স্টাফ রিপোর্টার : “কাজির গরু কেতাবে আছে গোয়ালে নেই” এমনটি ঘটেছে সিরাজগঞ্জের তাড়াশে ২০১৮-২০১৯ অর্থ বছরের ১ম পর্যায়ের গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর) ৪৩টি প্রকল্পে। এডিপিসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় কাজ হয়ে যাওয়া প্রকল্পগুলোকে নতুন করে টিআরের বিশেষ অর্থ বরাদ্দে নামসর্বম্ব প্রকল্প দেখিয়ে সরকারী অর্থ লুট করা হয়েছে মর্মে অভিযোগ উঠেছে।
চলতি বছরের ৬মার্চ তাড়াশ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নূর মামুন ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইফ্ফাত জাহান এবং অধ্যাপক ডা: আব্দুল আজিজ এমপি’র স্বাক্ষরিত তালিকায় জানা যায়, টিআর ৪৩টি প্রকল্প বরাদ্দ দেওয়া হয়। তবে এসব প্রকল্পের বেশির ভাগ নামসর্বস্ব প্রকল্প ও এডিপিসহ অন্যান্য বরাদ্দের উন্নয়নকৃত প্রকল্পকে কাগজপত্রে হিসাব দেখিয়ে টিআর অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। নথিতে প্রকল্পের নাম থাকলেও বাস্তবে কোন প্রকল্পের কাজ হয়নি। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, টিআর প্রকল্পে জাহাঙ্গীর গাঁতী দেলবারের বাড়ি হতে কবরস্থান পর্যন্ত রাস্তা মেরামতে ৫০ হাজার টাকা, তাড়াশ রানীহাট রাস্তা সংলগ্ন বিনসাড়া আতাউরের বাড়ি হতে আলহাজ গাজী সাইদুর রহমানের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা মেরামতে ৫০ হাজার টাকা, পালাশী মাদ্রাসা ভরাটে ৫০ হাজার টাকা, কাজিপুর পূর্বপাড়া শাহেব আলীর বাড়ি হতে লইম উদ্দিনের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা মেরামতে ৫০ হাজার টাকা, বিনসাড়া-কুসুম্বি পাকা রাস্তায় লালমিয়ার বাড়ি হতে ঝিনাই গাড়ির পার পর্যন্ত রাস্তা মেরামতে ৫০ হাজার টাকা, কুসুম্বি আয়সা নাজাতুল্লাহ স্কুল এন্ড কলেজ উন্নয়নে ৫০ হাজার টাকা অর্থ বরাদ্দ দেওয়া থাকলেও বাস্তবে কোন প্রকার কাজ করা হয়নি।
কুসুম্বি আয়সা নাজাতুল্লাহ স্কুল এন্ড কলেজের কর্তৃপক্ষ বলেন, আমাদের প্রতিষ্ঠানের নামে বরাদ্দ আছে কি না এ বিষয়ে আমাদের জানা নাই। বিনসাড়া গ্রামের স্বেচ্ছাসেবকলীগের ওয়ার্ড সভাপতি শহীদুল ইসলাম বলেন, বিগত ৫ বছরের মধ্যেও এ রাস্তায় কোন মাটি বা মেরামত হয়নি। একই গ্রামের কুদ্দুস, জফের আলী, রবিউল ও ইব্রাহিম বলেন, রাস্তাটি আমাদের খুবই দরকার। পালাশী মাদ্রাসা কমিটির সভাপতি আব্দুল খালেক প্রতিবেদককে বলেন, উপজেলা চেয়ারম্যান ৩/৪ মাস আগে আমাদের ২০ হাজার টাকা দিয়েছে। জাহাঙ্গীরগাঁতী গ্রামের আওয়ামীলীগ নেতা আরিফুল ইসলাম বলেন, দেলবারের বাড়ি হতে কবরস্থান পর্যন্ত রাস্তা মেরামতে এবছর কাজ করা তো দুরের কথা ২/৩ বছরের মধ্যে এ রাস্তায় কোন প্রকার কাজ হয় নাই। এ প্রসঙ্গে উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা নূর মামুন বলেন, সকল প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। আমি তদারকি করে সভাপতিকে বিল প্রদান করেছি। তিনি আরও বলেন, এমপি মহোদ্বয়ের ভাই আবু সাইদ আপনাদের সাথে বসার কথা ছিল, বসে নাই। আপনারা এ ব্যাপারে তার সাথে যোগাযোগ করেন। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো: ওবায়দুল্লাহ বলেন, ওই সময় আমি দায়িত্বে ছিলাম না। তবে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ব্যাপারে মুঠোফোনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইফ্ফাত জাহান বলেন, প্রথম কিস্তির কাজ সমাপ্ত ও কাজ সন্তোষজনক মর্মে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার প্রস্তাবের ভিত্তিতে ২য় কিস্তির বরাদ্দ ছাড় করা হয়। তবে কাজের মান নিয়ে কোন প্রশ্ন উঠলে লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
চলনবিল বার্তা chalonbeelbarta.com