বিশেষ প্রতিনিধিঃ সিরাজগঞ্জের তাড়াশে পৌরসভার উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. মুকুল হোসেনের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে পৌর সভার রাস্তা নির্মাণে ব্যাপক অনিয়ম করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন পৌরবাসী। তিন বছরেরও অধিক সময় ধরে তাড়াশ পৌরসভার একচ্ছত্র রাজত্ব করছেন প্রকৌশলী মুকুল হোসেন।
তাড়াশ গ্রামের নাসির উদ্দিন, জাভেদ আকন্দ, আনছের আলী, রাহুল সরকারসহ অনেকে বলেন, পৌর এলাকার মধ্যে যে কয়েকটি রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে অধিকাংশ রাস্তার কোথাও প্রসস্থ, কোথাও সরু। এমনও রাস্তা রয়েছে একটি ভ্যানের পাশ দিয়ে একজন মানুষ হেঁটে চলা দুষ্কর। মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে রাস্তাগুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
পৌর এলাকার আসানবাড়ী গ্রামের আলমগীর হোসেন ও শাহালম প্রামানিক বলেন, রাস্তার পাশে পৌরসভার সীমানার ফলক নির্মাণ করা হয়েছে। রাস্তা থেকে সামান্য উচ্চতায় গোল্ডেন স্টিলে লেখাগুলো খুলে নিয়ে গেছেন লোকজন। সীমানা ফলক নির্মাণে প্রকৌশলী মুকুল হোসেনের অদক্ষতাকে দুষছেন তারা।বিশেষ করে, তাড়াশ কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠ হেলিপ্যাড মাঠও বটে। ১৬ লাখ টাকা ব্যয় করে ইটের সলিং করা হয়েছিলো। ঈদগাহ মাঠে পুরাতন ইট রয়েছে ৭০ হাজারের মত। ইটগুলো পুরান হিসাবে বিক্রি করা হলে সাড়ে ৪ চার থেকে ৫ লাখ টাকায় বিক্রি করা যেত। অথচ, ১৬ লাখ টাকা নষ্ট করে ঈদগাহ মাঠে বালু ফেলে নতুন করে ইটের সোলিং করা হয়েছে। তাড়াশ পৌর শহরের কোথাও গাড়ি পার্কিংয়ের জায়গা নেই। অধিকাংশ গাড়ি ঈদগাহ মাঠের মধ্যে রেখে মালামাল আনলোড করা হয়। মালামাল বোঝাই ট্রাক ঢুকে পড়লেই ঈদগাহ মাঠের সলিং নষ্ট হয়ে যাবে। প্রকৌশলী মুকুল হোসেন যেমন এস্টিমেটে ঈদগাহ মাঠের কাজ করিয়েছেন, সরকারের টাকা জলে গেল।
অভিযোগ রয়েছে, পৌরসভার অবকাঠামো উন্নয়নের সকল কাজে ঠিকাদারের সাথে যোগসাজোশ রেখে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন প্রকৌশলী মুকুল হোসেন। তাড়াশ পৌরসভার উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. মুকুল হোসেন বলেন, তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ সত্য নয়। তবে কাজের কিছু ভুল হতে পারে। এ প্রসঙ্গে তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক নুসরাত জাহান বলেন, ইতোমধ্যে পৌরসভার অবকাঠামো নির্মাণ কাজের অভিযোগ ওঠায় তদন্ত হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পেলে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
চলনবিল বার্তা chalonbeelbarta.com