শারদীয় দুর্গোৎসব ও প্রাসঙ্গিক কথা

Spread the love

সুজন কুমার মাল

হিন্দু সম্প্রদায়ের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গা পুজা । মূলতঃ ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান যা মহালয়া বা পিতৃপক্ষের দিন থেকে মূলত শারদীয় দুর্গা পূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। তবে এ দিনটির তাৎপর্য মূলত ধর্মীয় বিবেচনায় ভিন্ন। মহালয়ার তিথিকে পিতৃপক্ষও বলা হয়ে থাকে। এ দিনে পিতৃপক্ষের শেষ এবং দেবী পক্ষের শুরু হয়। এই মহালয়া তিথিতে যারা পিতৃ-মাতৃহীন তারা তাদের পূর্ব পুরুষের স্মরণ করেন; পূর্ব পুরুষের আতœার শান্তি কামনা করে অঞ্জলি প্রদান সহ নানা ধর্মীয় কার্যাদি পালন করেন। মহালয়াতে যারা গঙ্গায় অঞ্জলি প্রদান করেন পূর্ব পুরুষদের আত্মার শান্তির জন্য,তারা শুধু পূর্ব পুরুষদের নয় , পৃথিবীর সমগ্র কিছুর জন্য প্রার্থনা ও অঞ্জলি প্রদান করে তৃপ্ত হন।
পবিত্র রামায়ণ গ্রন্থে উল্লেখ আছে রাম চন্দ্রের স্ত্রী সতী সীতাকে হরণ করে নিয়ে গেছিলেন রাবণ। আর রাবণ ছিল মহা পরাক্রমশালী যোদ্ধা ও লংকা নামক রাজ্যের রাজা। পরবর্তীতে সীতাকে উদ্ধারের জন্য রাম চন্দ্র সমুদ্রে সেতুবন্ধন ও সমুদ্র তীরে অকাল বোধনের মাধ্যমে দেবী দুর্গার পুজার আয়োজন করেন। সেই পুজায় ১০৮ টি পদ্ম ফুলের মধ্যে ১টি ফুল দেবী দুর্গা হরণ করে ছিলেন রাম চন্দ্রের আত্মবিশ্বাস ভক্তির পরিক্ষা দেওয়ার জন্য। শেষ পর্যন্ত রাম চন্দ্র নিজের চক্ষু তীর দিয়ে তুলে দেবীর অর্ঘ্য দিতে প্রস্তুত হন। এমতাবস্থায় ওই তীরের ফলকে দেবী দুর্গা এসে উপস্থিত হন । পরে দেবী দুর্গা রামের সহায় হন । সেই রাম-রাবণের যুদ্ধে অবশেষে রাম চন্দ্র বিজয়ী হয়। সেই থেকে বিজয়াদশমী অর্থই আনন্দ উৎসব।
দুর্গাপূজা হল হিন্দু দেবী দুর্গার পূজাকে কেন্দ্র করে প্রচলিত একটি ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান। দুর্গাপূজা সমগ্র হিন্দু সমাজেই প্রচলিত। তবে বাঙালি হিন্দু সমাজে এটি অন্যতম বিশেষ ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসব। আশ্বিন মাসের শুক্লপক্ষের তিথিতে দুর্গাপূজা সম্পন্ন হয়ে থাকে। শরৎকালে আশ্বিন মাসের দুর্গাপূজা শারদীয়া দুর্গাপূজা এবং চৈত্র মাসের দুর্গাপূজাকে বাসন্তী দুর্গাপূজা নামে অভিহিত করা হয়। দুর্গাপূজা সাড়ম্বরে ভারত, বাংলাদেশ ও নেপাল সহ ভারতীয় উপমহাদেশ ও বিশ্বের একাধিক রাষ্ট্রে পালিত হয়ে থাকে। তবে বাঙালি হিন্দু সমাজের প্রধান ধর্মীয় উৎসব হওয়ার