তিন বছর পরও মানুষের হৃদয়ে অমলিন আব্দুল কুদ্দুস

Spread the love

গুরুদাসপুর (নাটোর) প্রতিনিধি:
চলনবিলের মাটি ও মানুষের জীবন থেকে উঠে এসে জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করেছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক মো. আব্দুল কুদ্দুস। মৃত্যুর তিন বছর পরও গুরুদাসপুর-বড়াইগ্রামের মানুষের স্মৃতিতে অমলিন হয়ে আছেন তিনি। রাজনৈতিক সহযোদ্ধাদের মতে, মানুষের সঙ্গে দীর্ঘদিনের নিবিড় সম্পর্কই তাঁকে আজও স্মরণীয় করে রেখেছে।
২০২৩ সালের ৩০ আগস্ট ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান নাটোর-৪ আসনের পাঁচবারের সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক আব্দুল কুদ্দুস। ১৯৯১ সালে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে পাঁচবার সংসদে প্রতিনিধিত্ব করেন তিনি।১৯৪৬ সালের ৩১ অক্টোবর গুরুদাসপুরের বিলশা গ্রামে জন্ম নেওয়া আব্দুল কুদ্দুস ছাত্রজীবনেই রাজনীতিতে যুক্ত হন। ছয় দফা আন্দোলন, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান ও মহান মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। রাজশাহী কলেজ ছাত্র সংসদের ভিপি, বৃহত্তর রাজশাহী জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।গুরুদাসপুর পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম বিপ্লব ও গুরুদাসপুর উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ও ভাইস চেয়ারম্যান আলাল শেখ  বলেন, অধ্যাপক আব্দুল কুদ্দুস শুধু জনপ্রতিনিধি ছিলেন না, এলাকার মানুষের সুখ-দুঃখের সঙ্গেও নিবিড়ভাবে যুক্ত ছিলেন। চলনবিলের মাটি থেকে উঠে এসে জাতীয় রাজনীতিতে তাঁর অবস্থান ছিল এলাকার জন্য গর্বের।তাঁর কন্যা কোহেলী কুদ্দুস মুক্তি বলেন, মানুষের ভালোবাসাই ছিল তাঁর বাবার সবচেয়ে বড় অর্জন। রাজনৈতিক ব্যস্ততার মধ্যেও তিনি সাধারণ মানুষের কথা শুনতেন এবং তাঁদের পাশে থাকার চেষ্টা করতেন।বনপাড়া পৌরসভার সাবেক মেয়র ও আওয়ামী লীগ নেতা কেএম জাকির হোসেন বলেন, মানুষের সঙ্গে দীর্ঘ সম্পর্কই আব্দুল কুদ্দুসকে আলাদা পরিচয় দিয়েছিল। রাজনীতি তাঁর কাছে শুধু পদ-পদবির বিষয় ছিল না।নাটোর জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম রমজান  বলেন, ছাত্ররাজনীতি থেকে মুক্তিযুদ্ধ, সংসদীয় রাজনীতি ও সরকারের দায়িত্ব পালন—তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন নাটোরের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায়।মৃত্যুর পর বড়াইগ্রাম, গুরুদাসপুর ও বিলশায় অনুষ্ঠিত জানাজায় জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ, মুক্তিযোদ্ধা, জনপ্রতিনিধি, দলীয় নেতাকর্মীসহ বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন। রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার শেষে জন্মস্থান বিলশা কবরস্থানে তাঁকে সমাহিত করা হয়।
তিন বছর পরও তাঁর নাম ফিরে আসে নাটোরের রাজনৈতিক স্মৃতিচারণায়। চলনবিলের যে মাটি তাঁকে জন্ম দিয়েছিল, শেষ পর্যন্ত সেই মাটির বুকেই চিরনিদ্রায় শায়িত হয়েছেন তিনি। তাঁর তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকীতে সহযোদ্ধা ও এলাকাবাসী স্মরণ করছেন তাঁদের দীর্ঘদিনের পরিচিত এই রাজনৈতিক নেতাকে।#
Please follow and like us:
Pin Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Website Design, Developed & Hosted by ALL IT BD