গাজী সৈয়দ শুকুর মাহমুদ
কাবুলের কাবলিওয়ালা অথবা বিহারের চদ্রিরা কেউ বাংলা এলাকায় এসে বাঙালিদের কাছে বসত করছে নিজের আবাসে। দুশ্চরিত্র-লম্পট কোন এক বাঙালি কুকর্ম চরিতার্থে ঢুকেছে চদ্রির আবাসে। স্বামীর উপস্থিতিতেই বাঙালি ঢুকে পড়েছে সে ঘরে। কিন্তু স্বামী কিছুই বলছে না। লম্পট তার কুকর্ম শেষ করে বেরিয়ে যাচ্ছে। তখন স্বামী বলে উঠলো ধর সালাকো, তোর কি ঘরে বহু নাইরে? পরদিন সকালে চদ্রি গ্রাম্য বিচারকদের কাছে বিচার মাংতে গেছে। চদ্রি বিচারকের কাছে অভিযোগ করছে যে, এক বেটা বাঙালি হামকো ঘরে ঢুকে হামারা বহুকে কাম করিয়াছে, আমি তার বিচার মাংছি। বিচারক বলছে কোন বাঙালি তোমার ঘরে ঢুকে কি কাম করেছে বলো? চদ্রি বলল, ও বেটা বাঙালিকো হামি চিনি না, তবে ও বেটা বাঙালিই হবে। প্রথমে বেটা বাঙালি হামকো ঘরে ঢুকলো কিছুই কহিলাম না, দেখি বাঙালি বেটা কেয়া করে। তারপর সে হামকো বহুর কাছে গেলো। তবুও কিছু কহিলাম না, দেখি বাঙালি কিয়া করে। তারপর কাপড়া উঠালো কিছু কহিলাম না। তারপর কাম করিলো তবুও কিছু কহিলাম না, দেখি বাঙালি কিয়া করে। তারপর বাঙালি চলিয়া গেলো। তখন বলিলাম ধর সালাকো তোর কি ঘরে বহু নাই রে…? এ গল্পটি পুরানা গল্পের অনুগল্প হয়ে গেছে। আর আজ তা বাস্তবে প্রমাণিত হলো। খুলনা রেলওয়ে থানার জিআরপি পুলিশের ওসি সহ পাঁচ পুলিশ সদস্য যা করেছে।
খবরে প্রকাশ, গত ০২ আগস্ট ২০১৯ ইং তারিখ যশোরের বেনাপোল থেকে সুন্দরী গৃহবধু খুলনা অভিমুখি ট্রেনে উঠে যাত্রী আসনে বসেছে। রেলওয়ের নিরাপত্তা পুলিশের লোলুপ দৃষ্টি পড়ে ঐ গৃহবধুর উপর। তখন নিরাপত্তা পুলিশ মোবাইল চুরির নাটক সাজিয়ে গৃহবধুকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায় খুলনা রেলওয়ে থানা হাজতে। থানার ওসি সহ পাঁচ পুলিশ সদস্য ঐ গৃহবধুকে রাতভর ধর্ষণ করে। রেলওয়ে থানার ওসি ওসমান গণি পাঠান ধর্ষণে উদ্যত হলে গৃহবধু তাকে অনুরোধ করে জানায়, আমি একজনের বউ। আপনার কি ঘরে বউ নেই? ধরুন আমি আপনার মায়ের মত একজন নারী অথবা বোনের মত। ধরে নিন আমি আপনার মেয়ে। তখন পাষন্ড ওসি বলে, ধরে নিলাম তুমি আমার বউ এর মত। এ কথা বলে হাজতখানার মধ্যে জোরপূর্বক প্রথমে ঐ ওসি গৃহবধুকে ধর্ষণ করে, তারপর পালাক্রমে ওসি সহ পাঁচ পুলিশ সদস্য গৃহবধুকে ধর্ষণ করে। এ অপরাধকে আড়াল করতে সকালে পাঁচ বোতল ফেন্সিডিল দিয়ে গৃহবধুকে কোর্টে চালান করে। কোর্ট থেকে জেল হাজতে গিয়ে গৃহবধু আইনজীবির সহায়তায় আদালতে ঐ ওসি সহ পাঁচ পুলিশ সদস্যের নামে ধর্ষণ মামলা দায়ের করে। এ অভিযোগের প্রেক্ষিতে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জিআরপি পুলিশের ওসি ওসমান গণি পাঠানকে যথাযথ বিচার না করে ক্লোজ দেখিয়ে জামাই আদরে পাকশি জিআরপি থানায় বদলি করেছেন।
এই যদি হয় রেলওয়ের নিরাপত্তা কর্মীর কাজ তবে দেশের আইন শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার অবস্থা কোথায় যাচ্ছে। যারা আইনের রক্ষক, তারাই আইনের ভক্ষক! সেলুকাশ – বিচিত্র এ দেশ!
সব নিউজ দিতে প্রয়োজনে গল্প বাদ দিতে পারো
চলনবিল বার্তা chalonbeelbarta.com