তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ সিরাজগঞ্জের তাড়াশে জেলা শিক্ষা প্রকৌশলী অধিদপ্তরের অনুমতি না নিয়ে নিম্ন মানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করে উপজেলার গুল্টাবাজার শহীদ এম মুনসুর আলী ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ কর্তৃক পাকা রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে।
সিরাজগঞ্জ জেলা শিক্ষা প্রকৌশলী অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গুল্টাবাজার শহীদ এম মুনসুর আলী ডিগ্রি কলেজের অভ্যন্তরে ৫৮ মিটার রাস্তা পাকাকরণের জন্য দরপত্র আহ্বান করে জেলা শিক্ষা প্রকৌশলী অধিদপ্তর। দরপত্রে সাড়ে ৪ লাখ টাকা চুক্তিমূল্যে কাজ পায় মেসার্স অনামিকা এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
কিন্তু এ কাজে বাঁধ সেধেছে ওই কলেজ অধ্যক্ষ মো. আসাদুজ্জামান। তিনি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে পাশ কাটিয়ে নিজ উদ্দ্যেগে কলেজের একটি ভাঙ্গা গেটের পুরাতন ইট দিয়ে খোয়া বানিয়ে জোরপূর্বক কাজ করাচ্ছেন। বিনিময়ে তিনি ঠিকাদারের কাছ থেকে নতুর ইটের দাম আদায় করছেন বলে অভিযোগ করেন ওই কাজে নিয়োজিত মেসার্স শিমুল এন্টারপ্রাইজ নামের সাব-ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক সোহেল রানা।
এ দিকে বুধবার ঘটনাস্থলে গিয়ে কথা হয় রাস্তা নির্মাণের শ্রমিক জহুরুল ইসলামের সাথে। তিনি জানান, আমরা নতুন ইট দিয়ে কাজ করবো। কিন্তু কলেজের অধ্যক্ষ বলছেন, তাঁর সরবরাহ করা পুরাতন ইট ব্যবহার করেই কাজটি শেষ করতে। সেই সাথে রাস্তার গাইড ওয়ালেও পুরাতন ইট ব্যবহারের জন্য চাপ দিচ্ছেন এবং করতে বাধ্য করছেন। এতে করে রাস্তাটি নির্মাণে নানা অনিয়মের অভিযোগ করছেন একাধিক এলাকাবাসী।
অবশ্য এ সকল অভিযোগ অস্বীকার করে গুল্টাবাজার শহীদ এম মুনসুর আলী ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কি ভাবে কাজ করছেন তাঁরাই ভালো বলতে পারেন।
বিষয়টি নিয়ে বৃহস্পতিবার সিরাজগঞ্জ শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী আমিরুল ইসলাম জানান, অধ্যক্ষ সাহেব কাজ করেছেন এমন খবর জেনেছি। আমরা দ্রুত সেখানে গিয়ে সিডিউল অনুযায়ী রাস্তাটি হচ্ছে কিনা দেখব।
এ প্রসঙ্গে সিরাজগঞ্জ শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. হাবিবুর রহমান বলেন, আমাদের অনুমতি ছাড়া কাজটি করায় আপাতত কাজটি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।
চলনবিল বার্তা chalonbeelbarta.com