রায়গঞ্জ প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার ঘুড়কা ইউনিয়নের মোরদিয়া গ্রামের জনৈক প্রভাবশালী ব্যক্তি কর্তৃক উক্ত গ্রামের একমাত্র পানি নিস্কাশনের জোলা অবৈধ দখলের কারণে এলাকার জল নিস্কাশন বাধাপ্রাপ্ত সহ কৃষি ফসল আবাদে ও যাতায়াত ক্ষেত্রে বিরাট সমস্যা দেখা দিয়েছে।
গ্রামবাসীর অভিযোগে জানা গেছে, উপজেলার ৭৮ নং জেএলভূক্ত মোরদিয়া মৌজার আরএস ১ নং খাস খতিয়ানের ১২৬ দাগের জোলা শ্রেণির ভূমি মোরদিয়া গ্রামের জনৈক ভূমিদুস্য কর্তৃক দীর্ঘ দিন যাবত গ্রাস করার গভীর ষড়যন্ত্র ও অপচেষ্টা চলছে। এ ব্যাপারে উক্ত গ্রামের ৫০ জন অভিযোগকারী কর্তৃক বিভিন্ন সরকারী দপ্তরে প্রেরিত অভিযোগপত্রে দেখা যায়, উল্লেখিত মৌজার আরএস ১২৬ দাগের সাকুল্য ১.৯৫একর কাতে ১.০৮একর ভূমি আরএস ১নং খাস খতিয়ানভূক্ত ”জোলা”। অভিযোগকারীগণ কর্তৃক সরবরাহকৃত কাগজপত্রে দেখা এবং তাদের বক্তব্যে জানা যায় যে, মোরদিয়া গ্রামের মৃত দেবেন্দ্রনাথ রায়ের পুত্র প্রভাবশালী ভূমিদস্যূ শ্রী অনিল চন্দ্র রায় তার নামে ভূয়া ও জালজালিয়াতী কাগজপত্র তৈরী করে ঘুড়কা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের যোগসাজশে উক্ত খাস খতিয়ানভূক্ত আরএস ১২৬ দাগের ১.০৮ একর কাতে ১.০৪একর জোলা ভূমি নিজ নামে ২২২২/২০১৭-০২১৮ নামজারী কেস মঞ্জুর হয়। উক্ত নামজারী কেসের কাগজ দিয়ে তিনি উক্ত ভূমি আত্বসাতের নিমিত্তে অবৈধভাবে দখলে রাখার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছেন। এর ফলে প্রায় ৫শত বিঘা জমির জল নিস্কাশন বাধাপ্রাপ্ত , জলাবদ্ধতার সম্ভাবনা এবং এলাকাবাসীর যাতায়াতে অসুবিধা সৃষ্টি হয়েছে। এতে মোরদিয়া গ্রামসহ অত্র এলাকার জনমনে অসন্তোষ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে, এমনকি সংঘর্ষের আশংকা করা হচ্ছে। উক্ত খাস জোলাভূমি রক্ষার্থে অভিযোগকারীগণ ভূমি দস্যু অনিল চন্দ্র রায়ের নামে মঞ্জুরকৃত নামজারী কেস বাতিলের জন্য ইতোমধ্যে সহকারী কমিশনার (ভূমি) , রায়গঞ্জ, সিরাজগঞ্জ বরাবরে আবেদন করেছেন। অভিযোগকারীগণের অন্যতম একই গ্রামের সঞ্জয় সরকার জানান যে, অনিল চন্দ্র রায় ভূয়া, জাল ও অকার্যকর কাগজপত্র তৈরী করে খাস জোলাভূমি আত্মসাতের অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। এজন্য গ্রামবাসীগণ অনীলের নামে মঞ্জুরকৃত নামজারী কেস বাতিলের জন্য আবেদন করেছে।
এব্যাপারে দেওভোগ পূর্বপাড়া গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত প্রাথমিক শিক্ষক অনিল মাষ্টার বলেন, উপরোক্ত জোলামাঠে আমাদেরও জমি আছে। তবে অবৈধ দখলদারের স্বত্ব কায়েম হলে আমার জমিসহ অত্র এলাকার কয়েকশ’ একর জমির পানি নিস্কাশন সম্পূর্ণ ব্যাহত হবে। এছাড়া মোড়দিয়া, দেওভোগ, হারনি ও লাঙ্গলমোড়া গ্রামাঞ্চলের শত শত মানুষের পশ্চিম দিকে যোগাযোগের সুবিধার্থে এই জোলার উপর ইতোপূর্বে নির্মিত কালভার্ট ও রাস্তাপথ বন্ধ হওয়ার কারণে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ নেমে আসবে। কারণ ওই জলাপথ তাড়াশ-ভূইয়াগাঁতী আঞ্চলিক পাকা সড়কের সাথে এসব গ্রামের মানুষের চলাচলের রাস্তার সংযোগ ঘটিয়েছে এবং একই সাথে এলাকার মাঠের পানি এ জোলা দিয়ে দৌভোগ নদীতে নিস্কাশিত হয়ে থাকে। তাই অবিলম্বে আইন ও নিয়মানুযায়ী বেআইনী দখলদারের হাত থেকে খাস ও জোলা ভূমি রক্ষার্থে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন যথাযথ জরুরী পদক্ষেপ নিবেন বলে এলাকাবাসী আশা করেন।
চলনবিল বার্তা chalonbeelbarta.com