কারণে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা ও ঝাড়খন্ড রাজ্যে ও বাংলাদেশে দুর্গাপূজা বিশেষ জাঁক জমকের সঙ্গে পালিত হয়। এমনকি ভারতের আসাম, বিহার, ঝাড়খন্ড, মণিপুর এবং ওডিশা রাজ্যেও দুর্গাপূজা মহাসমারোহে পালিত হয়ে থাকে। সাধারণত আশ্বিন মাসের শুক্ল পক্ষের বোধনের ঘট স্থাপনের মধ্য দিয়ে পঞ্চমী থেকে দশম তিথি পর্যন্ত শারদীয়া দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়। এই পাঁচটি দিন যথাক্রমে ” পঞ্চমী, ষষ্ঠী”, “মহাসপ্তমী”, “মহাষ্টমী”, “মহানবমী” ও “বিজয়া দশমী” নামে পরিচিত। সপ্তমী তিথিতে সন্ধি পুজার আয়োজন করা হয়। মূলত এটি সপ্তমী ও অষ্টমী তিথির মধ্যে বিশেষ ক্ষণ। আবার অষ্টমী তিথিতে কুমারী পুজারও আয়োজন করা হয়। সাধারণত কুমারী মেয়ে যার ঋতুচক্র শুরু হয়নি এমন মেয়েকে দেবী সাঁজে সাজিয়ে মাতৃজ্ঞানে কুমারী পূজার আয়োজন করা হয়। আজও ঢাকার ঢাকেশ্বরী মন্দিরে কুমারী পুজা দেখতে হাজার হাজার দশনার্থী ভীড় জমিয়ে থাকেন।
দেবীপক্ষের সূচনার অমাবস্যাটির নামই মহালয়া, এই দিন হিন্দুরা তর্পণ করে তাঁদের পূর্ব পুরুষদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। দেবীপক্ষের শেষ দিনটি হল কোজাগরী পূর্ণিমা। এই দিন হিন্দু দেবী লক্ষীর পূজা করা হয়। কোথাও কোথাও পনেরো দিন ধরে দুর্গাপূজা পালিত হয়। সেক্ষেত্রে মহালয়ার আগের নবমী তিথিতে পূজা শুরু হয়। অবশ্য বাংলাদেশে বিজয়া দশমীতে সর্ব সাধারণের জন্য এক দিন এবং হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠনের পক্ষ থেকে ৩ দিন সরকারি ছুটি করার দাবী করে আসছে।
অতীত ইতিহাস থেকে জানা যায় ,এক সময়ে পারিবারিকভাবে দুর্গাপূজা প্রধানত ধনী পরিবার গুলিতেই আয়োজিত হতো। এছাড়া পারিবারিক দুর্গাপূজাগুলিতে শাস্ত্রাচার পালনের উপরেই বেশি জোর দেওয়া হয়। পূজা উপলক্ষে বাড়ীতে আত্মীয়দের সমাগম হয়ে থাকে। অন্যদিকে আঞ্চলিক স্তরে এক একটি অঞ্চলের বাসিন্দারা যৌথভাবে যে দুর্গাপূজার আয়োজন করেন তা বারোয়ারি পূজা বা সর্বজনীন পূজা নামে পরিচিত।
বর্তমান সময়ে মন্ডপ তৈরিতে শৈল্পিক নানা প্রচেষ্টা দেখা যায়। আলোকসজ্জায় প্রযুক্তির উন্নয়নের ধারা যোগ করেছে আশ্চর্য রকম বৈচিত্র্যময়। তারই অংশ হিসেবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সংগীত, নাটক, ঢাকের বাজনার প্রতিযোগীতা, ছবি আঁকা, নৃত্যকলা, শঙ্খধ্বনি আরও কত কী যুক্ত হয়েছে তা বলে শেষ করা যাবে না। এখন সর্বজনীন পূজায় “থিম” বা নির্দিষ্ট বিষয় ভিত্তিক মন্ডপ, প্রতিমা ও আলোকসজ্জার প্রবনতা দেখা যায়। থিম গুলির শ্রেষ্ঠত্ব বিচার করে বিভিন্ন সংস্থার পক্ষ থেকে “শারদ সম্মান” নামে বিশেষ পুরস্কারও দেওয়া হয়।
