গুরুদাসপুরে চাহিদার চেয়ে ৩৩ হাজার মেট্রিক টন উদ্বৃত্ত দুধ উতপাদন হচ্ছে

Spread the love

আবুল কালাম আজাদ

গরুর দুধের পুষ্টিগুণ প্রচুর । কারণ ,এই দুধে সকল প্রকার পুষ্টি উপাদান রয়েছে। দুধ আমাদের সকলের কাছে অতি প্রিয় খাদ্য। আর দুধ থেকে তৈরি খাদ্য উপাদান সব ব্যক্তির কাছে খুব সুস্বাদু।অনাদিকাল থেকেই দুধ সকল পুষ্টিসমৃদ্ধ একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ আদর্শ খাদ্য যা জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে বিশ্বের প্রায় সকল দেশের সকল মানুষের কাছে বিশেষভাবে সমাদৃত। এ কারণে সুস্বাস্থ্য রক্ষার্থে দুধের সার্বিক গুণাগুণ রক্ষা করা একান্ত অপরিহার্য। স্থান, কাল, পাত্রভেদে সুস্বাস্থ্য রক্ষার্থে অন্যান্য খাদ্য সামগ্রীর পাশাপাশি দুধ অনন্য ভূমিকা পালন করে থাকে। দুধ উৎপাদন” বলতে বোঝায় দুধ তৈরির প্রক্রিয়া, যা প্রধানত স্তন্যপায়ী প্রাণীদের মধ্যে হয়ে থাকে। এই ক্ষেত্রে, গাভী, মহিষ, ছাগল, ভেড়া ইত্যাদি প্রাণী থেকে দুধ সংগ্রহ করা হয়। দুধ উৎপাদন একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া যা খাদ্য এবং অন্যান্য দুগ্ধজাত পণ্যের জন্য অপরিহার্য। তাই  দুধের অধিক পুষ্টিগুন বিবেচনায় প্রতি বছর ১ জুন বিশ্ব দুগ্ধ দিবস পালিত হয়।

বিশ্বের সাথে প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশেও দুগ্ধ খামার এবং দুধ উতপদন বেড়েই চলছে । নাটোরের গুরুদাসপুরও খামারি, দুগ্ধবতি গাভি এবং মহিষ পালন ও  দুধ উতপাদনে দ্রুতই  এগিয়ে যাচ্ছে। বাড়ছে দুগ্ধ খামার ও খামারির সংখ্যা, উন্নতজাতের দুগ্ধবতি  গাভী্‌-মহিষ পালন এবং দুধ উতপাদন। এতে খামারিদের  ভাগ্য এবং জীবনমান বদলে যাচ্ছে। দেখা দেখি দুধ উতপাদনে উন্নত জাতের গাভী ও মহিষ পালনে নতুন নতুন খামারিরা উতসাহিত হচ্ছে বলে জানাচ্ছেন উপজেলা প্রানিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ রোকনুজ্জামান।

নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলায় ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে ৭ হাজার  ২৬৮ জন খামারির ১৪ হাজার ৮২০ টি গাভী এবং ১৪৫ টি মহিষের ৫০ হাজার ৫৯  মেট্রিক টন  দুধ উতপদন হয়েছে বলে উপজেলা প্রানিসম্পদ অফিস সুত্রের তথ্যে পাওয়া গেছে।  উতপাদিত দুধের বর্তমান বাজর মুল্য ৫৫ থেকে ৬০ টাকা লিটার হিসেবে এ বছরে ৩০০ কোটি টাকার  উর্দ্ধে মূল্যের দুধ উতপাদন হয়ছে ।

তথ্যমতে  গত ২০২২-২৩ অর্থবছরে উপজেলায়  ৬ হাজার ২২৫ জন খামারির ১০ হাজার ৪০০ টি গাভী এবং ১০০ টি মহিষের দুধ উতপাদন ছিল ৩৬ হাজার মেট্রিক টন, এবং ২০২৩-২৪ অর্থবছরে উপজেলায়  ৬ হাজার ৭৮৫ জন খামারির ১২ হাজার ২৩০ টি গাভীর ৪৪ হাজার ৬৬৯ মেট্রিক টন  ও ১২০ টি মহিষের ২৭ মেট্রিক টন সহ মোট দুধ উতপাদন ছিল ৪৪ হাজার ৬৯৬ মেট্রিক টন, । তিন বছরে দুধ উতপাদন বেড়েছে ১৪ হাজার ৫৯  মেট্রিক টন।খামারি বেড়েছে ১ হাজার ৪৩জন, গাভি বেড়েছে  ৪হাজার ৪২০ এবং মহিষ বেড়েছে ৪৫ টি।

