ভাঙ্গুড়া ‎উপজেলা প্রশাসন প্রশংসা কুড়াচ্ছে

Spread the love
জাহাঙ্গীর আলম, পাবনা প্রতিনিধি  
‎পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলা প্রশাসন প্রাঙ্গণে সাম্প্রতিক সময়ে দৃশ্যমান উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে প্রাণের সঞ্চার হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত থাকা উপজেলা প্রশাসনের প্রাঙ্গণ এখন নতুন রূপে সজ্জিত হয়ে উঠেছে, যা স্থানীয়দের প্রশংসা কুড়াচ্ছে।
‎উপজেলা প্রশাসন যেহেতু একটি উপজেলার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে কাজ করে, তাই এর পরিবেশ দৃষ্টিনন্দন ও সুশৃঙ্খল হওয়া সবার প্রত্যাশা। তবে দীর্ঘদিন ধরে ভাঙ্গুড়া উপজেলা প্রশাসনের অবকাঠামোগত সৌন্দর্য ছিল উপেক্ষিত। যদিও প্রশাসনিক ভবন সময়ে সময়ে উন্নত হয়েছে, কিন্তু খেলার মাঠ, শহীদ মিনার, পার্ক, প্রবেশ ফটক, সীমানা প্রাচীরসহ অন্যান্য সৌন্দর্যবর্ধক উপাদান ছিল অবহেলিত।‎বর্তমানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোছাঃ নাজমুন নাহার এই চিত্র বদলে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন। তিনি বলেন, “উপজেলা প্রশাসনে প্রতিদিন নানা শ্রেণিপেশার মানুষ সেবা নিতে আসেন। প্রাঙ্গণের জরাজীর্ণতা তাদের মনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাই আমি এই পরিবর্তনকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছি।”
‎‎তার নেতৃত্বে সম্প্রতি একাধিক উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে। প্রাঙ্গণে জরাজীর্ণ শহীদ মিনারটি মেরামত করে নান্দনিকভাবে পুনর্গঠন করা হয়েছে। এক সময় যেখানে শহীদ মিনারে ফুল দেওয়া ছিল প্রায় অসম্ভব, সেখানেই এখন জাতীয় দিবসগুলোতে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয় গর্বের সাথে।‎এছাড়া, গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প ও রক্ষণাবেক্ষণ কর্মসূচির আওতায় উপজেলা পার্কের মাঠে মাটি ভরাটসহ শিশুদের জন্য দোলনা ও অন্যান্য খেলনার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিকেল বেলা শিশুদের কলতানে মুখরিত হয়ে ওঠে এই পার্ক। উপজেলা সেবাব্রতী কিন্ডারগার্টেনের এক শিক্ষার্থী নয়না বলে, “ইউএনও আন্টি দোলনা বানায়ে দিছেন, খুব ভালো লাগে এখানে খেলতে।”
‎প্রাঙ্গণে অবস্থিত গাছগুলো গোল করে সজ্জিত করে বসার উপযোগী করে তোলা হয়েছে, যাতে খেলার ফাঁকে মানুষ বসে বিশ্রাম নিতে পারে। কর্মকর্তাদের জন্য ‘অফিসার্স ক্লাব’-এ ও আধুনিকায়ন করা হয়েছে এবং একটি ব্যাডমিন্টন কোর্ট স্থাপন করা হয়েছে, যা আগে ছিল অযত্নে পড়ে থাকা একটি ভবন।এই প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) ফেরদৌস আলম। তিনি বলেন,  ‎’নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুরো প্রশাসন প্রাঙ্গণ সীমানা প্রাচীর দিয়ে ঘিরে ফেলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। টেন্ডার হয়ে গিয়েছে, খুব দ্রুতই কাজ শুরু হবে, পাশাপাশি একটি দৃষ্টিনন্দন প্রবেশ ফটক নির্মাণ কাজও চলমান রয়েছে।উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছাঃ নাজমুন নাহার অর্থায়ন ও স্বচ্ছতা নিয়ে বলেন, “প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী হিসেবে উপজেলাবাসীর উন্নয়নে কাজ করা আমার দায়িত্ব। এই প্রকল্পগুলো যথাযথ প্রক্রিয়া মেনেই বাস্তবায়ন হয়েছে এবং সব কিছু স্বচ্ছতার সাথে সম্পন্ন করা হয়েছে।”
Please follow and like us:
Pin Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Website Design, Developed & Hosted by ALL IT BD