সীরাত সিরিজ  (পর্ব – সাত )

Spread the love
প্রসঙ্গ : উম্মুল মু’মিনীন : রাসূল (ﷺ) এর পুণ্যাত্মা স্ত্রীগণ)
মুফতি খোন্দকার আমিনুল ইসলাম আবদুল্লাহ ।

🟩 রাসূল (ﷺ) এর পুণ্যাত্মা স্ত্রীগণ
রাসূল (ﷺ) এর মোট ১১ জন স্ত্রী ছিলেন। তাঁর জীবদ্দশায় দুজন ই*ন্তে/কাল করেন- খাদিজা রা. ও জায়নাব বিনতু খুজায়মা হিলালিয়া রা.। বাকি নয়জন তাঁর ই*ন্তে/কালের সময় জীবিত ছিলেন। তবে একসঙ্গে চারজনের অধিক বিয়ের বিষয়টি শুধু রাসূল (ﷺ) এর অনন্য বৈশিষ্ট্য ছিল, এ ব্যাপারে উম্মাহর ইজমা রয়েছে। তাঁর বৈশিষ্ট্যের এসব কারণ সামনে বর্ণনা করা হবে, ইনশাআল্লাহ।
১. খাদিজা বিনতু খুওয়াইলিদ (রা.)
তাঁর জীবদ্দশায় রাসূল (ﷺ) অন্য কোনো মহিলাকে বিয়ে করেননি।(৪৩) হিজরতের তিন বছর আগে ৬৫ বছর বয়সে-তখন রাসূল (ﷺ) এর বয়স ছিল ৪৯ বছর-তিনি ই*ন্তে/কাল করেন। একই বছর আবু তালিবও মারা যান। তাই এ-বছরকে ‘আমুল হুজন’ বা ‘শোকের বছর’ বলা হয়।
খাদিজা রা. এর ই*ন্তে/কালের পর রাসূল (ﷺ) আরও কয়েকজন সচ্চরিত্র মহিলাকে বিয়ে করেন। তাঁরা হচ্ছেন: ২. সাওদা বিনতু জামআ রা., ৩. আয়েশা বিনতু আবু বকর রা., ৪. হাফসা বিনতু উমর রা., ৫. জায়নাব বিনতু খুজায়মা রা., ৬. উম্মু সালামা রা., ৭. জায়নাব বিনতু জাহাশ রা., ৮. জুওয়াইরিয়া রা., ৯. উম্মু হাবিবা রা., ১০. সাফিয়া রা., ১১. মাইমুনা রাজিআল্লাহু আনহুম.।
২. সাওদা বিনতু জামআ (রা.)
খাদিজা রা. এর ই*ন্তে/কালের পর রাসূল (ﷺ) সাওদা বিনতু জামআ রা. কে বিয়ে করেন। এর আগে তিনি সাকরান ইবনু আমরের বিয়েবন্ধনে আবন্ধ ছিলেন। স্বামী-স্ত্রী উভয়েই প্রথমদিকে ইসলাম গ্রহণ করেন এবং হাবশায় দ্বিতীয় হিজরত করেন। হাবশার মুহাজিরদের সঙ্গে মক্কায় ফেরার পর সাওদার স্বামী মারা যান। এরপর রাসূল (ﷺ) তাঁকে বিয়ে করেন। উমর রা.-এর খিলাফতকালের শেষ দিকে তিনি ই/ন্তে*কাল করেন।(৪৪) তাঁর থেকে পাঁচটি হাদিস বর্ণিত হয়েছে। তন্মধ্যে সহিহ বুখারিতে একটি ও সুনানু আরবাআতে চারটি।
৩. আয়েশা সিদ্দিকা (রা.)
