তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ
চুলে উকুন বাসা বেঁেধেছে। সে উকুন রাতে আরো শিক্ষার্থীদের মাথায় ছড়িয়ে পড়ছে। এমনি অজুহাতে সিরাজগঞ্জের তাড়াশে এক কিশোরী মাদ্রাসা শিক্ষার্থী (১২) কে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে ন্যাড়া করে দেবার অভিযোগ উঠেছে তারই মাদ্রাসারই দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে।
গত মঙ্গলবার উপজেলার তাড়াশ সদর ইউনিয়নের কৃষ্ণা দিঘী গ্রামে তালিমুল নিসা মহিলা হাফিজিয়া আবাসিক মাদ্রাসার এ ঘটনা ঘটে। আর এ আবাসিক মাদ্রাসাটি শিক্ষকদের বেতন, আনুসাঙ্গিক খরচ প্রায় শতাধিক নারী শিক্ষার্থীদের কাছ নেওয়া মাসিক বেতনের উপর নির্ভরশীল।
এ দিকে জোড়াজুড়ি করে মাথা ন্যাড়া করার সময় বেøডের আঘাতে শিক্ষার্থীর মাথার একাধিক স্থানে কেটেও যায়। যে জন্য তাকে তাড়াশ উপজেলা ৫০ শয্যা বিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাও নিতে হয়েছে।
ইচ্ছার বিরুদ্ধে ন্যাড়া করে দেওয়া কিশোরী শিক্ষার্থীর বাড়ি বোয়ালিয়া গ্রামে।
অবশ্য, বিষয়টি নিশ্চিত করে তাড়াশ সদর ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য মো. সোলেমান আলী জানান, মাদ্রাসা ছাত্রীর বাবা তার মেয়েকে শিক্ষকরা মাথা ন্যাড়া দিয়েছে এমন ঘটনা আমাকেসহ গ্রামের কয়েকজন গন্যমান্য ব্যক্তিকে জানিয়েছেন। যে ঘটনা নিয়ে শনিবার গ্রামে সালিশ বৈঠকের কথা রয়েছে।
ভুক্তভোগি কিশোরী জানায়, মঙ্গল দুপুরে মাদ্রাসার একজন নারী শিক্ষক আমাকে বলেন, তোমার মাথায় চুলে প্রচুর পরিমানে উকুন। যে উকুন রাতে ঘুমানো কালে তোমার মাথা থেকে অন্য মেয়েদের মাথায় ছড়িয়ে পড়ছে। মুলতঃ তোমার মাথায় বড় চুলের জন্য উকুন সহজে বাসা বাঁধতে পারছে। এসো মাথা ন্যাড়া করে দেই। কিছু দিনের মধ্যে আবার চুল বড় হয়ে যাবে।
কিন্তু আমি চুল মাথা ন্যাড়া করতে অস্বীকার করি। তারপরও দুই জন নারী শিক্ষক মিলে প্রথমে কাচি দিয়ে আমার মাথার চুল ছোট করে নেন। পরে বাজার থেকে শ্যাম্পু কিনে আনেন মাদ্রাসার বড় হুজুর হাফেজ মাওলানা মো. আব্দুল মারুফ। তারপর সে শ্রাম্পু মাথায় লাগিয়ে আমাকে ইচ্ছার বিরুদ্ধে ন্যাড়া করে দেন তারা। এ সময় আমি কাঁন্না- কাটি করলে ও নড়াচড়ার সময় আমার মাথায় কয়েক স্থানে কেটেও যায়।
কিশোরী শিক্ষার্থীর বাবা বলেন, ভ্যান চালানোর টাকার আমার সংসার চলে। তারপরও বেতন দিয়ে ওই মাদ্রাসায় মেয়েকে পড়াচ্ছি। কিন্তু আমার মেয়ে ও আমারদের না জানিয়ে কেন ন্যাড়া করা হলে বিষয়টি বোধগম্য নয়। এতে মেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছে এবং তাকে চিকিৎসাও করাতে হয়েছে। আমি গ্রামবাসির কাছে বিষয়টির বিচার চাই।
অপর দিকে ন্যাড়া করার সাথে শিক্ষকদের জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করে তালিমুল নিসা মহিলা হাফিজিয়া মাদ্রাসার মুহতামিম হাফেজ মাওলানা মো. আব্দুল মারুফ বলেন, শিক্ষকরা ওই শিক্ষার্থীর মাথা ন্যাড়া করে দেয়নি। তার কয়েক সহপাঠিরা মিলে এ কাজ করেছে।
এ প্রসঙ্গে তাড়াশ থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জিয়াউর রহমান বলেন, ঘটনাটি জানার পর বৃহস্পতিবার রাতে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে খোঁজ খবর নিয়েছি। পাশাপাশি ভুক্তভোগি মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর অভিভাবকদের থানায় লিখিত অভিযোগ দিতে বলেছি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এম.আতিকুল ইসলাম বুলবুল
চলনবিল বার্তা chalonbeelbarta.com