বিশ্বকাপ ও মুসলিম কালচার 

Spread the love
হাফেজ মাওলানা হোসাইন আহমাদ

শেষ হলো ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ।  যারা খেলায় অংশগ্রহণ করেছিল তাদের সবারই কমবেশি কিছু না কিছু লাভ হয়েছে । আবার যারা খেলায়  স্পন্সর সহ খেলাধুলা কেন্দ্রিক বিভিন্ন ব্যবসা করেছে তাদের ও লাভ হয়েছে ঢের । কিন্ত  যদি প্রশ্ন আসে যারা অতিরিক্ত আবেগতারিত হয়ে মূল্যবান সময় নষ্ট করে , পয়সা খরচ করে নানান কীর্তি কর্ম করে এই খেলাকে সাপোর্ট করল তাদের লাভটা কোথায় ? ।অপর পাশ হয়তো উত্তর আসবে আরে এটাতো বিনোদন, বিনোদনের আবার লাভ লস কি ? উপভোগ করাটাই তো এখানে মূখ্য বিষয় । একটা সময় ছিল যখন বিনোদন বিনোদনের জায়গায় ছিল । মানুষ খেলাধুলা সহ বিভিন্ন বিনোদন উপভোগ করত ।  সেখানে ও  জয় পরাজয় থাকত  কিন্ত দিনশেষে সেটা বিষাদময় পরিস্থিতিতে রূপ নিত না ।মানুষ তার প্রাত্যহিক কাজ কর্ম ছেড়ে সারাদিন সেটা নিয়ে পরে থাকত না  । ছেলেমেয়েদের পড়া লেখায় ব্যাঘাত ঘটত না । শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলো ও  বিনোদনের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত ছিল না । হেরে যাওয়া দল ও তাদের সাপোর্টাররাও বিজয়ী দলের জয় উপভোগ করত । এক সাথে বসে খাবার খেত আনন্দ করত ।সেই দিনটা আজ আর নেই। এখন খেলাধুলা আর বিনোদন মানেই ভাইয়ে ভাইয়ে অযথা তর্ক বিতর্ক,  হত্যা -মারামারি , অশ্লীলতা -বেহায়াপনা , সামাজিক পরিবেশে অসামাজিক কার্যকলাপ ইত্যাদি ।

আমাদের বাংলাদেশ নামক একটি মুসলিম কান্ট্রিতে বর্তমানে এই খেলাধুলাকে কেন্দ্র করে যেই পরিমান উন্মাদনা দেখা যায় খোদ বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী দেশে ও সেটা দেখা যায় না । মুসলমানরা আজ নিজেদের ঐতিহ্য-গৌরব, নিজেদের মূল্য ভূলে গিয়ে ধ্বংসের পথে । মনে রাখা দরকার যে , যেখানে মুসলমানরা ভারত শাসন করেছে আটশত বৎসর   তারপর ও সেখানে আজ  হিন্দুত্ববাদীদের অত্যাচারে মুসলমানরা অস্তিত্ব সংকটে । সেখানে বাংলাদেশ যদি আক্রমনের শিকার হয় তাহলে আমাদের অবস্থা কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে !?  আজকে  একজন মুসলমান হয়ে সারারাত জেগে খেলা দেখে  অথচ নামাজ পড়ার সময় পায় না । অসহায় গরীব মানুষকে দুটো পয়সা দান করার সময় পকেট হাতড়ায় অথচ কাড়ি কাড়ি টাকা খরচ করে খেলার পিকনিক করে  , জমি বিক্রি করে বিশাল পতাকা বানায় , রং মেখে সং সাঁজে  ইত্যাদি ।সাহাবীদের যুগে মুসলমান প্রতিবেশীর ঘুম ভাঙত আরেক মুসলমানের ইবাদাতের আওয়াজে । আর আজকে মুসলমানদের ঘুম ভাঙগে প্রত্যক্ষ – পরোক্ষভাবে মুসলমানদের উপর অত্যাচারকারীর   মুসলিম ভক্তের  আনন্দ -উল্লাসে । অথচ আজকে মুসলমানদের দৃশ্য হওয়ার কথা ছিল ভারত, ফিলিস্তিন, চীন, ইরাক, সিরিয়া ,লেবানন, সোমালিয়া,  চেচনিয়া, বসনিয়া সহ পৃথিবীর প্রান্তে   প্রান্তে নির্যাতিত মুসলমানদের ব্যথায় ব্যথিত হয়ে রাত জেগে আল্লাহর কাছে তাদের মুক্তির ফরিয়াদ করবে । আমরা চিন্তা করি দাজ্জালের কপালে কাফের লেখা থাকা সত্ত্বেও এক শ্রেণীর মুসলমান তাকে কিভাবে অনুসরণ করে তার পক্ষ নেবে । কিন্ত বর্তমান সিচুয়েশনের কিছু কার্যকলাপ দেখলে সেই চিন্তার পরিধি অনেকটাই স্বাভাবিক হয়ে আসে। যেমন -সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখা গেল একজন মুসলিম তরুন বলছে ” মেসি এ যুগের মূসা নবী ” ।

এগুলোর মূল কারণ হচ্ছে ধর্মীয় শিক্ষা না থাকা  এবং ধর্মীয়  মূল্যবোধের চরম  অভাব । একজন মুসলমানের জন্য কখনোই শোভা পায় না যে সে  এই ধরণের শরীয়ত বিরোধী খেলাধুলায় সময় নষ্ট করে নিজের ঈমান কে দুর্বল করবে । মুসলমানের শিষ্টাচার  হলো সে সবসময় গর্হিত ও অনর্থক  কাজ থেকে বিরত থাকবে । অমুসলিমদের অনুসরণ না করে বিশ্ব নবী মুহাম্মদ (সাঃ) কে অনুসরণ ও অনুকরণ করবে । মুসলমানরা নির্যাতিত হলে অমুসলিমরা পাশে দাঁড়িয়েছে এই ধরণের ইতিহাস নেই বললেই চলে । যেটার জ্বলজ্যান্ত উদাহরণ ফিলিস্তিন ইস্যু । তাই আমাদের নিজেদের ঈমান ও আমল হেফাজত করতে হবে । ভ্রাতৃত্বের বন্ধন শক্তিশলী করতে হবে । বিশেষ করে তরুণদের কে বিপথগামী পথ থেকে  ফিরানোর চেষ্টা করতে হবে ।
যেন তাদের মধ্যে তথাকথিত নেইমার , মেসি হওয়ার স্বপ্ন না জাগে । তাদের মধ্যে যেন জেগে ওঠে মুহাম্মদ বিন কাসেম হওয়ার স্বপ্ন । পরিশেষে একটা হাদিসের মাধ্যমে লেখার ইতি টানতে চাই। রসূল( সাঃ) এরশাদ করেন ,” যে ব্যক্তি কোন সম্প্রদায়ের অনুসরণ-অনুকরণ করবে, সে তাদের দলভুক্ত হবে।” ( সহীহ আবু দাউদ)
লেখক: তাড়াশ মারকাজ মসজিদের সাবেক পেশ ইমাম ও তাড়াশ মডেল মসজিদের মুয়াজ্জিন। 
Please follow and like us:
Pin Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Website Design, Developed & Hosted by ALL IT BD