যৌনপল্লী বন্ধের পাশাপাশি চাই মানবিক পুনর্বাসন

Spread the love
মুফতি খোন্দকার আমিনুল ইসলাম আবদুল্লাহ হাফিযাহুল্লাহ
লেখক, দাঈ, তরুণ আলোচক ও গবেষক
একটি দেশের উন্নয়ন শুধু উঁচু ভবন, প্রশস্ত সড়ক, সেতু, বিদ্যুৎকেন্দ্র কিংবা বড় বড় অর্থনৈতিক প্রকল্পের মাধ্যমে পরিমাপ করা যায় না। একটি দেশের প্রকৃত উন্নয়নের অন্যতম মানদণ্ড হলো—সেই দেশের মানুষ কতটা নিরাপদ, পরিবারগুলো কতটা সুস্থ, তরুণ প্রজন্ম কতটা নৈতিক এবং সমাজের অসহায় মানুষগুলো কতটা মর্যাদার সঙ্গে জীবনযাপন করার সুযোগ পাচ্ছে।
এই দৃষ্টিকোণ থেকে তাকালে আমাদের সমাজের কিছু বাস্তবতা গভীরভাবে ভাবিয়ে তোলে। যৌনপল্লী, মাদক, জুয়া, মানবপাচার, নারী নির্যাতন, অশ্লীলতা এবং নানা ধরনের অপরাধের বিস্তার কোনো সভ্য ও মানবিক সমাজের জন্য গর্বের বিষয় হতে পারে না। এগুলো শুধু ব্যক্তির নৈতিক অবক্ষয়ের প্রশ্ন নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে পরিবার, অর্থনীতি, জনস্বাস্থ্য, আইনশৃঙ্খলা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপত্তা।
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া যৌনপল্লী বাংলাদেশের সবচেয়ে আলোচিত যৌনপল্লীগুলোর একটি। দীর্ঘদিন ধরে এটি দেশের সামাজিক বাস্তবতার একটি বিতর্কিত ও স্পর্শকাতর অংশ হিসেবে আলোচনায় রয়েছে। কিন্তু এ বিষয়টি নিয়ে কথা বলার সময় শুধু যৌনতার দৃশ্যমান দিকটি দেখলে চলবে না। এর পেছনে থাকা দারিদ্র্য, অসহায়ত্ব, প্রতারণা, মানবপাচার, শোষণ, মাদক, স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং সামাজিক বঞ্চনার বিষয়গুলোও সামনে আনতে হবে।
কারণ একজন নারী কীভাবে এই জীবনে প্রবেশ করলেন—এই প্রশ্নটিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
কেউ হয়তো দারিদ্র্যের কারণে, কেউ প্রতারণার শিকার হয়ে, কেউ পাচারের মাধ্যমে, কেউ পারিবারিক সংকটে এবং কেউ হয়তো জীবনের কোনো এক পর্যায়ে এমন পরিস্থিতিতে আটকে গেছেন, যেখান থেকে বেরিয়ে আসার পথ তিনি দেখতে পাচ্ছেন না। প্রত্যেকের গল্প এক নয়। তাই সবাইকে একই দৃষ্টিতে বিচার করাও ন্যায়সংগত নয়।
ইসলাম ব্যভিচার ও অবৈধ যৌনসম্পর্ককে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করেছে। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমরা ব্যভিচারের কাছেও যেয়ো না। নিশ্চয়ই তা অশ্লীল এবং নিকৃষ্ট পথ।’ এই নির্দেশনা শুধু একটি অপরাধ থেকে বিরত থাকার আহ্বান নয়; বরং এমন সব পথ থেকে দূরে থাকার শিক্ষা, যা মানুষকে অশ্লীলতা ও নৈতিক অধঃপতনের দিকে নিয়ে যায়।
তবে একটি সামাজিক সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে শুধু নিষেধাজ্ঞা উচ্চারণ করলেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। প্রয়োজন বাস্তবসম্মত ও দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ।
আমরা যদি চাই যৌনপল্লীগুলো একদিন বন্ধ হোক, তাহলে প্রথমেই ভাবতে হবে—সেখানে থাকা মানুষগুলোর ভবিষ্যৎ কী?
একজন নারী যদি এই পেশা থেকে বেরিয়ে আসতে চান, তার সামনে কি বিকল্প জীবিকার ব্যবস্থা আছে?
তিনি কি কারিগরি প্রশিক্ষণ পাবেন?
