ফারুক আহমেদ: সিরাজগঞ্জ জেলার সলঙ্গার ধুবিল ইউপির ৩নং ওয়ার্ডে নইপাড়া ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা দীর্ঘ ২৯ বছর ধরে শিক্ষার্থীবিহীন পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। প্রতিষ্ঠার পর জাকঁজমকভাবে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিয়ে ত্রক সময় শ্রেণী কক্ষে পাঠদান শুরু হয়েছিল। কিন্তু ক্ষমতার পালা বদলের কারণে আজও প্রতিষ্ঠানটির ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয়নি।রায়গঞ্জ উপজেলায় শিক্ষার অনগ্রসর ত্রলাকা ধুবিল ইউনিয়ন। সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ্ব আব্দুল মান্নান তালুকদারের পৃষ্ঠপোষকতায় শিক্ষানুরাগী স্থানীয় ব্যক্তিবর্গ নইপাড়া ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগে নেন। সলঙ্গা থানার নইপাড়া কয়েক গ্রামের মধ্যস্থলে হওয়ায় নইপাড়া গ্রামের কয়েকটি রাস্তার মোড়ে ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসাটির স্থান নির্ধারণ করা হয়। মনোরম গ্রামীণ পরিবেশে গড়া মাদ্রাসার নামকরণ করা হয় নইপাড়া ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা ।
গত ১৯৯০ সালে প্রথম মাদ্রাসার নামে জমি, বাঁশ, কাঠসহ নগদ অর্থ সংগ্রহ শুরু করা হয়। নইপাড়া গ্রামের আব্দুল কাদের, আব্দুল মালেক, আব্দুর রাজ্জাক, সহিদুল ইসলাম, ও মোছাঃ ফরিদা বেগম, বনবাড়িয়া গ্রামের নূর মুহাম্মদ, জকজীবনপুর গ্রামের আব্দুল মান্নান, রজব আলী, বাশিদেবপুর গ্রামের জিয়া, চকনিহাল গ্রামের সহকারী সুপার আবুল কালাম, সুপার শাহাআলমসহ প্রায় ১৬ জন ব্যক্তি মাদ্রাসার নামে ৩ বিঘা জমি দান করেন। গত ১৯৯০ সালে জানুয়ারী মাসের ত্রক তারিখে তৎকালীন সংসদ সদস্য জনাব আলহাজ্ব আব্দুল মান্নান তালুকদার আনুষ্ঠানিকভাবে মাদ্রসার ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন। ত্ররপর মাদ্রাসার ঘর, চেয়ার, বেঞ্চসহ অবকাঠামোগত কাজ চলতে থাকে। ওই সময় রাজনৈতিক ক্ষমতার পালা বদল হয়। সেই সাথে ঝিমিয়ে পড়ে মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠার কার্যক্রম। এ অবস্থায় শিক্ষক/ শিক্ষিকার মনোবল নষ্ট হতে থাকে। ত্রতে ছাত্র-ছাত্রীদের উপস্থিতি হ্রাস পেতে থাকে। ত্রছাড়া ভয়াবহ বন্যায় সদ্য তৈরী টিনের ঘরগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। প্রায় দীর্ঘ কয়েক বছর পর জেলা পরিষদের অর্থায়নে ক্ষতিগ্রস্ত টিনের ঘর মেরামত সহ আধাপাকা আরো ত্রকটি ঘর ও ল্যাট্রিন নির্মাণ করা হয়।
মাদ্রাসাটির প্রতিষ্ঠালগ্নে সরকারি বেসরকারিভাবে প্রায় ৫ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে বলে জানান ঐ মাদ্রাসার শিক্ষক সহিদুল ইসলাম। মাদ্রাসাটির পরিচালনা কমিটি গঠনসহ কয়েক জনকে শিক্ষক হিসেবে মনোনিত করা হয়। তাদের মাধ্যমে মাদ্রাসার অবকাঠামো কার্যক্রম চললেও শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়েছিল প্রচুর। তখন পাঠদানের অনুমোদন চেয়ে মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়েছিল। মূলত পাঠদানের অনুমতি না পাওয়ায় ছাত্র-ছাত্রীদের আর ধরে রাখা যায়নি। দীর্ঘ ২৫ ধরে মাদ্রাসার ঘরগুলো পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে আছে। সংস্কার অভাবে শিক্ষার আলো বঞ্চিত মাদ্রাসার অবকাঠামো ধীরে ধীরে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। মনোরম পরিবেশে গড়ে তোলা মাদ্রাসার এখন জানাযার মাঠে পরিণত হয়েছে। মাদ্রাসার পরিত্যক্ত ঘরে শিক্ষার্থীর পরিবর্তে গ্রামের উঠতি বয়সের ছেলেরা খেলাধুলা করছে। ত্রছাড়া মাদ্রাসার মাঠটি ত্রখন হয়েছে গোচারণের ক্ষেত্র। ধুবিল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাছান ইমাম( সহন) তালুকদার বলেন, ত্রইরুপ সন্দর দাখিল মাদ্রাসা শিক্ষার উন্নয়নে ত্রলাকায় প্রয়োজন। সেই আশা আকাংখা নিয়ে মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। নানা জটিলতার কারণে মাদ্রাসাটির ত্রকাডেমি স্বীকৃতি না পাওয়ায় সকল কার্যক্রম ঝিমিয়ে পড়েছে।
চলনবিল বার্তা chalonbeelbarta.com