অতীতে দুর্গা প্রতিমার সাজসজ্জা ও ভাস্কর্য নির্মাণে পালদের যেমন শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের অলিখিত প্রতিযোগীতা ছিল, আজও তা সমানভাবে উজ্জ্বল। যদিও সাবেকি ধারার প্রতিমা তৈরির নিপুণতা, দক্ষতা, সৃজনশীলতা ও পরম্পরাকে স্মৃতিতে ধারণ করে আজও কাজ করে চলেছেন তারা প্রতিমা নির্মাণে। সিনেমা ও আধুনিক যুগের শিল্পীদের প্রভাবে দুর্গা প্রতিমার নতুন নতুন মুখভঙ্গির উপস্থাপন, অসুরের নাটকীয় আগমন ইত্যাদি পরিলক্ষিত হচ্ছে এপার-ওপার বাংলা দুই জায়গাতেই ক্লাব, সমিতি ও পূজা কমিটির উদ্ভাবনী চিন্তার কারণে। এছাড়া দুর্গা পুজার সময়ে প্রতিটি মন্ডপে সন্ধ্যা থেকে শুরু হয় ধুনচি বা ধূপ ও নারিকেলের ছোপলা জ্বালিয়ে ধূপতি নাচ। যেখানে প্রতিযোগী তার কলা কৌশলের মাধ্যমে ধূপতি না ভেঙ্গে নৃত্য পরিবেশন করেন। দুর্গা পূজা এখন শুধূ পূজা নয় বাঙ্গালী জাতির মিলন মেলাও বটে। জাতি,ধর্ম,বর্ণ শ্রেণী নির্বিশেষে সকলে মেতে ওঠেন শারদীয় দুর্গোৎসবে। দেবীর বিসর্জনের পর মহিলাদের সিঁদুর খেলা, একে অপরের বাড়িতে যায় শুভেচ্ছা বিনিময় করতে । প্রতিটি বাড়ির লোকজন যার যার সামর্থ্য অনুসারে আপ্যায়ন করেন সানন্দে। বিজয় দশমীর পরে ছোটরা বড়দের পায়ে প্রনাম করে তাতে বড়রা আর্শিবাদের পাশাপাশি কিছু আর্থিক উপহার দেওয়ার রেওয়াজও আজও চলমান আছে। পুজা উপলক্ষে এলাকায় মেলা বসে। সেখানে হরেক রকম মিষ্টান্ন খাবার, বড় বড় মাছ, মাটির তৈরী তৈজসপত্র বেচাকেনাও হয়। গৃহিনীরা সেখান থেকে তাদের নিত্য প্রয়োজনীয় মাটির হাড়ি,পাতিল,ঝাঁঝড়, তিল ঘষার যাতাঁ সহ নানা তৈজসপত্র সমূহ কেনেন। আবার শিশুদের মাটির তৈরীর খেলনার পাশাপাশি প্লাষ্টিকের তৈরী সামগ্রীও কেনা বেচা করেন দোকানীরা। পুজার পুর্ব থেকে পাড়ায় পাড়ায় চলে মন্ডপ সাজানোর প্রতিযোগীতা। শৈশবে দুর্গা পুজা নিয়ে অনেকের রয়েছে নানা স্মৃতি যেমনঃ দেবীর অঞ্জলী প্রদানের লক্ষ্য ফুলের মালা গাঁথা, নবমী তিথিতে নববস্ত্র বা নতুন পোষাক পরিধান করা।
বাংলাদেশে ফ্যাশন হাউসগুলো এবং পোশাক তৈরি ও বিপণন প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্গা পূজার উৎসবকে বছরের একটি লাভজনক ব্যবসার বিশেষ সময় হিসেবে বিবেচনা করছে এখন। বিশেষ রং, বিশেষ গল্প তৈরিতেও পিছিয়ে নেই প্রতিষ্ঠানগুলো। পূজার ৫ দিনই নতুন পোশাক পরার এবং নিজেকে অন্য রকমভাবে সাজানোর একটা আকাঙ্খা পোষণ করে সবাই নিজ নিজ সাধ ও সাধ্য অনুযায়ী, যা পূজার বেশ আগে থেকেই শুরু হয়ে যায়। মেয়েদের শাড়ী পরা, ছেলেদের ধুতি-পাঞ্জাবি কিংবা পাঞ্জাবি-পায়জামা পরার একান্ত ইচ্ছেটুকু দিনের বেলায় ধর্মীয় পরিপ্রেক্ষিতে। আবার সন্ধ্যায় পূজামন্ডপে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অথবা অন্য পূজামন্ডপগুলো ঘুরে ঘুরে দেখার সময় হাল ফ্যাশনের পোশাক পরতেও দেখা যায়। পুরুষেরা গায়ে উত্তরীয়ও পাশাপাশি দেবী দুর্গার মুখ ছবির গ্রাফিক্স করা ছাপা টি-শার্টের সঙ্গে সেখানে জিন্সের প্যান্ট পড়া এখন আর কেউ দৃষ্টিকটুভাবে দেখেন না। আবার এও জানা যায় , বেলুড় মঠ ,রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের বিভিন্ন শাখা সেবা আশ্রম সংঘের বিভিন্ন কেন্দ্রের সন্ন্যাসীরা দুর্গাপূজার আয়োজন করেন।
রাজা সুরথের গল্পটি সহ তিনটি গল্পের অবতরণিকা ও যোগসূত্র দুর্গাপুজাকে কেন্দ্র করে। সুরথ ছিলেন পৃথিবীর রাজা। সুশাসক ও যোদ্ধা হিসেবে তাঁর যথেষ্ট খ্যাতি ছিল। কিন্তু একবার এক যুদ্ধে এক যবন জাতির হাতে তাঁর পরাজয় ঘটে। সেই সুযোগে তাঁর মন্ত্রীসভা সদস্যরা তাঁর ধনসম্পদ ও সেনাবাহিনীর দখল নেন। সুরথ মনের দুঃখে বনে চলে আসেন। বনের মধ্যে ঘুরতে ঘুরতে তিনি মেধা নামে এক ঋষির আশ্রমে এসে উপস্থিত হন। মেধা রাজাকে সমাদর করে নিজের আশ্রমে আশ্রয় দেন। কিন্তু বনে থেকেও রাজার মনে সুখ ছিল না। সব সময় তিনি তাঁর হারানো রাজ্যের ভাল-মন্দের কথা ভেবে শঙ্কিত হতেন। এমন সময় একদিন বনের মধ্যে সুরথ সমাধি নামে এক বৈশ্যের দেখা পেলেন। তাঁর সঙ্গে কথা বলে সুরথ জানতে পারলেন, সমাধির স্ত্রী ও ছেলেরা তাঁর সব টাকা পয়সা ও বিষয় সম্পত্তি কেড়ে নিয়ে তাঁকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিয়েছে। কিন্তু তাও তিনি সব সময় নিজের স্ত্রী ও ছেলেদের কল্যাণ-অকল্যাণের কথা চিন্তা করে শঙ্কিত হন। তাঁদের মনে প্রশ্ন জাগল, যারা তাঁদের সব কিছু কেড়ে নিয়েছে, তাদের প্রতি তাঁদের রাগ হচ্ছে না কেন? কেনই বা তাঁরা সেই সব লোকেদের ভাল মন্দের কথা চিন্তা করে করে শঙ্কিত হচ্ছেন? দুজনে মেধা ঋষিকে এই কথা জিজ্ঞাসা করলে, ঋষি বললেন, পরমেশ্বরী মহামায়ার প্রভাবেই এমনটা হচ্ছে। সুরথ তাঁকে মহামায়ার কথা জিজ্ঞাসা করলে, তিনি একে একে তাঁকে তিনটি গল্প বলেন। এই গল্পগুলিই শ্রী শ্রী চন্ডীর মূল আলোচ্য বিষয়। বইয়ের শেষে দেখা যায়, মেধার গল্প শুনে সুরথ ও সমাধি নদীর তীরে তিন বছর কঠিন তপস্যা ও দুর্গাপূজা করলেন এবং শেষে দুর্গা তাঁদের দেখা দিয়ে সুরথকে হারানো রাজ্য ফিরিয়ে