— মুফতি খোন্দকার আমিনুল আবদুল্লাহ হাফিযাহুল্লাহ
ভূমিকম্পের তীব্র ঝাঁকুনি যখন রাতের নিস্তব্ধতা ভেঙে দিল, তখন শত-সহস্র মানুষ মৃত্যুভয়ে দিশেহারা হয়ে পড়ল। কিন্তু প্রশ্ন হলো—এ ভয় কি আমাদের বদলাতে পারল? মৃত্যুর সম্ভাবনা চোখের সামনে দেখা সত্ত্বেও ফেসবুকের বেপর্দা ছবিগুলো পর্যন্ত ডিলিট করতে পারলাম না, তাহলে আমরা কেমন ভয় পেলাম? মৃত্যুভয় কি শুধু দেহ কাঁপানোর জন্য, নাকি আত্মাকে জাগানোর জন্য?
আমরা কি জানি না, বেপর্দা ছবি আপলোড করা এক চলমান গুনাহ, যা জীবদ্দশায়ও থামে না, মৃত্যু পরেও থামে না?
এটাই তো বলা হয় গুনাহে জারিয়াহ—একটি পাপ, যার অগ্নিশিখা আমাদের কবরে পর্যন্ত অনুসরণ করবে।
কুরআনের সতর্কবাণী
আল্লাহ তাআলা বলেন,
“হে নবী, আপনি মুমিন নারীদের বলুন তারা যেন তাদের দৃষ্টি সংযত রাখে এবং নিজেদের পবিত্রতা রক্ষা করে, আর তারা যেন তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে।”
(সূরা নূর: ৩১)
অন্য আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন,
“তোমরা তোমাদের নিজেদেরকে ধ্বংসের দিকে নিক্ষেপ করো না।”
(সূরা বাকারা: ১৯৫)
বেপর্দা ছবি ছড়ানো শুধুই সামাজিক বিপদ নয়, বরং এটি নিজের ঈমান, লজ্জা, চরিত্র—সব কিছুকে ধ্বংসের দিকে নিক্ষেপ করা।
হাদীসের কঠোর হুঁশিয়ারি
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
“যে ব্যক্তি মানুষকে পথভ্রষ্ট করার জন্য কোনো পথ তৈরি করে দেয়, সে তাদের সকলের গুনাহের অংশ বহন করবে।”
(সহীহ মুসলিম: ২৬৭৪)
যে বোন নিজের ছবি প্রকাশ করে, সে শুধু নিজের গুনাহই নয়—যে-যে পুরুষ তার ছবি দেখবে, তাদের গুনাহও তার আমলনামায় জমা হবে।
এটি কত ভয়াবহ, এক মুহূর্ত চিন্তা করলেই হৃদয় কেঁপে ওঠার কথা।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরও বলেছেন,
“কিয়ামতের দিনে মানুষকে প্রথম যে বিষয়ের হিসাব দিতে হবে তা হলো আমল।”
(সহীহ বুখারি)
সেদিন কি উত্তর দেব আমরা?
পর্দাহীন ছবিগুলো রেখে কি আমরা নিজেরাই নিজের বিচার কঠিন করে তুলছি না?
হৃদয় এখন নরম, পরিবর্তনের এটি-ই সেরা মুহূর্ত
ভূমিকম্পের পরে হৃদয় অজান্তেই নরম হয়ে আসে। কারণ মৃত্যু তখন খুব কাছে এসে দাঁড়ায়।
তাই বলছি—
বোন আমার, আজ যদি আমি আপনাকে ফেসবুকে বেপর্দা ছবি থেকে বিরত থাকতে বলি, আপনি হয়তো মনে মনে রাগ করেন। কিন্তু মৃত্যুর পরে যখন আখেরাতের দরবারে দাঁড়াবেন, তখন কি আফসোসে বুক ভাসাবেন না?
আজ যে ছবিগুলো মানুষের দৃষ্টি কেড়েছে, কাল সেই ছবিগুলোই হয়তো আপনার কবরে আগুন হয়ে নেমে আসবে।
আজই বদলে যান
মৃত্যু কিসের অপেক্ষা করে?
কবরের ফেরেশতা কি আমাদের সাজগোজ, লাইক-কমেন্ট বা ফলোয়ার গুনতে বসে থাকবে?
একটি ছবি, একটি ভিডিও, একটি বেপর্দা পোস্ট—এগুলোই হয়তো কিয়ামতে আমাদের শেকলে বাঁধার কারণ হয়ে দাঁড়াবে।
আজ যদি এসব মুছে ফেলি, আল্লাহর কাছে কান্না করে ক্ষমা চাই, তাহলে হয়তো তিনিই আমাদের আবরু রক্ষা করবেন।
আজই সিদ্ধান্ত নিন:
পাপ থেকে সম্পর্ক ছিন্ন।
আল্লাহর সাথে সম্পর্ক পুনরুজ্জীবিত।
আল্লাহ তাআলা বলেন,
“তোমরা সবাই আল্লাহর নিকট তওবা কর, যাতে তোমরা সফল হও।”
(সূরা নূর: ৩১)
শেষ কথা
ভূমিকম্পের কাঁপুনি যদি আমাদের অন্তরকে না কাঁপাতে পারে,
তাহলে আর কীসে জাগব আমরা?
মৃত্যু দরজায় দাঁড়িয়ে কড়া নাড়ছে, অথচ আমরা ছবি সাজাতে ব্যস্ত—এ কেমন বিভ্রান্তি?
এ কেমন ঘোর অন্ধকার?
আজই ফিরে আসুন।
এটাই সময়, এটাই মুহূর্ত।
কবরের ঘোর অন্ধকারে আপনার এই সিদ্ধান্ত আলো হয়ে জ্বলবে।
— মুফতি খোন্দকার আমিনুল আবদুল্লাহ হাফিযাহুল্লাহ
Weekly Chalonbeel Barta chalonbeelbarta.com