নবুওয়াতের পঞ্চম বছরের শাওয়ালে আয়েশা রা. জন্ম নেন;(৪৫) আর দশম বছরে রাসূল (ﷺ) এর সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। তখন তাঁর বয়স ছিল ছয় বছর। এর তিন বছর পর তাঁর নয় বছর বয়সে এবং রাসূল (ﷺ) এর মদিনায় হিজরতের সাত মাস পর প্রথম হিজরির শাওয়ালে তাঁর বাসর হয়।(৪৬) আয়েশা রা. হলেন রাসূল (ﷺ) এর একমাত্র কুমারী স্ত্রী। তাঁর ১৮ বছর বয়সে রাসূল (ﷺ) ই/ন্তে*কাল করেন। মাত্র নয় বছরের নবি সাহচর্য তাঁর ওপর কী প্রভাব বিস্তার করেছিল এবং তিনি কতটুকু অর্জন করেছিলেন, তা সাহাবিদের বিভিন্ন কথা থেকে সহজেই বোঝা যায়।
তিনি ছিলেন উম্মতের মধ্যে সবচেয়ে বড় ফকিহ নারী এবং নারীদের মধ্যে সর্বাধিক জ্ঞানী। বড় বড় সাহাবি তাঁর ফাতওয়া গ্রহণ করতেন।(৪৭) তিনি ২ হাজার ২১০টি হাদিস বর্ণনা করেছেন।(৪৮) তাঁর সম্পর্কে সাহাবিরা বলতেন, ‘কোনো মাসআলায় আমাদের সন্দেহ হলে আমরা আয়েশা রা. কে জিজ্ঞেস করলে সমাধান পেয়ে যেতাম।’ এ কারণে প্রসিদ্ধ অনেক সাহাবি তাঁর শিষ্য ছিলেন। ৫৮ হিজরির ১৭ রমজানে ৬৭ বছর বয়সে তিনি ই/ন্তে*কাল করেন।(৪৯)
৪. হাফসা বিনতু উমর (রা.)
নবুওয়াতের পাঁচ বছর আগে তিনি জন্ম নেন। তাঁর পিতা উমর ইবনুল খাত্তাব রা., মা জায়নাব বিনতু মাজউন রা.। প্রথমে খুনায়িস ইবনু হুজাফা সাহমি রা.-এর সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। এরপর দ্বিতীয় অথবা তৃতীয় হিজরিতে রাসূল (ﷺ) তাঁকে বিয়ে করেন। তাঁর থেকে ৬০টি হাদিস বর্ণিত হয়েছে। ৪৫ হিজরিতে মদিনায় তিনি ই/ন্তে*কাল করেন।
৫. জায়নাব বিনতু খুজায়মা হিলালিয়া (রা.)
তিনি ‘উম্মুল মাসাকিন’ বা ‘নিঃস্বদের মা’ নামে পরিচিত ছিলেন। প্রথমে তাঁর বিয়ে হয় তুফায়িল ইবনু হারিসের সঙ্গে কিন্তু এক পর্যায়ে বিচ্ছেদ হয়ে যায়। এরপর তুফায়িলের ভাই উবায়দা রা. তাঁকে বিয়ে করেন। বদরযুদ্ধে উবায়দা রা. শহিদ হলে রাসূল (ﷺ) তাঁকে বিয়ে করেন।(৫০) তাঁর সঙ্গে বিয়ের মাত্র দু-মাস পর তিনি ই/ন্তে*কাল করেন।(৫১)
৬. উম্মু হাবিবা বিনতু আবু সুফিয়ান (রা.)
তিনি আবু সুফিয়ান রা.-এর মেয়ে। তাঁর প্রথম বিয়ে হয় উবায়দুল্লাহ ইবনু জাহাশের সঙ্গে। উবায়দুল্লাহর ঔরসে তাঁর সন্তানও হয়। তাঁরা উভয়ে ইসলামগ্রহণ করে হাবশায় হিজরতও করেন। হাবশায় যাওয়ার পর উবায়ল্লাহ খ্রি/ষ্টান হয়ে যায়। তবে উম্মু হাবিবা নিজের ইমানে অটল থাকেন। তখন রাসূল (ﷺ) হাবশার বাদশাহ নাজাশিকে চিঠি লিখে জানান, তিনি যেন রাসূল (ﷺ) এর পক্ষ থেকে তাঁর কাছে বিয়ের প্রস্তাব পাঠান। রাসূল (ﷺ) এর চিঠি পেয়ে বাদশাহ উম্মু হাবিবার কাছে বিয়ের প্রস্তাব দেন এবং ৪০০ দিনার মোহর তাঁর পক্ষ থেকে আদায় করেন। বিয়েতে তাঁর অভিভাবক ছিলেন খালিদ ইবনু সায়িদ ইবনুল আস রা.। ৪৪ হিজরিতে তিনি ই/ন্তে*কাল করেন। তাঁর থেকে মোট ৬৫টি হাদিস বর্ণিত হয়েছে।
৭. উম্মু সালামা (রা.)
