তাড়াশে গ্রামে গ্রামে পাট কাটার মহা ধুম

Spread the love

মোঃ মুন্না হুসাইন তাড়াশ :

তাড়াশ উপজেলায় কৃষকরা এখন পাট গাছ কাটা, জাগ দেওয়া, শুকানো ও বাজারজাত করার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। এবার অধিক বৃষ্টির কারণে জলাশয়ে পানি জমে থাকার ফলে পাট চাষিরাও খুঁশি। চলতি মৌসুমে পাটের বাম্পার ফলনের পাশাপাশি উচ্চ দামের আশা করছেন কৃষকরা।

সংশ্লিষ্ট সুত্র জানায়,এ বছর উপজেলায় আবাদযোগ্য জমির মধ্যে পাট চাষের জন্য ১৭ হাজার ৬’শ ৬৫ হেক্টর জমি নির্ধারন করা হয়েছিল। আবাদ হয়েছে ১ হাজার ৬’শ ২৫ হেক্টর জমিতে। উৎপাদন লক্ষমাত্রা ধরা হয়েছে হেক্টর প্রতি পনের বেল। এ হিসেবে বিঘা প্রতি আট মণ পাট কৃষকরা ঘরে তুলতে পারবেন।বিভিন্ন এলাকার কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে , জুলাই মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে উপজেলার সর্বত্র পাট কাটা শুরু হয়েছে। যা পর্যায়ক্রমে আগষ্ট মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত পাট কাটা চলবে । তবে পাট জাগ দেওয়ার জন্য প্রয়োজনের তুলনায় ডোবা-নালা,খাল-বিল ও জলাশয় কম হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। অনেক কৃষক জমি থেকে পাট কেটে ভ্যান ভাড়া করে ৪/৫ কিলোমিটার দুরে নদীতে ও দুরবর্তী বিভিন্ন জলাশয়ে নিয়ে পাট জাগ দিচ্ছেন। জমিতে পাট কাটার উপযুক্ত হলেও জাগ দেওয়ার জায়গার অভাবে পাট কাটতে পারছেন না অনেক কৃষক। কেউ কেউ জায়গা ভাড়া করেও পাট জাগ দিচ্ছেন। সার ,বীজ, কীটনাশক, সেচ ও শ্রমিক খরচ ছাড়াও তাতে বাড়তি খরচের হিসাব টানতে হবে বলে কৃষকরা জানান।

মহেশরৌহালী গ্রামের পাটচাষি ছোরহাবপ উদ্দীন জানান, এবার তিনি ৫ বিঘা জমিতে পাটের আবাদ করেছেন। ১বিঘা জমিতে পাট আবাদসহ ধুয়ে শুকিয়ে ঘরে তুলতে সব মিলিয়ে খরচ হবে প্রতি বিঘায় প্রায় ৮ হাজার টাকা। বিঘা প্রতি ৭/৮ মণ পাট উৎপন্ন হবে বলে আশা করছেন তিনি। গত বছর বাজারে প্রতি মণ পাট বিক্রি করেছিলেন ১হাজার ৫’শ টাকা দরে । নানাবিধ খরচের কারণে এবছর ওই দামে প্রতিমণ পাট বিক্রি করতে না পারলে আবাদে লাভ হবেনা তার।বিরল গ্রামের আরেক চাষি সামাদ আলী এবার ৬ বিঘা জমিতে পাটের আবাদ করেছেন। উৎপাদন আশা করছেন বিঘা প্রতি ৮ মণ। বাজার দর ভালো পেলে আবাদে লাভ হবে বলে আশা করছেন তিনি। ব্যসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে ২/১ সপ্তাহের মধ্যে হাট বাজারে নতুন পাট বেচা-কেনা শুরু হবে।উপজেলা কৃষি অফিসার লুৎফুন্নেসা বেগম জানান, গত বছরের তুলনায় এবার পাটের আবাদ বেশি হয়েছে। পাটের বহুবিধ ব্যবহারের ফলে ভালো দাম পাচ্ছেন কৃষকরা। গত বছর ভালো দামে পাট বিক্রি করে লাভবান হয়েছেন কৃষকরা। এবার উৎপাদন ভালো হয়েছে।

Please follow and like us:
Pin Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Website Design, Developed & Hosted by ALL IT BD