অস্ত্রোপচারে কৃষকের মৃত্যু, ও পঙ্গু হওয়ার পথে আরোও তিনজন
নাটোর প্রতিনিধি:
ভুল অস্ত্রোপচারে কৃষকের মৃত্যু ও তিন রোগীর পঙ্গুত্ব নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করায় ক্ষুব্ধ হয়ে সাংবাদিকের নামে গুরুদাসপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন অভিযুক্ত চিকিৎক জাহিদুল ইসলাম। ২৫ জুলাই সন্ধ্যায় তিনি থানায় হাজির হয়ে জিডিটি দায়ের করেন।
জাহিদুল ইসলাম বড়াইগ্রাম জাহিদা হাসপাতালের স্বত্ত্বাধিকারী ও গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের হাড়-জোড় রোগ বিশেষজ্ঞ (অর্থপেডিক)। এই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে সিজারিয়ান অপারেশনে প্রসূতি মৃত্যুর অভিযোগও রয়েছে। এরই মধ্যে পায়ের হাড়ের ভেতর ডিল মেশিনের ফলা রেখে সেলাই করার ঘটনায় ওই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে। চিকিৎসকের বিচার দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছেন রোগীর স্বজনেরা। মূলত নিজের অপরাধ গোপন করতে ওই চিকিৎসক দৈনিক ইত্তেফাকের গুরুদাসপুর সংবাদদাতা মো. রাশিদুল ইসলামের নামে জিডি করেছেন বলে মন্তব্য করেন স্থানীয় সংবাদকর্মীরা।
জিডিতে চিকিৎসক জাহিদুল ইসলাম উল্লেখ করেন, আনোয়ারা বেগমের পায়ের হাড়ে ডিল মেশিনের ফলা রেখেই সেলাই করা এবং চিকিৎসকের বিচার দাবিতে করা মানববন্ধনে জাহিদুল ইসলামের মানক্ষুন্ন হয়েছে। তার মতে-সাংবাদিকরা তার বিরুদ্ধে অপতথ্য প্রচার করছেন। একারণে তিনি ভবিষতের জন্য বিষয়টি সাধারণ ডায়েরিভুক্ত করেছেন।
গুরুদাসপুরের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আনিছুর রহমান বলেন, বাস্তবভিত্তিক সংবাদ প্রকাশের জেরে সংবাদকর্মীর বিরুদ্ধে জিডি করা স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য চরম হুমকির। অবিলম্বে জিডি প্রত্যাহার ও ভুল অস্ত্রোপচারের তদন্ত করে অভিযুক্ত চিকিৎসক জাহিদুলের বিচার দাবি করেন তিনি। অন্যথায় আন্দোলনের হুঁশায়ারিও দেন তিনি।
গুরুদাসপুর কেন্দ্রীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক কালবেলার মিজানুর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, চিকিৎসক জাহিদুল সংবাদ প্রকাশের জের ধরে সাংবাদিকের নামে জিডি করেছেন। ভুল চিকিৎসা সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশ অব্যহত থাকলেও সাংবাদিকদের নামে মানহানি মামলা করার হুমকিও দিয়েছেন চিকিৎসক জাহিদুল। জিডি এবং চিকিৎসকের মামলার হুমকির নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, চিকিৎসক জাহিদুলের ভুল অস্ত্রোপচারে একজন কৃষক নিহত হয়েছেন। পা হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছেন আরো তিনজন রোগী। অথচ চিকিৎসক জাহিদুল দাম্ভিকতার সঙ্গে সাংবাদিকদের হুমকি দিচ্ছেন। তিনি চিকিৎসক জাহিদুলের বিচার দাবি করেন।
ভুক্তভোগী সংবাদকর্মী রাশিদুল ইসলাম বলেন, চিকিৎসক জাহিদুলের বিরুদ্ধে মনগড়া কোনো সংবাদ প্রকাশ করা হয়নি। লিখিত অভিযোগ, ভুক্তভোগিদের ভিডিও বক্তব্য এবং চিকিৎসাকালীন কাগজপত্র বিশ্লেষন করে সাধারণ রোগীদের কথা তুলে ধরা হয়েছে। অথচ চিকিৎসক জাহিদুল নিজের অপরাধ গোপন করতে তার নামে থানায় জিডি করেছেন।
‘পায়ের হাড়ে ডিল মেশিনের ফলা রেখেই সেলাই পা হারানোর ঝুঁকি’ এবং ‘ভুল অস্ত্রোপচারে কৃষকের মৃত্যু, পঙ্গু হওয়ার পথে আরোও তিনজন’ শিরোনামে ইত্তেফাকে সংবাদ প্রকাশ হয়েছে। সংবাদ প্রকাশের পর ‘পায়ের হাড়ে ডিল মেশিনের ফলা রাখার’ ঘটনায় ৪ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন নাটোরের সিভিল সার্জন। তদন্ত কমিটি গতকাল সোমবার সরেজমিনে গিয়ে রোগীর কাগজপত্র সংগ্রহ করে লিখিত বক্তব্য নিয়েছে। তবে ‘ভুল অস্ত্রোপচারে কৃষকের মৃত্যু, পঙ্গু হওয়ার পথে আরোও তিনজন’ এই ঘটনা তদন্তে কোনো কমিটি গঠনের খবর পাওয়া যায়নি।
গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের হাড়-জোড়া রোগ বিশেষজ্ঞ (অর্থপেডিক্স) জাহিদুল ইসলাম মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়ার এ ব্যপারে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
রাজশাহীর স্বাস্থ্য পরিচালক চিকিৎসক মো. হাবিবুর রহমান সংবাদিকের নামে জিডি করার নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ভুল অস্ত্রোপচারে কৃষকের মৃত্যু, পঙ্গু হওয়ার পথে আরোও তিনজন’-এই ঘটনাটি তদন্তে নাটোরের সিভিল সার্জনকে নির্দেশ দেবেন তিনি।

ReplyReply allForward