তাঁর নাম হিন্দা। প্রথমে তাঁর বিয়ে হয় আবু সালামা ইবনু আবদুল আসাদের সঙ্গে। তাঁদের সন্তানাদিও হয়। স্বামীর সঙ্গে তিনি হাবশা ও মদিনায় হিজরত করেন। তৃতীয় অথবা চতুর্থ হিজরির জামাদিউস সানিতে রাসূল (ﷺ) এর সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। ৩৭৮টি হাদিস তিনি বর্ণনা করেছেন। কারও মতে ৬৩ হিজরিতে ৮৪ বছর বয়সে তিনি ই/ন্তে*কাল করেন।(৫২) বলা হয়ে থাকে, উম্মাহাতুল মুমিনিনের মধ্যে তিনিই সবার শেষে ই/ন্তে*কাল করেন।(৫৩)
৮. জায়নাব বিনতু জাহাশ (রা.)
জায়নাব বিনতু জাহাশ রা. রাসূল (ﷺ) এর ফুফাতো বোন। তাঁর মা উমায়মা বিনতু আবদুল মুত্তালিব। রাসূল (ﷺ) এর আদেশে তিনি জায়েদ ইবনু হারিসা রা. এর সঙ্গে বিয়েবন্ধনে আবন্ধ হন। জায়েদ রা. ছিলেন নবিজির আজাদকৃত দাস। আজাদের পর তাঁকে নিজের পালক ছেলে করেন রাসূল (ﷺ)। জায়েদ যেহেতু ‘দাস’ ছিলেন, তাই বংশ-গৌরবের কারণে জায়নাব রা. এ বিয়েকে আন্তরিকভাবে মেনে নিতে পারেননি। শুধু রাসূল (ﷺ) এর আদেশ পালনার্থে বিয়েতে তিনি রাজি হয়েছিলেন। এভাবে প্রায় এক বছর তিনি তাঁর স্ত্রী হিসেবে ছিলেন; কিন্তু স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে যেহেতু হৃদ্যতাপূর্ণ সম্পর্ক বা মানসিক বনিবনা হচ্ছিল না, ফলে সবসময় মনোমালিন্য লেগেই থাকত। এমনকি স্ত্রীর মানসিক অস্থিরতার বিষয়টি বুঝতে পেরে খোদ জায়েদ রা. রাসূল (ﷺ) এর কাছে স্ত্রী জায়নাব রা. কে তালাক প্রদানের ইচ্ছা প্রকাশ করতে থাকেন। তবে রাসূল (ﷺ) তাঁকে বুঝিয়ে তা থেকে বিরত রাখতেন। এতকিছুর পরও যখন তাঁদের মধ্যে বনিবনা হয়নি, তখন জায়েদ রা. বাধ্য হয়ে তাঁকে তালাক দেন।
জায়নাব রা. যখন জায়েদ রা. এর বাহুডোর থেকে মুক্ত হন, তখন রাসূল (ﷺ) তাঁর সান্ত্বনা ও মনোস্তুষ্টির জন্য তাঁকে বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন; কিন্তু বাধা হয়ে দাঁড়ায় অন্য একটি বিষয়! তখন আরবসমাজে পালকপুত্রকে ঔরসজাত সন্তানের মতো মনে করা হতো। তাই সমাজের সাধারণ মানুষের মনোভাব প্রত্যক্ষ করে রাসূল (ﷺ) তাঁকে আপাতত বিয়ে করা থেকে বিরত থাকেন। কেননা, তখন হয়তো মানুষ এটা বলাবলি করত যে, তিনি তাঁর পুত্রবধূকে বিয়ে করেছেন। কিন্তু এটা যে জাহিলি যুগের একটা কুসংস্কার এবং তা নির্মূল করা ইসলামের অপরিহার্য দায়িত্ব, সুতরাং এই কুধারণা মিটিয়ে দিতে আল্লাহ তাআলা কুরআনের একটি আয়াত নাজিল করেন,
