শরতের শোভা

Spread the love

এম.রহমত উল্লাহ

চির রূপসী সোনার বাংলার যেদিকে চোখ যায় সেদিকে রূপের ছড়াছড়ি। বার মাসে ছয়টি ঋতু যেন ছয় রঙ শাড়ী পড়া ষোরষী যবুতীর সবই আবির্ভূত হয়। চক্ষু খুলে তাকালে এক এক ঋতুতে এক এক মোহিনী রুপের ছটা আনন্দের ঢেউ বইয়ে দেয়। হৃদয়ের এই অনুভূতি ভোলার নয়।পৃথিবীর কোথাও এমন বৈচিত্র্যময় প্রাকৃতিক দৃশ্য চোখে পড়ার মত নয়। তাইতো বাংলার রূপের বণর্না এ দেশের রাখাল চাষী ,নায়ের মাঝি, বসন্তের কোকিল, প্রজাপতি, শরতের কলসি কোমল, সবাই মিলে গানের সুরে সুরে চিরদিন বাতাসে ছড়িয়ে চলেছে। ছয়টি ঝতুর মধ্যে বর্ষার ঝর ঝর বৃষ্টির শেষে শরৎ আসে সবুজ শাড়ীতে শাপলার হাসি ভরা রাতের তারা ভরা আকাশের অপরুপ রুপের উন্নাদনা নিয়ে । একবার এ দৃশ্য দেখলে চোখ ফিরাতে মন চায় না। টৈটুম্বুর জলে বিলঝিল দিঘি পুকুর ঝির ঝির উতুরী বাতাস জলতরঙ্গ বুকে নিয়ে খেলা করে সেই মনমুগ্ধকর দৃশ্য কার না ভাল লাগে। গ্রাম বাংলার ঘরে ঘরে মা বোনদের হাসি মাখা মুখ নকশী কাঁথার নানা বর্ণে নানা ঢংয়ের উজ্জল হয়ে ধরা দেয়।তখন সত্যিই মনে হয় বাংলা আমার কত সুন্দর। কত প্রীতির লতার মনের পাতায় জড়া জড়ি করছে। তাল পাটালী, তাল পিঠা, ঝি বউয়ের নাইওর যাত্রা, দূর্গা দেবীর আগমনী ঢোলের তালে নাচতে থাকে বাংলা আমার। রঙ্গিলা নৌকা বাইচের তালে তালে নাচন কত না মধুর।আকাশে সাদা মেঘের ভেলা, পাশে চিল-কূরার তাল ধরে পাখা মেলা বিলের কিনাওেৎর নদীর পাড়ে শ্বেত শাড়ী পড়া কাশ ফুলের মৃদু বাতাসে ঢলাঢলি মনকে পাগল করে তোলে। ওইতো ষোরষীর দল পাখির সোকের মতই কাশ বনে শুকিয়ে গেল। জেলে ডিঙি মাছ ধরায় ব্যস্ত-কত সুখ শরতে আহা ভাবতে বড়ই ভাল লাগে আর বলতে ইচ্ছা করে ‘আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালবাসি’।

Please follow and like us:
Pin Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Website Design, Developed & Hosted by ALL IT BD