আল্লাহ তাআলা নারীকে একথা বলেননি : “তুমি হিজাব করো” — বরং বলেছেন, “তুমি সৌন্দর্য প্রকাশ করো না”

Spread the love
লেখক : পীরজাদা মুফতি খোন্দকার আমিনুল ইসলাম আবদুল্লাহ
ইসলাম নারীকে এমন মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত করেছে, যা কোনো যুগে, কোনো সভ্যতাই দিতে পারেনি। কিন্তু সেই মর্যাদা রক্ষার জন্য আল্লাহ তাআলার নির্দেশনা কেবল পোশাকের নামকরণে সীমাবদ্ধ নয়। বরং মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে নারীসত্তার সৌন্দর্য সংরক্ষণ এবং শালীনতা রক্ষা।
আল্লাহ তাআলা কখনো বলেননি— “তুমি হিজাব পরো”, “তুমি বোরকা পরো”, কিংবা “তুমি স্কার্ফ পরো।”তিনি বলেছেন, “মুমিন নারীরা যেন পরপুরুষের কাছে নিজেদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে।”এই বাক্যেই নিহিত রয়েছে ইসলামী পর্দার প্রকৃত তাৎপর্য।
ইসলামের দৃষ্টিতে পর্দা মানে শুধু পোশাক নয়, বরং তা এক পূর্ণ জীবনধারা। পোশাক, দৃষ্টি, চলাফেরা, আচরণ—সবকিছুতেই থাকতে হবে শালীনতা ও সংযম। যে পোশাক সৌন্দর্য প্রকাশ করে, তা ইসলামী পর্দার অন্তর্ভুক্ত নয়। বোরকা বা হিজাব এমন হতে হবে যাতে দেহের গঠন ফুটে না ওঠে এবং আকর্ষণ সৃষ্টি না করে।চেহারাই মানুষের সৌন্দর্যের প্রধান কেন্দ্র। আর দৃষ্টি সেই সৌন্দর্যের দ্বার। এজন্যই ইসলাম পুরুষ ও নারী উভয়কেই দৃষ্টি সংযমের নির্দেশ দিয়েছে। দৃষ্টি সংযম হৃদয়কে সংযত রাখে, মনকে পবিত্র করে এবং সমাজে নৈতিকতা প্রতিষ্ঠা করে।আল্লাহ তাআলা নারীদের জন্য আরও একটি বিশেষ নির্দেশ দিয়েছেন— তাঁরা যেন নিজেদের চাদর বা আবরন নিজেদের শরীরের উপর টেনে দেয়, যাতে তারা সহজেই চেনা যায় এবং নিরাপদে থাকে।এই চাদর বা আবরনই “জিলবাব” নামে পরিচিত, যা পুরো শরীরকে আবৃত রাখে এবং নারীর লজ্জাশীলতা ও মর্যাদা রক্ষা করে।
জিলবাব কোনো নির্দিষ্ট ফ্যাশন নয়; বরং এটি এক পরিচয়ের প্রতীক—যা বলে দেয়, এ নারী আল্লাহর নির্দেশ মানে, নিজের সম্মান রক্ষা করে এবং সমাজে শালীনতার আলোকবর্তিকা হয়ে চলতে চায়।
ইসলাম নারীকে বন্দি করতে বলেনি; বরং তাকে দিয়েছে মুক্তির চাবি। সে মুক্তি বাহ্যিক প্রদর্শনের নয়, বরং অন্তরের প্রশান্তির। যে নারী তার সৌন্দর্যকে সংযত রাখে, সে নিজেকে অপমান থেকে মুক্ত রাখে। তার শালীনতা তার সম্মানের ঢাল, তার লজ্জাশীলতা তার সৌন্দর্যের অলংকার।
আজকের সমাজে হিজাব, বোরকা, স্কার্ফ অনেক সময় বাহ্যিক রূপে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। অথচ ইসলামের বার্তা স্পষ্ট— “সৌন্দর্য প্রকাশ করো না।”
পোশাক তখনই পর্দা, যখন তা হৃদয়ের পর্দার সঙ্গে মিলে যায়।যখন অন্তরে থাকে আল্লাহভীতি, তখন বাহ্যিক পর্দা হয়ে ওঠে ইমানের প্রতিচ্ছবি।
পর্দা মানে আত্মসম্মান রক্ষা, সমাজে নারীর মর্যাদা সংরক্ষণ এবং আল্লাহর আদেশের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন।যে নারী পর্দাকে ভালোবাসে, সে আসলে তার সৃষ্টিকর্তাকে ভালোবাসে।আর যে নারী আল্লাহর আদেশ মেনে চলে, সে-ই প্রকৃত সৌন্দর্যের প্রতিমূর্তি—লজ্জাশীল, মর্যাদাবান ও আত্মমর্যাদাসম্পন্ন।
ইসলাম নারীর সৌন্দর্যকে ঢাকতে নয়, সংরক্ষণ করতে বলেছে। কারণ প্রকৃত সৌন্দর্য প্রকাশে নয়, সংযমে; প্রকাশে নয়, আত্মমর্যাদায়।লজ্জাশীলতা নারীকে করে পবিত্র, আর শালীনতা তাকে করে মহান।
লেখক: পীরজাদা মুফতি খোন্দকার আমিনুল ইসলাম আবদুল্লাহ,ইসলামী চিন্তাবিদ ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব
Please follow and like us:
Pin Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Website Design, Developed & Hosted by ALL IT BD