وَ اِذۡ تَقُوۡلُ لِلَّذِیۡۤ اَنۡعَمَ اللّٰهُ عَلَیۡهِ وَ اَنۡعَمۡتَ عَلَیۡهِ اَمۡسِکۡ عَلَیۡکَ زَوۡجَکَ وَ اتَّقِ اللّٰهَ وَ تُخۡفِیۡ فِیۡ نَفۡسِکَ مَا اللّٰهُ مُبۡدِیۡهِ وَ تَخۡشَی النَّاسَ ۚ وَ اللّٰهُ اَحَقُّ اَنۡ تَخۡشٰهُ ؕ فَلَمَّا قَضٰی زَیۡدٌ مِّنۡهَا وَطَرًا زَوَّجۡنٰکَهَا لِکَیۡ لَا یَکُوۡنَ عَلَی الۡمُؤۡمِنِیۡنَ حَرَجٌ فِیۡۤ اَزۡوَاجِ اَدۡعِیَآئِهِمۡ اِذَا قَضَوۡا مِنۡهُنَّ وَطَرًا ؕ وَ کَانَ اَمۡرُ اللّٰهِ مَفۡعُوۡلًا ﴿۳۷﴾
আর স্মরণ কর, আল্লাহ যার উপর নিআমত দিয়েছিলেন এবং তুমিও যার প্রতি অনুগ্রহ করেছিলে, তুমি যখন তাকে বলেছিলে ‘তোমার স্ত্রীকে নিজের কাছে রেখে দাও এবং আল্লাহকে ভয় কর’। আর তুমি অন্তরে যা গোপন রাখছ আল্লাহ তা প্রকাশকারী এবং তুমি মানুষকে ভয় করছ অথচ আল্লাহই অধিকতর হকদার যে, তুমি তাকে ভয় করবে; অতঃপর যায়েদ যখন তার স্ত্রীর সাথে বিবাহ সম্পর্ক ছিন্ন করল তখন আমি তাকে তোমার সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ করলাম, যাতে পালক পুত্রদের স্ত্রীদের ব্যাপারে মুমিনদের কোন অসুবিধা না থাকে; যখন তারা তাদের স্ত্রীদের সাথে বিবাহসম্পর্ক ছিন্ন করে। আর আল্লাহর নির্দেশ কার্যকর হয়ে থাকে। [সূরা আহজাব : ৩৭]
চতুর্থ হিজরি, কোনো বর্ণনায় তৃতীয় অথবা পঞ্চম হিজরিতে আল্লাহর আদেশে রাসূল (ﷺ) তাঁকে বিয়ে করেন। মানুষ যাতে এটা বুঝতে পারে যে, পালকপুত্র ঔরসজাত পুত্রের মতো নয়; এমনকি পালকপুত্রের সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ক ভেঙে গেলে তার স্ত্রীকে বিয়ে করা পালক পিতার জন্য হারাম নয়। যারা আল্লাহর হালাল এ বিধানকে আকিদা ও আমলের ক্ষেত্রে হারাম করে রেখেছে, তারা যেন ভবিষ্যতে এমনটা আর না করে। জাহিলি যুগের এই কুসংস্কারের ধারাও যেন চিরতরে বন্ধ হয়ে যায়; কিন্তু এই প্রাচীন কুপ্রথা তখনই বন্ধ করা সম্ভব ছিল, যখন রাসূল (ﷺ) নিজেই কার্যক্ষেত্রে সেটা বাস্তবায়ন করে দেখাবেন।(৫৪)
জায়নাব বিনতু জাহাশ রা. ২০ হিজরিতে মদিনায় ই/ন্তে*কাল করেন। তাঁর থেকে নয়টি হাদিস বর্ণিত হয়েছে।
৯. সাফিয়া বিনতু হুয়াই (রা.)
সাফিয়া বিনতু হুয়াই রা. প্রথমে কিনানা ইবনু আবিল হুকাইকের স্ত্রী ছিলেন। মুসলিমরা সপ্তম হিজরিতে খায়বার বিজয় করলে কিনানা সে যুদ্ধে নিহত হয় এবং সাফিয়া যুদ্ধবন্দি হয়ে মদিনায় আসেন। অথচ তিনি ছিলেন কুরায়জা ও নাজির উভয় গোত্রের সরদারের মেয়ে এবং হারুন আ.-এর বংশধর। এটা শুধু তাঁরই বৈশিষ্ট্য ছিল যে, তিনি এক নবির বংশধর আর আরেক নবির স্ত্রী ছিলেন। তাঁর সম্পর্কে জানতে পেরে রাসূল (ﷺ) তাঁকে মুক্ত করে বিয়ে করেন।(৫৫) তিনি মোট ১০টি হাদিস বর্ণনা করেছেন। ৫০ হিজরির রমজানে তাঁর ই/ন্তে*কাল হয়।
১০. জুওয়াইরিয়া বিনতু হারিস খুজাইয়া(রা.)