তিনি কি কোনো ক্ষুদ্র ব্যবসা শুরু করার সুযোগ পাবেন?
তার সন্তানদের শিক্ষার দায়িত্ব কে নেবে?
তিনি যদি সমাজে ফিরে আসেন, সমাজ কি তাকে গ্রহণ করবে?
এই প্রশ্নগুলোর উত্তর না দিয়ে শুধু ‘বন্ধ করে দিতে হবে’ বলা সহজ; কিন্তু বাস্তব সমাধান তৈরি করা কঠিন।
রাষ্ট্রের উচিত যৌনপল্লীগুলোকে ঘিরে একটি সুসংগঠিত পুনর্বাসন নীতি গ্রহণ করা। যারা এই জীবন থেকে বেরিয়ে আসতে চান, তাদের জন্য দক্ষতা উন্নয়ন, কারিগরি প্রশিক্ষণ, ক্ষুদ্র ঋণ বা উদ্যোক্তা সহায়তা, নিরাপদ আবাসন, চিকিৎসা ও মানসিক সহায়তা এবং সন্তানদের শিক্ষার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। স্থানীয় প্রশাসন, সমাজসেবা অধিদপ্তর, বেসরকারি সংস্থা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং মানবিক সংগঠনগুলো সমন্বিতভাবে এ কাজে অংশ নিতে পারে।
একই সঙ্গে যারা মানবপাচার, প্রতারণা, জোরপূর্বক যৌন শোষণ, মাদক ব্যবসা কিংবা অপরাধী চক্রের মাধ্যমে এই অন্ধকারকে টিকিয়ে রাখে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
এখানে একটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ—নারীকে অপমান করে কোনো সমাজ তার নৈতিক উন্নতি করতে পারে না।
আমরা যদি একজন যৌনকর্মীকে শুধু ‘পাপী’ বলে দূরে ঠেলে দিই, কিন্তু তাকে সম্মানজনক জীবনে ফিরে আসার সুযোগ না দিই, তাহলে আমাদের দায়িত্ব কোথায়?
নৈতিকতার শিক্ষা অবশ্যই দিতে হবে। হারামকে হারাম বলতে হবে। অশ্লীলতার বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে হবে। কিন্তু একই সঙ্গে মানুষকে সংশোধনের সুযোগও দিতে হবে। কারণ ইসলামের শিক্ষা মানুষকে পাপ থেকে দূরে থাকতে বলে, আবার তওবা ও সংশোধনের দরজাও খুলে দেয়।
এই জায়গায় আলেমসমাজের দায়িত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
দেশে বছরের পর বছর অসংখ্য ওয়াজ মাহফিল, ইসলামী সম্মেলন, তাবলিগ, দাওয়াতি কার্যক্রম এবং ধর্মীয় শিক্ষা পরিচালিত হয়ে আসছে। সমাজে অপরাধ এখনো আছে—এ কারণে অতীতের সব ওয়াজ-মাহফিলকে ব্যর্থ বলে দেওয়া যুক্তিসংগত নয়।
একটি ওয়াজের প্রভাব সবসময় পরিসংখ্যানে ধরা পড়ে না।
একজন যুবক হয়তো কোনো এক বক্তার কথা শুনে মাদক ছেড়েছেন। একজন বাবা হয়তো সন্তানের প্রতি নির্যাতন বন্ধ করেছেন। কোনো স্বামী হয়তো স্ত্রীর অধিকার সম্পর্কে সচেতন হয়েছেন। কোনো মানুষ হয়তো হারাম উপার্জন ছেড়ে হালাল পথে ফিরে এসেছেন। কোনো তরুণ হয়তো অশ্লীলতা থেকে নিজেকে দূরে রেখেছেন।
এসব পরিবর্তনের কোনো পূর্ণাঙ্গ হিসাব হয়তো আমাদের হাতে নেই। তাই ধর্মীয় দাওয়াতকে ব্যর্থ ঘোষণা করার পরিবর্তে আমাদের উচিত দাওয়াতকে আরও ব্যাপক, বাস্তবমুখী ও সমাজসচেতন করা।
ওয়াজের মঞ্চ থেকে নামাজের গুরুত্ব নিয়ে যেমন কথা বলতে হবে, তেমনি মাদক নিয়েও কথা বলতে হবে।
রোজার ফজিলত যেমন বলতে হবে, তেমনি মাদকাসক্ত তরুণকে কীভাবে চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের মাধ্যমে সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে আনা যায়, সে বিষয়েও সমাজকে সচেতন করতে হবে।
