মে দিবসের শিক্ষাঃ  স্লোগান নয়, বাস্তবায়ন চাই

Spread the love
পহেলা মে — মে দিবস। শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার, মানবিক মর্যাদা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকারের দিন।
বছর ঘুরে এলে নানা সেমিনার, টকশো আর মানববন্ধনের আয়োজন হয়।
কিন্তু আমাদের বাস্তব জীবনে, আমাদের আচরণে, শ্রমিকের প্রতি সম্মান ও ইনসাফ কি প্রতিফলিত হয়?
সকালের রোদে ক্লান্ত এক রিকশাওয়ালা। ভাড়া ছিল পঁচিশ টাকা, অথচ তাকে দেয়া হলো বিশ টাকা। প্রতিবাদ করলে বলা হলো—
“বন চটকানা চিনোস? যা দেওনের দিসি, নিলে নে, না নিলে ভাগ।”
তাকে ছোটলোক বলে তিরস্কার করা হলো।
অপরদিকে সেই যাত্রী কিছুক্ষণ পরই “দুনিয়ার মজলুম এক হও” স্লোগান দিয়ে মে দিবসের মানববন্ধনে অংশ নিতে যাচ্ছেন।
ফেসবুকে বিপ্লবী স্ট্যাটাসও দিয়েছেন। মুখে মজলুমদের অধিকার রক্ষার বুলি, কাজে অন্যায় আচরণ!
এক ধনী গৃহিণী উচ্চস্বরে চিৎকার করে বললেন,
“আমার বেড টি কই? কাপড় ইস্ত্রী হয়নি কেন?”
গৃহকর্মী রহিমা কাঁপা কাঁপা কণ্ঠে বলল, “কারেন্ট ছিলো না, খালাম্মা।”
কিন্তু ব্যাখ্যা শোনা হয়নি। শুরু হলো গালিগালাজ ও নির্যাতন।
শাস্তিস্বরূপ খাবার বন্ধ করে বারান্দায় তালাবদ্ধ করে রাখা হলো।
আশ্চর্যের বিষয়— এই গৃহিণী আজ বিকেলে মে দিবসের সেমিনারে শ্রমিকের অধিকার নিয়ে বক্তৃতা দিতে যাবেন!
একজন গাড়িচালক মুখলেস সাহস করে তার স্যারের কাছে অনুরোধ জানায়,
“স্যার, কাল মে দিবসের ছুটিতে ছেলেটাকে শিশুপার্কে নিতে চাই।”
উত্তরে স্যার রেগে বললেন,
“মাথা খারাপ নাকি? কাল আমার টকশো আছে, বিকালে পার্টি। সময় নাই।”
মুখলেস মন খারাপ করে গাড়িতে বসে থাকে। স্যার তখন টিভিতে মে দিবস নিয়ে টকশোতে মগ্ন।
এই তিনটি দৃশ্য আমাদের সমাজের বাস্তব প্রতিচ্ছবি।
কথায় মানবতা, কাজে অবহেলা।
শ্রমিকের ঘাম শুকানোর আগেই মজুরি দেয়ার যে নির্দেশ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দিয়েছেন —
(সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস: ২৪৪৩)
— তা বাস্তবে কোথায় প্রতিফলিত হয়?
ইসলাম আমাদের শিখিয়েছে ন্যায়বিচার, সহমর্মিতা ও মানবিক আচরণ।
কিন্তু বাস্তবতা বলছে, আজ এ শিক্ষা থেকে আমরা অনেক দূরে সরে গেছি।
মে দিবসের প্রকৃত শিক্ষা কেবল স্লোগানে নয়,
বরং শ্রমজীবী মানুষের অধিকার ও মর্যাদা বাস্তবে প্রতিষ্ঠার মধ্যে নিহিত।
তাদের ঘামের প্রতি সম্মান দেখানো ঈমানের দাবি।
প্রত্যেকের দায়িত্ব— নিজ নিজ অবস্থান থেকে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করা।
আসুন, ইসলামী শিক্ষার আলোকে শ্রমজীবী মানুষের দুঃখ-কষ্টের ভাগীদার হই।
তাদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে মে দিবসের প্রকৃত তাৎপর্য বাস্তবায়ন করি।আল্লাহ আমাদের তাওফিক দান করুন। আমীন।
উপসংহার:শ্রমিক শ্রেণির প্রতি সম্মান ও ইনসাফ প্রদর্শন কেবল একটি দিবসের কথা নয়, বরং তা আমাদের প্রতিদিনের ঈমানী দায়িত্ব। আসুন, নিজেদের আমলকে ঠিক করে সত্যিকার অর্থে মানবতার পতাকাবাহী হই।
লেখক তরুণ আলোচক ও গবেষক বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব
লেখক:
পীরজাদা মুফতি খোন্দকার আমিনুল ইসলাম আবদুল্লাহ
(তরুণ আলোচক, গবেষক ও বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ)
Please follow and like us:
Pin Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Website Design, Developed & Hosted by ALL IT BD