জাহাঙ্গীর আলম, পাবনা :
পাবনার চাটমোহর উপজেলার বিলচলন ইউনিয়নের চর সেনগ্রাম ও বওশা এলাকায় অবস্থিত কয়েকটি ইটভাটার বিষাক্ত গ্যাসে চরসেনগ্রাম এলাকার ২৫০ বিঘা জমির ধান পুড়ে গেছে। একই সাথে ওই এলাকাসহ আশপাশের এলাকাগুলোর বিভিন্ন ফলজ ও বনজ গাছ মরে গেছে। ফলগুলো খাওয়ার অনুপযোগী হয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা ইটভাটা বন্ধের দাবিতে বিক্ষোভ করেছে। পরে ঘটনাস্থলে অভিযোগের ভিত্তিতে উপস্থিত হয় চাটমোহর কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা। তিনি সরজমিন পরিদর্শন করেন।
এলাকাবাসী জানায়, গত তিন বছর ধরে প্রতিবছরই ইটভাটা বন্ধের সময় বিষাক্ত গ্যাসে এলাকার ফলজ ও বনজ গাছ পালা, ধানসহ অন্যান্য ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়। এছাড়া ভাটার অতিরিক্ত তাপমাত্রায় এলাকায় অধিকাংশ ফল গাছ ফলন হারিয়েছে। আম, লিচু, ডাব সহ সব গাছের ফলন কমে গেছে। যে পরিমাণ ফল হয় তাও খাওয়ার উপযোগী না। একই সাথে এলাকার শিশু-কিশোর ও মহিলা পুরুষ সবাই স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে ভুগছেন। একাধিক ভাটার মালিক দায় স্বীকার করে জানান, ইটভাটা বন্ধের সময় ধোয়া ও ছাই যে অঞ্চল দিয়ে বাতাসে প্রবাহিত হয় সে সকল অঞ্চলের গাছপালা ও ফসলের ক্ষতি হতে পারে। পরিবেশ ছাড়পত্র দুই একটি ইটভাটার থাকলেও অধিকাংশ ইটভাটার নাই। তবে এক ইট ভাটার মালিক অন্য ইট ভাটার মালিকের দোষারোপ করেন।
এ ব্যাপারে চাটমোহর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কৃষি কর্মকর্তা মোঃ জসিম উদ্দিন জানান, আমরা সরজমিন পরিদর্শন করেছি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে। বিভিন্ন কারণে ফসল পুড়ে যেতে পারে। অতিরিক্ত তাপমাত্রাও অন্যতম একটি কারণ হতে পারে। প্রয়োজনে অধিদপ্তর থেকে বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা দের নিয়ে এসে কারণ উদঘাটনের চেষ্টা করা হবে। এদিকে বিষয়টি নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে চরম অসন্তোষ দেখা গেছে। এলাকাবাসীর ক্ষতিপূরণ প্রদান না করলে সেই সাথে ইটভাটা বন্ধ না করলে তারা প্রয়োজনে জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ প্রদান
চলনবিল বার্তা chalonbeelbarta.com