পানিশূন্য চলনবিল অনাহারে কাটছে জেলেদের জীবন

Spread the love

গুরুদাসপুর প্রতিনিধি: চলতি বর্ষা মওসুমে পানিশূন্যতায় ভুগছে দেশের বৃহত্তম বিল খ্যাত চলনবিলের জলাশয়গুলো। নেই তেমন বৃষ্টি। বিলে নেই মাছ। তাই অলস সময় পার করছে এ অঞ্চলের জেলেরা। অনাহারে অর্ধাহারে কাটছে তাদের জীবন।
শুকনো মওসুমে অন্যের জমিতে কাজ করে সংসার চলে জেলেদের। আর বর্ষা মওসুমে শুরু হয় তাদের মাছ ধরার কাজ। কিন্তু এবার বর্ষা মওসুমে বিলে পানি না আসায় তারা হতাশ। কারণ মাছ বিক্রি করেই ছেলেমেয়েদের লেখাপড়াসহ সংসারের যাবতীয় খরচ যোগাতে হয় তাদের।
এক সময় বর্ষা এলেই চলনবিলের জেলেরা বিভিন্ন সরঞ্জাম দিয়ে মাছ ধরায় মেতে থাকত। মিলত নানা জাতের ছোটবড় মাছ। সেই মাছ স্থানীয় বাজারের চাহিদা মিটিয়ে দেশ-বিদেশে রফতানি হতো। জেলেদের পরিবারপরিজন নিয়ে সচ্ছলভাবে দিন কাটত। কিন্তু এবারের বর্ষা মওসুমে প্রকৃতির বৈরী ভাব দেখে তাদের মুখে নেই হাসি। মহাসঙ্কটে চলছে তাদের সংসার। নেই কোনো সরকারি-বেসরকারি অনুদানও। নাটোর, সিরাজগঞ্জ ও পাবনা জেলা নিয়ে চলনবিল অঞ্চল গঠিত। বর্ষা এলেই চলনবিলের প্রাণকেন্দ্র নাটোরের গুরুদাসপুরে পানিতে ভরপুর খালবিলে মাছ ধরায় ব্যস্ত থাকে জেলেরা। থাকে মহা আনন্দে। ঝাঁকে ঝাঁকে বিভিন্ন জাতের মাছ ধরা পড়ে জেলেদের জালে। অথচ আজ আষাঢ় মাসের ২৩ দিন অতিবাহিত হলেও চলনবিলের খালবিলে পানিপ্রবাহ নেই মোটেই। তাই জেলেরা হতাশ হয়ে পানি আসার অপেক্ষায় বাড়িতে বসে অলস সময় কাটাচ্ছে।
গুরুদাসপুরের বিলসা গ্রামের জেলে আফজাল, ভাদু হোসেন বলেন, মাছ ধরেই চলে আমাদের জীবন জীবিকা। তাই বর্ষা শুরুর আগেই মাছ ধরার জন্য খেয়া জাল, জাকই জাল, ধুন্দি, চাঁই, দোয়ার, পলো, বর্ষিসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম তৈরি করে রেখেছি। অথচ বর্ষার মাস আষাঢ়ের শেষে এসেও বিলে পানি আসেনি। মৎস্যজীবি আবুল কালাম বলেন, ভরা বর্ষায় মাছ বাজারে মাছ না থাকায় আমাদের উপার্জনের পথ বন্ধ হয়ে গেছে। এ বিষয়ে গুরুদাসপুর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা আলমগীর কবীর জানান, দখল, দূষণ ও অপরিকল্পিতভাবে খালবিল ব্যবহার করায় আজ চলনবিলের এই অবস্থা। এখন পর্যন্ত বর্ষার পানির কোনো আনাগোনা না থাকায় চলনবিলের জেলেরা সঙ্কটের মুখে পড়েছে।

Please follow and like us:
Pin Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Website Design, Developed & Hosted by ALL IT BD