পরিবারের অধিকার যেমন আলোচনা করতে হবে, তেমনি নারী নির্যাতন ও পারিবারিক সহিংসতার বিরুদ্ধেও অবস্থান নিতে হবে।
ব্যভিচারের ভয়াবহতা যেমন তুলে ধরতে হবে, তেমনি মানবপাচারের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
কারণ ধর্মীয় দাওয়াত মানুষের জীবনের বাইরে কোনো বিচ্ছিন্ন বিষয় নয়। মানুষের জীবন, পরিবার, সমাজ ও নৈতিকতার সঙ্গে দ্বীনের গভীর সম্পর্ক রয়েছে।
তবে ধর্মীয় বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রেও আমাদের দায়িত্বশীল হতে হবে।
সমাজে অন্যায় ও গুনাহ বিদ্যমান থাকার কারণে কারও নামাজ, রোজা, হজ বা অন্য কোনো নেক আমল কবুল হবে না—এমন সার্বজনীন সিদ্ধান্ত দেওয়া ঠিক নয়। কোনো আমল কবুল হয়েছে কি না, তার চূড়ান্ত জ্ঞান আল্লাহ তাআলার কাছে। মানুষের দায়িত্ব হলো নিজের আমল সংশোধন করা, অন্যায় থেকে বিরত থাকা এবং সমাজকে ভালো পথে আহ্বান করা।
আমাদের তাই একটি ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান প্রয়োজন।
ইবাদতও চলবে, দাওয়াতও চলবে, আত্মশুদ্ধিও চলবে; পাশাপাশি সমাজের অন্যায়, অশ্লীলতা, মাদক, জুয়া, মানবপাচার ও শোষণের বিরুদ্ধেও কার্যকর উদ্যোগ চলবে।
শুধু সরকারের দিকে তাকিয়ে থাকলেও হবে না।
পরিবারকে সন্তানদের নৈতিক শিক্ষা দিতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে চরিত্র গঠনের দিকে গুরুত্ব দিতে হবে। আলেমদের সমাজের বাস্তব সমস্যা নিয়ে কথা বলতে হবে। গণমাধ্যমকে দায়িত্বশীলভাবে এসব বিষয় তুলে ধরতে হবে। সামাজিক সংগঠনগুলোকে পুনর্বাসন ও সচেতনতার কাজে এগিয়ে আসতে হবে।
আর রাষ্ট্রকে নিতে হবে সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা।
আইন প্রয়োগের পাশাপাশি প্রয়োজন তথ্যভিত্তিক নীতি। কোথায় মানবপাচার হচ্ছে, কোথায় শিশু ও কিশোরীরা ঝুঁকিতে রয়েছে, কোথায় মাদক ও অপরাধচক্র সক্রিয়—এসব শনাক্ত করে সমন্বিতভাবে ব্যবস্থা নিতে হবে।
বিশেষ করে শিশু ও অপ্রাপ্তবয়স্কদের সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। কোনো শিশু যেন যৌন শোষণ, পাচার বা মাদকের পরিবেশে বেড়ে উঠতে বাধ্য না হয়—এটি রাষ্ট্র ও সমাজের সম্মিলিত দায়িত্ব।
আর যারা এই পেশা ছেড়ে নতুন জীবন শুরু করতে চান, তাদের প্রতি সমাজের আচরণও পরিবর্তন করতে হবে। পুনর্বাসনের পরও যদি আমরা তাদের অতীত পরিচয় দিয়ে অপমান করি, তাহলে তারা আবার পুরোনো জীবনে ফিরে যাওয়ার ঝুঁকিতে পড়তে পারেন।
তাই পুনর্বাসন মানে শুধু একটি ঘর বা একটি চাকরি দেওয়া নয়। পুনর্বাসন মানে একজন মানুষকে আত্মমর্যাদা ফিরিয়ে দেওয়া।
একজন নারী যেন বলতে পারেন—‘আমি আমার অতীত বদলাতে পারিনি, কিন্তু আমার ভবিষ্যৎ বদলাতে পারি।’
একজন মা যেন তার সন্তানকে বলতে পারেন—‘তুমি আমার মতো পরিস্থিতির শিকার হবে না।’
একটি শিশু যেন যৌনপল্লীর অন্ধকার থেকে বেরিয়ে এসে বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে বসতে পারে।
