আবুল কালাম আজাদ: আষাঢ় গেল ,শ্রাবন ( শাওন) চলছে। বর্ষাকালে তবুও কাংখিত বৃষ্টিপাতের দেখা নাই। প্রয়োজনীয় বৃষ্টিপাতের অভাবে খলে-বিলে পানি না থাকায় পাট জাগানোর জন্য পর্যাপ্ত পানি নাই। ফলে পাট কাটার ভারা মওসুম হলেও চলনবিল অধ্যুসিত নাটোরের গুরুদাসপুরে পাটকাটা ব্যাহত হচ্ছে। পিছিয়ে যাচ্ছে আমন ধান রোপনের সময়। অনেক চাষীর বীজতলার ধানের চারা তুলে লাগানোর সময় শেষের দিকে। উপজেলা কৃষি অফিস বলছে, আমন ধানের বীজতলা তৈরী চলমান আছে।এমন অবস্থায় পাটকাটা ও ধান লাগানো নিয়ে বিপাকে পড়েছে চাষিরা। কৃষি অফিস বলছে, বৃষ্টিপাত হয়েছে। তবে আশানুরূপ হয়নি। তাই পাটকাটা ব্যাহত হচ্ছে। তবে যেসব এলাকার খাল বিলে সামান্য হলেও পানি জমেছে। সেগুলোতে পাট জাগ দিচ্ছেন চাষীরা। শিকারপুরের পাটচাষি আব্দুল মালেক বলেন, পাটের আবাদ ভালো হয়েছে। পাট কাটারও সময় হয়েছে। অনেকেই পাট কেটেছে। কিন্তু খালবিলে পানি নেই। তাই অনেকেই পাট কাটতে পারছে না। আমি ৩ বিঘা জমিতে পাট বুনেছি । এর মধ্যে ১ বিঘার পাট কেটেছি। অপেক্ষায় আছি পাশের খালবিলে পানি জমলে বাকি পাট কাটা শুরু করবো।
রাব্বি হোসেন নামের পাটচাষি জানান, তিনি পানির অভাবে পাট কাটতে পারছেন না। একই কারণে ধানও লাগাতে পারছেন না। ফলে উভয় সংকটে পড়েছেন তিনি। বৃকাশোর হাকিম বলেন,দেড় বিঘা জমির পাট কেটেছি। খালে একটু পানি জমার কারণে। পাট কাটার দুইদিন পরে ধান চাষের জন্য জমি প্রস্তুত করেছি। কয়েক দিনের মধ্যে ধান লাগাবো। বৃষ্টিপাত কম হওয়ার কারণে পাট কাটতে পারছিলাম না। এখনও বৃষ্টিপাত কম। তবে ধান লাগানোর জন্য পাট কেটেছি।
পাট ব্যবসায়ী খলেক জানান, এবছর এলাকায় বৃষ্টিপাত কম হওয়ার কারণে পুকুর, খালে পানি নেই। তাই পাট কাটতে পারছেন না কৃষকরা। তবে নীচু এলাকাগুলোর পাটের জমিতে পানি জমেছে। সেগুলো কেটে সেখানেই জাগ দিচ্ছেন চাষীরা।
তিনি আরও জানান, কয়েক বছর থেকে পাটের ভালো দাম পাচ্ছেন চাষীরা। গত বছর অনেক চাষি মৌসুমের শেষে পাট বিক্রি করেন। ফলে তুলনামূলক ভালো দাম পেয়েছেন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক বলেন, বৃষ্টিপাত কম হওয়ার কারণে আমন ধান লাগাতে ধীর গতি। কারণ অনেকেই পাট কেটে জমিতে ধান লাগাবেন। তাদের পাটের কারণে ধান লাগানো আটকে আছে। এছাড়া যে সব জমিতে পাট ছিল না, চাষীরা সে জমিগুলোতে ইতোমধ্যে ধান লাগিয়েছেন। অনেক ধান ও পাট চাষি বৃষ্টির দিকে তাকিয়ে আছেন। আশানুরূপ বৃষ্টিপাত হলে একদিকে কাটা পড়বে পাট অন্যদিকে লাগানো হবে আমন ধান।
ধারাবারিষা গ্রামের কৃষক আজিজল জানান মটর দিয়ে ডোবায় পানি সেচ দিয়ে পাট জাগ দেওয়া হয়েছে। জাকিরুল ইসলাম জানান, ১ বিঘা জমির পাট কেটে এক ডোবায় জাগ দিলে সেখানে পানি শুকিয়ে উঠায় আধা জাগ হওয়া পাট তুলে এনে মটর দিয়ে সেচ দেওয়া পানিতে পুনরায় জাগ দেওয়া হয়। এমন উপজেলার অনেক কৃষক জানান পাট কাটার দরকার ছিল আরো কয়েক দিন আগে কিন্তু কেটে ডুবাবো কোথায়। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হারুনর রশিদ জানান এমনিতেই চলতি মৌসুমে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত না হওয়ায় রসুন-কালাই-সরিষা উঠানোর পর জমিতে জো না থাকায় গতবারের চেয়ে এবার পাট চাষ কম হয়েছে। উপজেলায় চলতি মওসুমে ৩ হাজার ৭শত ৫০ হেক্টর জমিতে পাট চাষ করা হয়েছে। যেহেতু ভারিবর্ষণ হচ্ছে না সে ক্ষেত্রে কাঁচা পাট কেটে ছাল ছিলে গর্ত করে পানি দিয়ে রিং পদ্ধতিতে জাগ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
চলনবিল বার্তা chalonbeelbarta.com