ফারুক আহমেদঃ
গত ২দিন পর আষাঢ়ের শেষে শ্রাবনের প্রথমেই টানা বৃষ্টিপাতাতে সিরাজগঞ্জের তিনটি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় টানা বৃষ্টির প্রভাবে শতাধিক পুকুর ও মাছের ঘের পানিতে ডুবে গেছে। এছাড়াও, বৃষ্টির কারণে বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে এবং কৃষিজমিতে ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। ভারী বৃষ্টিতে কৃষকের ফসলি জমি, বিজতলা, ক্ষেতের সবজিসহ বিভিন্ন ফসল নষ্ট হয়ে গেছে।মৎস্য ব্যবসায়ী পল্লিচিকিৎসক লেটন জানান, বুক ভরা স্বপ্ন ২ কোটি টাকা পুজি খাটিয়ে প্রতিবছরের মতো এ বছরও বিভিন্ন প্রজাতির মাছ চাষ শুরু করেছিলেন। কিন্তু টানা বৃষ্টিতে তার ৩ টি ঘের তলিয়ে গেছে। তার স্বপ্ন নিমিষেই ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে ধার দেনা করে মাছ ছাড়লেও সব মাছ বৃষ্টির পানিতে ভেসে গেছে।
উল্লা পাড়া উপজেলার আগুরপুর গ্রামের আরো এক মৎস্য ব্যবসায়ী মোঃ হেলাল আলী জানান, আমার ৫০০ বিঘা জমির মধ্যে ১৫ টি মাছের ঘের ছিল এতে লোনের টাকা নিয়ে বিভিন্ন প্রজাতির দেশী বিদেশী মাছের চাষাবাদ করেছিলাম বৃষ্টির পানিতে ঘের ডুবে আমার সব মাছ চলে গেছে। আমার ২০ লক্ষের অধিক বেশি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।তাড়াশ উপজেলার কৃষক ও পুকুর মালিক মো: মোমতাজ উদ্দিন সরকার এই প্রতিনিধিকে বলেন, আমার ৩০ বিঘা জমির পুকুরসহ আমাদের অঞ্চলের মৎস্য ব্যবসায়ী ও কৃষকদের এই একই অবস্থা। কয়েক দফা বৃষ্টিতে বিভিন্ন জায়গায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। ক্ষেতের ফসল, মাছের ঘের ও পুকুর তলিয়ে যাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন এখানকার মৎস্য ব্যবসায়ী ও কৃষকরা।
দীর্ঘায়িত বর্ষা মৌসুমে টানা শ্রাবনের কয়েকদিন ভারী বর্ষণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তিনটি উপজেলার মৎস্য চাষি ও প্রান্তিক কৃষকরা। ঘেরের মাছ ভেসে যাওয়ায় দিশাহারা হয়ে পড়েছেন তারা।রায়গঞ্জ উপজেলার সা্ংবাদিক ফারুক আহমেদের আমনের বিজতলা আজ বাদ ফজর হতে টানা বৃষ্টিতে ভেসে গেয়েছে।এতে তিনি দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। সরেজমিনে রায়গঞ্জ, তাড়াশ ও উল্লাপাড়া উপজেলাসহ সলঙ্গার পানিবন্দি কয়েকটি এলাকা ঘুরে দেখা যায়, রায়গঞ্জ উপজেলার বেতুয়া,চুনিয়াখাড়া,নইপাড়া,আমশড়া । উল্লাপাড়া উপজেলার বনবাড়িয়া, নলিয়াদিঘি, রৌহদাহ। তাড়াশ উপজেলার লক্ষিপুর, চকঝুরঝুরি,রানিদিঘি হাজার হাজার মাছের পুকুরসহ অনেক কৃষকের বিভিন্ন ফসলি জমিসহ আমনের বিজতলা আষাঢ়ের শেষ, এবং শ্রাবনের প্রথমেই বৃষ্টির পানিতে ভেসে গেয়েছে।
চলনবিল বার্তা chalonbeelbarta.com