একজন তরুণ যেন মাদকের আড্ডা ছেড়ে কর্মসংস্থানের পথে হাঁটতে পারে।
এটাই হওয়া উচিত আমাদের সামাজিক আন্দোলনের লক্ষ্য।
আমরা এমন বাংলাদেশ চাই না, যেখানে অন্ধকারকে শুধু আড়াল করা হবে। আমরা এমন বাংলাদেশ চাই, যেখানে অন্ধকারের উৎস বন্ধ করার পাশাপাশি অন্ধকারে আটকে থাকা মানুষগুলোকেও আলোয় ফিরে আসার সুযোগ দেওয়া হবে।
যৌনপল্লীর বিস্তার বন্ধ করতে হবে—কিন্তু তার সঙ্গে মানবিক পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে হবে।
মাদক বন্ধ করতে হবে—কিন্তু মাদকাসক্তদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থাও করতে হবে।
মানবপাচার বন্ধ করতে হবে—কিন্তু পাচারের শিকার মানুষদের নিরাপত্তা ও পুনর্বাসনও নিশ্চিত করতে হবে।
অশ্লীলতার বিরুদ্ধে কথা বলতে হবে—কিন্তু পরিবার ও তরুণদের জন্য সুস্থ সংস্কৃতি ও ইতিবাচক বিনোদনের পরিবেশও তৈরি করতে হবে।
কারণ শুধু নিষেধাজ্ঞা দিয়ে একটি সমাজকে সুন্দর করা যায় না। প্রয়োজন শিক্ষা, নৈতিকতা, কর্মসংস্থান, আইন, সামাজিক সচেতনতা এবং মানবিকতার সমন্বিত প্রয়াস।
আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত কাউকে অপমান করা নয়; মানুষকে পতনের পথ থেকে ফিরিয়ে আনা।
আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত শুধু অপরাধী খোঁজা নয়; অপরাধের শিকড়ও খুঁজে বের করা।
আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত শুধু অন্ধকারের বিরুদ্ধে কথা বলা নয়; মানুষের জীবনে আলো পৌঁছে দেওয়া।
একটি যৌনপল্লী, একটি মাদকের আসর কিংবা একটি অপরাধচক্র রাতারাতি তৈরি হয় না। এর পেছনে থাকে নানা সামাজিক ও অর্থনৈতিক কারণ। তাই এর সমাধানও একদিনে হবে না।
কিন্তু শুরু তো করতে হবে।
আজ যদি আমরা একটি অসহায় নারীকে নতুন জীবনের সুযোগ দিতে পারি, একটি শিশুকে নিরাপদ পরিবেশে ফিরিয়ে আনতে পারি, একজন মাদকাসক্ত তরুণকে সুস্থ জীবনে ফেরাতে পারি—তাহলেই পরিবর্তনের পথ তৈরি হবে।
রাষ্ট্রকে এগিয়ে আসতে হবে।
আলেমসমাজকে এগিয়ে আসতে হবে।
শিক্ষিত সমাজকে এগিয়ে আসতে হবে।
গণমাধ্যমকে দায়িত্বশীল ভূমিকা নিতে হবে।
সামাজিক সংগঠনগুলোকে পাশে দাঁড়াতে হবে।
সবচেয়ে বড় কথা, আমাদের প্রত্যেককে নিজের জায়গা থেকে দায়িত্ব নিতে হবে।
কারণ অন্ধকারকে শুধু অভিশাপ দিলে অন্ধকার দূর হয় না।
আলো জ্বালাতে হয়।
আর একটি মানুষকে অন্ধকার থেকে আলোয় ফিরিয়ে আনা কখনোই ছোট কোনো কাজ নয়। হয়তো সেই একজন মানুষই আগামী দিনে একটি পরিবারকে বদলে দেবে, একটি প্রজন্মকে রক্ষা করবে এবং একটি সমাজকে নতুন পথে নিয়ে যাবে।
আমরা যৌনপল্লী, মাদক, জুয়া, মানবপাচার ও অশ্লীলতামুক্ত একটি নিরাপদ সমাজ চাই।
তবে সেই সমাজ গড়ার পথে আমাদের স্লোগান হোক—
অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোরতা, মানুষের প্রতি মানবিকতা;
অন্ধকার বন্ধের পাশাপাশি আলোর পথও উন্মুক্ত করা।
লেখক দাঈ ও গবেষক 
Please follow and like us:
Pin Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Website Design, Developed & Hosted by ALL IT BD