তিনি বনু মুসতালিকের সরদার হারিসের মেয়ে। যুদ্ধবন্দি হিসেবে রাসূল (ﷺ) এর কাছে আসেন। পরে রাসূল (ﷺ) তাঁকে মুক্ত করে বিয়ে করেন। তিনি তাঁকে বিয়ে করায় তাঁর গোত্রের সবাই মুক্তি পায় এবং তাঁর পিতা মুসলমান হন। জুওয়াইরিয়া ৫০ হিজরিতে ই/ন্তে*কাল করেন। তাঁর থেকে পাঁচটি হাদিস বর্ণিত হয়েছে।১১. মাইমুনা বিনতু হারিস হিলালিয়া (রা.)
তিনি প্রথমে মাসউদ ইবনু উমরের স্ত্রী ছিলেন। সে তাঁকে তালাক দেওয়ার পর আবু রিহামের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। আবু রিহামের মৃত্যুর পর সপ্তম হিজরিতে রাসূল (ﷺ) তাঁকে বিয়ে করেন। তিনি নবিজির শেষ স্ত্রী। ৫১ হিজরিতে তিনি ই/ন্তে*কাল করেন। তাঁর থেকে ৭৬টি হাদিস বর্ণিত হয়েছে।
টীকা :
(৪৩) রাসূল (ﷺ) এর সঙ্গে বিয়ের আগে তাঁর আরও দু-বার বিয়ে হয়েছিল। প্রথমে আতিক ইবনু আবিদের সঙ্গে। এই তরফে আবদুল্লাহ নামে এক ছেলে ও হিন্দ নামে এক মেয়ে জন্ম নেয়। হিন্দ মুসলমান হয়েছেন। আতিকের মৃত্যুর পরে তিনি আবু হালা ইবনু নাবাশ ইবনু জারারা তামিমিকে বিয়ে করেন। এ পক্ষে হিন্দ ও হালা নামে দুজন ছেলেসন্তান জন্ম নেন এবং উভয়েই মুসলমান হন। সিরাতু ইবনি হিশাম : ২/৬৪৪।
(৪৪) শারহুজ জুরকানি আলাল মাওয়াহিব : ৩/২২৩।
(৪৫) সিরাতে আয়েশা, সাইয়িদ সুলায়মান নদবি (অনুবাদ: মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম): ৪৪।
(৪৬) সহিহ বুখারি : ৫১৩৩।
(৪৭) জাদুল মাআদ: ১/১০৬।
(৪৮) আস-সিরাতুন নাবাবিয়াতুস সাহিহিয়া: ২/৬৪৯।
(৪৯) সিরাতে আয়েশা, সাইয়িদ সুলায়মান নদবি (অনুবাদ: মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম): ২২৭।
(৫০) সিরাতে মুগলতাই: ৪৯।
(৫১) নাশবুত তিব।
(৫২) শারহুজ জুরকানি আলাল মাওয়াহিব: ৩/২৪১।
(৫৩) সিরাতে মুগলতাই: ৫৫।
(৫৪) জায়নাব রা.-এর বিয়ে সম্পর্কে আমি যা কিছু লিখেছি, তা অত্যন্ত বিশুদ্ধ হাদিসের আলোকেই লিখেছি। এ বিষয়ের বিশুদ্ধ হাদিসগুলো সহিহ বুখারির ব্যাখ্যাকার আল্লামা ইবনু হাজার আসকালানি রাহ, তাঁর ফাতহুল বারিতে সূরা আহজাবের তাফসিরে সংকলন করেছেন। এগুলো ছাড়া যেসব ভ্রান্ত বর্ণনা প্রচার করা হয়েছে, সেগুলো মুনাফিক ও কাফিরদের মনগড়া কাহিনি। সেসব বর্ণাকে অনেক মুসলিম লেখক ও ইতিহাসবিদ কোনো প্রকার যাচাই-বাছাই ছাড়াই নিজেদের গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন; অথচ এগুলো সম্পূর্ণ মিথ্য আর অপবাদ ছাড়া কিছু নয়।
(৫৫) সুনানু আবি দাউদ : ৩৯৩১।
লেখা :
বই – সিরাতে খাতামুল আম্বিয়া ﷺ ; পৃষ্ঠা : ৩৩-৩৮
লেখক : মুফতি মুহাম্মদ শফি (রহ.)
অনুবাদক : ইলিয়াস মশহুদ
Please follow and like us:
Pin Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Website Design, Developed & Hosted by ALL IT BD