উপজেলা প্রানিসম্পদ অফিসার ডাঃ রোকনুজ্জামান  জানান , ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৫০ হাজার ৫৯ মেট্রিক টন গরু-মহিষের দুধ উতপাদন হচ্ছে।   সে হিসেবে মাসে উতপাদন হয় ৪ হাজার ১৭২ মেট্রিক টন এবং প্রতিদিন ১৩৯ মেট্রিক । উপজেলার জনসংখ্যা ২লাখ ৩৪ হাজার ৩২৮ জন ( ২০২২ জনশুমারি) হিসেবে মাথপিছু ২০০ মিলি লিটার  ধরে প্রতিদিন ৪৬ হাজার ৮৬৫  লিটার হিসাবে মাসে ১ হাজার ৪১০  মেট্রিক টন এবং  বছরে দুধের  চাহিদা  ১৬  হাজার ৯২০ মেট্রিক টন। উদ্বৃত্ত উতপাদন হয়েছ ৩৩ হাজার ১৪০  মেট্রিক টন। বিভিন্ন মিল্ক প্রসেসিং কোম্পানি যেমন – প্রাণ কোং, ব্র্যাক আড়ং  এবং আহম্মদ কোং স্থানিয়ভাবে  শিতলিকরণ চিলিং সেন্টার স্থাপন করে  খামারিদের কাছ থেকে  সরাসরি  দুধ ফ্যাট এবং মান পরিক্ষা করে  কালেকশন করে কারখানায় নিয়ে যাচ্ছে। জানামতে প্সাণ কোম্পানি এর ১০ টি , আড়ং এর ২ টি এবং আম্মদ কোম্পানির ১ টি শিতলিকরন চিলিং কেন্দ্রে নিয়মিত খামারিদের কাছথেকে কালেকশন করে ট্যাংক লরিতে  ঢাকাসহ দেশের  বিভিন্ন প্রসেসিং কারখানায় নিয়ে যাচ্ছে।এ ছাড়া দুধ ব্যব্যবসায়িরা বাজার থেকে দুধ কিনে নাটোর, রাজশাহী বগুরাসহ সারা দেশে  সাপ্লাই দিচ্ছে। স্থানীয়ভাবে দৈ, ছানা, মিষ্টি পনির্, ঘী উতপাদন করে উপজেলা ও জেলার বাহিরে সরবরাহ করছেন । কথিত  আছে নাজিরপুরের দৈ , ঘী, ছানা ,সন্দেশ দেশর প্রসিদ্ধ  ব্রান্ডের সুনাম অর্জন করেছে।।

গুরুদাসপুরে চাহিদার চেয়ে বেশি দুধ উতপাদন হওয়ায় নাজিরপুর, চাঁচকৈড়, কাছিকাটা, চন্দ্রপুর, সাবগাড়ি, বৃপাথুরিয়া, খুবজিপুর,নওপাড়া, ধারাবারিষা ,নয়াবাজারসহ অনেক দুধের বাজার গড়ে   উঠেছে।এতে   খামারিদের দুধ বিক্রির ঝামেলা না থাকায় এবং ভালো দাম পাওয়ায় দিন দিন দুগ্ধ খামারের সংখ্যা এবং দুধ উতপাদন বাড়ছে । খামারিরা বেশি দুধ উতপাদন করে আর্থিক লাভের আশায় উন্নত জাতের  গাভি পালনে আগ্রহি হচ্ছেন।  এবং গাভির সাথে বাছুর পালন করে বড় করে বিক্রী করে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন ।  বকনা বাছুর বড় হলে দুধ উতপাদনের জন্য রেখে দিচ্ছেন  অথবা বিক্রি করছেন । নিজেরাও  খাচ্ছেন, পুষ্টির চাহিদা মেটাচ্ছেন । পরিবারে কর্মসংস্থানও বেড়েছে।  এলাকায় গবাদি পশুর খাদ্যের বাজার  গড়ে উঠেছে গ্রাম ও পাড়ায় । প্রানিসম্পদ কর্মকর্তা  জানান, দেশি গাভির সাড়ে ৩ লিটার এবং উন্নত জাতের  গাভির  ৮  থেকে ২০/২৫ লিটার  এবং মহিষের ৫ থেকে ৮ লিটার পর্যন্ত  দুধ হয়। কোন কোন গাভি ৩০ লিটার  পর্যন্ত দুধ দিচ্ছে বলে খামারিরা জানাচ্ছেন।তবে খামারিদের অভিযোগ ,গো খাদ্য , ভেটেরনারি ঔষধ ও উপকরণের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় উতপাদন খরচ   বেড়ে গেছে, ফলে অনেক খামারি খামার বন্ধ করে দিতে বাধ্য হচ্ছেন।  এব্যাপারে উপজেলা প্রানিসম্পদ বিভাগও সহমত পোষন করেন। খামারিদের গাভি পালনে উতসাহিত করতে প্রনিসম্পদ বিভাগ থেকে  দুগ্ধবতি গাভি ও বাছুর  পালন বিষয়ে নিয়মিত প্রশিক্ষন দেওয়া হচ্ছে এবং  বিনামূল্যে চিকিতসা সেবা দেওয়া হচ্ছে। জ্রুরি সেবার জন্য অফিসের ভেটেরনারি এম্বুলেন্স, প্রয়োজনীয় ঔষধপত্র নিয়ে চিকিতসক দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে চিকিতসা সেবা দিচ্ছেন এবং সহকারি ভেটেরনারি কর্মি ও প্রশিক্ষনপ্রাপ্ত ভেটেরনারি সেচ্ছেসেবি এলাকায় থেকে সার্বক্ষনিক সেবা প্রদান করছেন বলে প্রাণিসপদ কর্মকর্তা ডাঃ রোকনুজ্জামান প্রতিবেদককে জানান।

# আবুল কালাম আজাদ, সাংবাদিক ও কলামিষ্ট, গুরুদাসপুর, নাটোর, ০১৭২৪০৮৪৯৭৩ # ২৯/৭/২৫



 

Please follow and like us:
Pin Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Website Design, Developed & Hosted by ALL IT BD