দিলেন এবং বৈশ্যকে তত্ত্ব জ্ঞান দিলেন। শ্রী শ্রী চন্ডী গ্রন্থে’ বর্ণিত দেবী দুর্গার কাহিনিগুলির মধ্যে সর্বাধিক জনপ্রিয় আবার গ্রন্থের মধ্যম চরিত্র বা দ্বিতীয় খন্ডে উল্লিখিত মহিষাসুর বধের কাহিনিটি। এই কাহিনি অনুসারে : পুরাকালে মহিষাসুর দেবগণকে একশতবর্ষব্যাপী এক যুদ্ধে পরাস্ত করে স্বর্গের অধিকার কেড়ে নিলে, বিতাড়িত দেবগণ প্রথমে প্রজাপতি ব্রক্ষা এবং পরে তাঁকে মুখপাত্র করে শিব ও নারায়ণের সমীপে উপস্থিত হলেন। মহিষাসুরের অত্যাচার কাহিনি শুনে করে তাঁরা উভয়েই অত্যন্ত ক্রোধান্বিত হলেন। সেই ক্রোধে তাঁদের মুখমন্ডল ভীষণাকার ধারণ করল। প্রথমে বিষ্ণু ও পরে শিব ও ব্রহ্মার মুখমন্ডল হতে এক মহাতেজ নির্গত হল। সেই সঙ্গে ইন্দ্রদেব অন্যান্য দেবতাদের দেহ থেকেও সুবিপুল তেজ নির্গত হয়ে সেই মহাতেজের সঙ্গে মিলিত হল। সু-উচ্চ হিমালয়ে স্থিত ঋষি কাত্যায়নের আশ্রমে সেই বিরাট তেজঃপুঞ্জ একত্রিত হয়ে এক নারীমূর্তি ধারণ করল। কাত্যায়নের আশ্রমে আবির্ভূত হওয়ায় এই দেবী কাত্যায়নী নামে অভিহিতা হলেন।
অন্য সূত্র থেকে জানা যায়, আশ্বিন মাসের কৃষ্ণা চতুর্দশী তিথিতে দেবী কাত্যায়নী আবির্ভূতা হয়েছিলেন, শুক্লা সপ্তমী, অষ্টমী ও নবমী তিথিতে কাত্যায়নী দেবীকে পূজা করা এবং দশমীতে দেবী মহিষাসুর বধ করেন। যাইহোক, ইনিই দুর্গা, বাঙালিরা এঁকে দশভূজারূপে পূজা করে থাকেন। এদিকে দেবী দুর্গার সাথে পুঁজিত ধন সম্পদের দেবী লক্ষী, বিদ্যার দেবী বাগেশ্বরী স্বরস্বতী, ব্যবসা বাণিজ্যের সিদ্ধিদাতা গণেশ, কার্তিক ও শক্তি, সৃষ্টির লয়ের দেবতা দেবাদিদেব মহাদেব। কলাগাছকে শাড়ী পড়িয়ে, বেল বরণ পুজার মাধ্যমে বন দুর্গারও আরাধনা করা হয়। দুর্গা পূজার আনন্দ ও হাসি খুশি মনোভাব তৃপ্তি ইচ্ছেগুলো শুধু একটি বিষয়েই আজ আর সীমাবদ্ধ নেই । সুতরাং দুর্গা পুজার আনন্দ উৎসব তার আপন মহিমায় সময়ের প্রেক্ষাপটে প্রতিনিয়ত নতুন ভঙ্গিতে চলমান। সার্বজনীন দুর্গাপূজা সবার জন্য দেশ ও জাতির সবার কল্যাণে এক মহা মিলনে পরিণত হোক। তাই আসুন দুর্গা উৎসবে সমবেতভাবে প্রার্থনা করি পৃথিবীর সকল সৃষ্টির জন্য। মঙ্গলময় হোক সকল মানুষের জীবন। দেশ মাতৃকায় শুভ কামনায় দুর্গাৎসব সকল ধর্ম বর্ণ শ্রেণী পেশার মানুষের জন্য বয়ে নিয়ে আসুক সুখ, শান্তি আর সমৃদ্ধি। এ প্রার্থনাই ।

সুজন কুমার মাল: তরুণ লেখক,তাড়াশ,সিরাজগঞ্জ।মোবাইল ০১৭৭২-৮১০৩৮৮

Please follow and like us:
Pin Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Website Design, Developed & Hosted by ALL IT BD