ্গণার সংখ্যা আরো বাড়তে পারে তা নিশ্চিত বলা যায়। এক্ষেত্রে মৃত বীরাঙ্গনাদেরও তথ্য প্রমাণ ও রেকর্ডপত্র দেখে স্বীকৃতি দানের ব্যবস্থা করা উচিত।

সবশেষে আমরা মনে করি,তাড়াশে সরকারী তালিকাভূক্ত ভাতাভোগী সকল মুক্তিযোদ্ধাদের সম্ভব না হলেও নেতৃস্থানীয় এবং উল্লেখযোগ্য অবদান রাখা সিনিয়র মুক্তিযোদ্ধাদের জীবন-ইতিহাস লেখা ও তা প্রকাশিত হওয়া অত্যন্ত প্রয়োজন। একাজটি এখনই না করতে পারলে তাদের বয়স বাড়ার কারণে ভবিষ্যতে আর তা স¤ম্ভব না-ও হতে পারে। উক্ত বিষয়গুলিতে স্থানীয় সাংসদ, উপজেলা পরিষদ ও প্রশাসন, পৌর কর্তৃপক্ষ এবং ইউনিয়ন পরিষদসমূহ সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও নেতৃবৃন্দ সম্মিলিত সিদ্ধান্তের মাধ্যমে আশু কার্যকরী দৃষ্টি দেয়া আবশ্যক বলে সবাই মনে করেন।

Please follow and like us:
Pin Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Website Design, Developed & Hosted by ALL IT BD