মুফতি খোন্দকার আমিনুল ইসলাম আবদুল্লাহ
শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি
বগুড়ার শেরপুর উপজেলার সীমাবাড়ী বাজারে ড্রেনেজ ব্যবস্থার অভাবে দীর্ঘ ২০১০ সাল থেকে জলাবদ্ধতার অভিশাপ বয়ে বেড়াচ্ছে দুটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান—সেতারা রব্বানী উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় ও সীমাবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। বছরের পর বছর ধরে চলা এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় শুধু শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরাই নন, আশপাশের হাজারো পথচারী ও ব্যবসায়ীরাও প্রতিনিয়ত সীমাহীন দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।
সামান্য বৃষ্টিতেই বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ, মাঠ এবং আশপাশের সড়ক পানিতে তলিয়ে যায়। বিদ্যালয়ে প্রবেশ করতে শিক্ষার্থীদের কাদা ও ময়লা পানি মাড়িয়ে যেতে হয়। অনেক সময় ছোট ছোট শিক্ষার্থী পিছলে পড়ে আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটে। এমন পরিস্থিতিতে পাঠদানের স্বাভাবিক পরিবেশ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশনের কোনো সুযোগ নেই। ফলে দিনের পর দিন পানি জমে থেকে পুরো এলাকাকে জলাবদ্ধ করে রাখে। এতে বিদ্যালয়ের পাশাপাশি সীমাবাড়ী বাজারের ব্যবসা-বাণিজ্যও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বাজারে আসা সাধারণ মানুষ, রোগী, বৃদ্ধ, নারী ও শিশুদের চরম ভোগান্তি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।
অভিভাবকদের ভাষ্য, এক যুগেরও বেশি সময় ধরে একই সমস্যার পুনরাবৃত্তি ঘটলেও এখন পর্যন্ত কোনো স্থায়ী সমাধান চোখে পড়েনি। বর্ষা এলেই শুরু হয় দুর্ভোগ, আর বর্ষা শেষ হলে বিষয়টি আবারও বিস্মৃত হয়ে যায়।স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সুন্দর ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা শুধু শিক্ষার স্বার্থেই নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপত্তার জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অথচ দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা জলাবদ্ধতার সঙ্গে লড়াই করেই শিক্ষা গ্রহণ করছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক ও হতাশাজনক।
এলাকাবাসী, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের একটাই দাবি—আর আশ্বাস নয়, এবার কার্যকর উদ্যোগ চাই। দ্রুত আধুনিক ও টেকসই ড্রেনেজ ব্যবস্থা নির্মাণ করে সীমাবাড়ী বাজার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং আশপাশের সড়কের স্থায়ী জলাবদ্ধতা দূর করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।”শিক্ষাঙ্গন কখনো জলাবদ্ধতার প্রতীক হতে পারে না। যেখানে আগামী দিনের স্বপ্ন গড়ে ওঠার কথা, সেখানে যদি বছরের পর বছর কাদা-পানি আর দুর্ভোগের রাজত্ব চলে, তবে তা শুধু একটি এলাকার ব্যর্থতা নয়—এটি আমাদের উন্নয়ন ভাবনারও একটি বড় প্রশ্নচিহ্ন।”
চলনবিল বার্তা chalonbeelbarta.com