সলঙ্গায় রাস্তার উপর মুরগির বিষ্ঠার স্তপ

Spread the love

ফারুক আহমেদঃ সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলায় সলঙ্গা রোডে আমশড়া জোরপুকুর বাজার হতে  একটু পূর্বে, অন্যদিকে বাজার হতে নিমগাছি রোডে হাফ কিলোমিটার উত্তরে  পাকা সড়কের পাশে স্তুপ করে রেখে ব্যবসা করা হচ্ছে  মুরগির বিষ্ঠার বস্তা আর বিষ্ঠার দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী।অভিযোগ উঠেছে, নীতিমালা উপেক্ষা করে গ্রামের ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায়    বিভিন্ন জেলা থেকে মুরগির  বিষ্ঠার বস্তা কিনে এনে ময়লার স্তপ করে রাখা হয়েছে। এ বিষয়ে থানা ও বিভিন্ন দপ্তরে  অভিযোগ জানিয়েছিলেন গ্রামবাসী। তাতেও কোন কাজ হয়নি।

জানা যায়, প্রায় ৭ – ৮ বছর ধরে কিছু অসৎ সার্থনিশি ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন জেলা থেকে মুরগির বিষ্ঠার বস্তা কিনে এনে সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলা সলঙ্গার বিভিন্ন  পাকা রাস্তার ধার নির্বাচন করে বছরের পর বছর  ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায়  ব্যবসা করে যাচ্ছে। তাছাড়া গ্রামে সোনালি মুরগির  ফার্মসহ বর্তমানে এলাকায়  প্রায় আড়াই হাজার লেয়ার মুরগি খামার রয়েছে। আর মুরগির বিষ্ঠা প্রামবাসীর চলাচলের একমাত্র পাকা রাস্তার ধারে স্তুপ করে রাখা হয়েছে। বিষ্ঠার দুর্গন্ধে রাস্তায় চলাচল করা এবং আশপাশে মানুষের বসবাস করা দায় হয়ে পড়েছে।

অথচ নীতিমালা অনুযায়ী, একটি মুরগির খামার স্থাপনের জন্য পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমতি ও প্রাণিসম্পদ কার্যালয় থেকে রেজিস্ট্রেশনভুক্ত হতে হবে। ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা এবং জনগণের ক্ষতি হয় এমন স্থানে খামার স্থাপনসহ পরিবেশের ক্ষতি হয় তেমনি কোনো ব্যবসা  করা যাবে না।

গত শনিবার রায়গঞ্জ উপজেলা সলঙ্গা থানা আমশড়া  গ্রামে গিয়ে রাস্তার ধারে দেখা যায়, এই চিত্র। 

বিশিষ্ট সমাজসেবক আব্দুল মজিদ বলেন, তিনি নিজেই গিয়ে মুরগির বিষ্ঠা ব্যবসায়ীদেরকে রাস্তার ধারে মুরগির বিষ্ঠা স্তপ করে না রাখার কথা বলেছিলেন। কিন্তু বিষ্ঠা ব্যবসায়ীরা তা মানেননি। 

বিষ্ঠা ব্যবসায়ীরা বলেন, আমরা সরকারি  রাস্তার ধারে বিষ্ঠা রেখেছি তাতে কি হয়েছে। একটু  দুর্গন্ধতো হবেই। তারা মুরগির বিষ্ঠা দূর দূরান্ত ব্যাপারিদের কাছে বিক্রি করেন বলে এ প্রতিনিধিকে জানান তারা।  তবে মুরগির বিষ্ঠার বস্তা পরিকল্পিত সংরক্ষণে তাদের নেই কোন ব্যবস্থা। 

আমশড়া ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসার অধ্যাপক মিজানুর রহমান এই প্রতিনিধিকে বলেন,ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা বিষ্ঠার দুর্গন্ধে স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসার ছাত্র /ছাত্রীরা ছাড়াও পথচারীদের নিদারুণ কষ্ট হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, বিষ্ঠার দুর্গন্ধে বাতাসের মাধ্যমে বায়ুদূষণ হয়। এর ফলে মানুষের শ্বাসকষ্ট হয়ে হতে পারে পেট খারাপ। ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন প্রকারের মত রোগ বালাই। 

উপজেলা প্রাণিসম্পাদ কর্মকর্ত বলেন, রায়গঞ্জ উপজেলায় আমশড়া গ্রামসহ আরো কয়েকটি গ্রামে কিছু ব্যবসায়ীরা দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে মুরগির বিষ্ঠার বস্তা কিনে এনে সরকারি রাস্তার ধারে স্তপ করে রেখে বিভিন্ন জেলায় বিক্রি করার বিষয়টি  শুনেছি। সেখানে লোক পাঠানো হবে। 

তিনি আরো বলেন, পরিবেশ অধিদপ্তর ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের অনুমতি ছাড়া সরকারি রাস্তার ধারে মুরগির বিষ্ঠা রেখে ব্যবসা করার অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

Please follow and like us:
Pin Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Website Design, Developed & Hosted by ALL IT BD