নাটোর প্রতিনিধি:
নাটোরের বড়াইগ্রামে মঙ্গলবার বিকেলে একাধারে দীর্ঘ সময় ধরে ঝড় ও শিলা-বৃষ্টি হয়েছে ৷ এর ফলে ফল-ফলাদি ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়েছে বলে ধারণা করছেন কৃষি অফিস। মাঠ ভর্তি ধান, ভুট্রা, গাছে আম, লিচুসহ যাবতীয় ফসলাদির ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে বলে আশংঙ্কায় রয়েছেন স্থানীয় মানুষজন।
চলনবিল অধ্যুষিত এ উপজেলার জোনাইল, চান্দাই, গোপালপুর, নগর, জোয়াড়ী ও মাঝগাঁ’ও ইউনিয়নের অধিকাংশ মাঠে এখন পর্যন্ত ব্যাপক পরিমাণে আধা পাকা ধান, বাগানে আম, লিচু বিরাজ করছে ৷ শিলার সঙ্গে অতিমাত্রায় বৃষ্টি হওয়াতে ফসল ও ফলফলাদির ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে ৷ যে কারনে দুশ্চিন্তা বিরাজ করছে এলাকার জনগণের মাঝে।উপজেলার বনপাড়া পৌরসভা,জোনাইল ইউনিয়ন, চান্দাই ইউনিয়ন, নগর, গোপালপুর,জোয়াড়ী ও মাঝগাঁও ইউনিয়ন ছাড়াও পার্শ্ববর্তী এলাকা জুড়ে বিকেল ৫:১৫ টা থেকে শিলা-বৃষ্টি শুরু হয়ে দীর্ঘ সময় ধরে স্থায়িত্ব লাভ করে ৷
আকাশে অগোছালো ঘনকালো মেঘের বুক চিরে এমনভাবে হঠাৎ শিলা-বৃষ্টি শুরু হওয়ায় ঘরের বাহিরে থাকা অনেকের মাথায় তা চুঁয়ে পড়েছে।
প্রত্যক্ষভাবে শিলাবৃষ্টি দর্শনকারী বনপাড়া বাইপাসের ৬৫ বছর বয়সী চায়ের দোকানদার মোঃ লোকমান আলী বলেন, আমার জীবনে এতো পরিমাণে শিলা-বৃষ্টি কখনও হতে দেখিনি।জোয়াড়ী ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আলী আকবর বলেন, শুধু শিলা পড়ছে শুনে রুম থেকে বেলকনিতে আসলাম, এসেই দেখি শিলার সঙ্গে ব্যাপক বৃষ্টি ৷ বিভিন্ন জায়গায় অনেকের সাথে মোবাইলে খোঁজ-খবরও নিতে শুরু করলাম ৷ তবে মাঠে ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে বলে আমার ধারণা ৷বড়াইগ্রাম উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা সজিব আল মারুফ বলেন, এ মৌসুমে উপজেলার প্রত্যেকটি এলাকায় ফসলের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা ছিল। তবে আজকের শিলা-বৃষ্টিতে ক্ষতির পরিমাণ হয়তো ব্যাপক হতে পারে বলে ধারণা করেন তিনি। তবে ক্ষতির সঠিক পরিমাণ তৎক্ষণাৎ জানাতে পারেননি তিনি।উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লায়লা জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, শিলা বৃষ্টির সময় অফিসে ছিলাম ৷ জানালা দিয়ে বাহিরে তাকিয়ে দেখি চারিদিকে সবুজ ঘাসের মাঠে শুধু শিলার প্রলেপ পড়ে সাদা হয়ে গেছে এখানে যে পরিমাণে শিলাবৃষ্টি হয়েছে তাতে ফসলাদির ব্যাপক ক্ষতির সম্ভাবণা রয়েছে।তবে আমি উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় কৃষি অফিসের মাধ্যমে যোগাযোগ করানোর চেষ্টা করছি।
চলনবিল বার্তা chalonbeelbarta.com