তাড়াশ হাসপাতালে কর্মকর্তা লাঞ্ছিত : সব অনিয়মের অবসান দরকার

Spread the love

রোগীদের খাবার  সরবরাহ করার সময় খাবারের মান নিয়ে প্রশ্ন তোলায়  ঠিকাদারের লোকেরা তাড়াশ হাসপাতালের শীর্ষ কর্মকর্তাসহ ৪ জনকে লাঞ্ছিত করেছে। এ ঘটনা গত ২৬ মে মঙ্গলবার। ঘটনাটি দুর্ভাগ্যজনক বটে। এটা শুনতে যেমন অসহনীয়- এ পরিবেশ  অব্যাহতভাবে মেনে নেওয়াও তাড়াশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পক্ষে চরম লজ্জা আর অপমানজনক। ঠিকাদারের অপেশাদার চেলারা একজন সরকারী প্রথম শ্রেণির কর্তৃপক্ষ প্রধানের গায়ে হাত তুলবে  তা অত্যন্ত গর্হিত এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এ ঘটনা তাড়াশের জন্যেও একটা দুর্নাম বা কলংকজনক এ জন্য যে, একজন চিকিৎসক মর্যাদার সন্মানিত কর্মকর্তা তার সহকর্মীদের সহ অপাঙক্তেয় ব্যক্তিদের দ্বারা অবমানিত হবেন- তাড়াশ এলাকাবাসীও তা মেনে নিতে পারে না। আমরা এই অসভ্য আচরণের তথা উদ্ধতপনার তীব্র নিন্দা জানাই এবং এর উপযুক্ত বিচার দাবি করি। ঘটনার প্রেক্ষিতে  একই দিন তাড়াশ থানায় মামলা হয়েছে বলে জানা গেছে। আশা করি সুষ্ঠু তদন্তে সত্য বেড়িয়ে আসবে এবং সে অনুযায়ী  দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ পদক্ষেপ গৃহীত হবে।

উপরোক্ত কাহিনির উল্টো পীঠের চিত্রটাও একান্ত করুণ এবং সম্পূর্ণ আপত্তিজনক। কারণ এই হাসপাতালের রোগীদের খাবার মান যে খুবই খারাপ সেটা দীর্ঘ দিন যাবত বিভিন্ন মহলে বলাবলি  ও সাংবাদিকদের লেখালেখি চলে আসছে। এই হাসপাতালে পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতার বালাই নেই। এ নিয়ে স্থানীয় সাংসদ পর্যন্ত স্বয়ং ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন প্রকাশ্যে জনসম্মুখে। বহির্বিভাগে আগত রোগীদের প্রয়োজনীয় ওষুধ প্রদানে রয়েছে কারচুপির অভিযোগ। কতিপয় যন্ত্রপাতি বিকল এবং অব্যবহৃত পড়ে আছে অনির্দিষ্ট কাল ধরে।  হাসপাতালটিতে বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানীর  প্রতিনিধিদের ভিড় রোগীদের চেয়ে বেশী। হাসপাতাল প্রবেশ গেটের সামনে অনুমোদনহীন কয়েকটি প্যাথলজি ডায়াগনষ্টিক ক্লিনিকের সাথে এখানকার ডাক্তারদের অনেক দিন হল বিশেষ সখ্যতা ও চেম্বার পরিচালনাও প্রশ্নবিদ্ধ । এছাড়া মাত্র ক’দিন আগে এই হাসপাতালে পুষ্টি কর্মসূচির টাকায় করোনার ত্রাণ সামগ্রী ক্রয়ের ক্ষেত্রে অনিয়ম ও দুর্নীতির খবর প্রকাশ পেয়েছে। এমনকি অতি সম্প্রতি উক্ত হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি চৌড়া গ্রামের রাসেল আহমেদ(২৬) নামে  একজন করোনা পজিটিভ রোগীর অভিযোগ ছিল আরো মারাত্মক। তিনি বলেছেন, এখানে তাকে ধুলাময়লাযুক্ত কক্ষে রাখা হয়েছে। কেউ তার খোঁজ নিতে আসে নি। শুধু তাই নয়-তাকে ঠিকমত খাবারও দেয়া হয়নি। পরে তাড়াশের ইউএনও ব্যাপারটা জানতে পেরে ওই করোনা রোগীকে খাবার পৌছে দেবার ব্যবস্থা করেন। এই বর্ণনা অতীব অমানবিক। উপরোল্লেখিত বিবরণ থেকে তাড়াশ হাসপাতালের সার্বিক ব্যবস্থাপনা কতটুকু নড়বড়ে এবং নাজুক তা বুঝতে কষ্ট হয় না। মানে এক কথায়  এখানে অব্যবস্থাপনা চরমে উঠেছে।

এবার ফিরে আসি রোগীদের খাবার মানগত দিক প্রসঙ্গে। আগেই বলেছি, এই  ৫০ শয্যার হাসপাতালে বছরের পর বছর ধরে রোগীদের খাবার সরবরাহে প্রচন্ড উপেক্ষা ও বঞ্চনার দৃশ্য অব্যাহতভাবে চলছে যার কোন প্রতিকার আজো মেলে নি। বলাবাহুল্য, এই অনিয়ম ও দুর্নীতির আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়ে চলেছে হাসাতাল কর্তৃপক্ষ নিজে যার দায়ভার তারা এড়াতে পারেন না। দীর্ঘদিনের বিরাজমান এই সমস্যা নিরসনে তারা কার্যকরী কোন উদ্যোগ কখনই নেন নি। ফলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদাররা ইচ্ছেমত রামরাজত্ব কায়েম করে বসেছে। রোগীদের প্রাপ্য ন্যায্য হক মারতে তারা এতটুকু দ্বিধা করেনি। তারা জানে , দীর্ঘদিনেও তাদের এই নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে কেউ অবস্থান নিতে পারে নি; যেহেতু কর্তৃপক্ষকে টোটালি ম্যানেজ করেই এই অপকর্ম দেদারছে চলেছে এতকাল যাবৎ। বহুদিনের পূঞ্জিভূত এই সমস্যার গোড়াতে যদি যথাযথ পদক্ষেপ নেয়া যেত; তবে অবাঞ্চিত লোকজনের হাতে হাসপাতালের কর্মকর্তা কর্মচারীদের এই দু:সহ নিপীড়ণ বরণ করতে হত না। অর্থাৎ খানিকটা আপন দোষেও তাদের এই অপমান সইতে হয়েছে। তানাহলে  যথাসময়ে অফিসিয়াল কড়া ব্যবস্থা গ্রহণ না করে উচুঁ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের কেন নিম্ন স্তরের লোকদের সাথে তর্কবিতর্ক করতে গিয়ে মার খেতে হবে। তাই শর্ষের মধ্যে ভূত থাকলে কখনো তা এভাবে বিস্ফোরণ হওয়াটা অসম্ভব নয়। অন্যথায় সামান্য ঠিকাদার বা তার সাঙ্গপাঙ্গদের এই স্পর্ধা ও দু:সাহস  আসে কোথা থেকে। সবশেষে এই ন্যাক্কাড়জনক ঘটনায় জড়িতদের কঠিন শাস্তি, এ ধরনের দুর্নীতিবাজ ঠিকাদার বাতিল বা অপসারণ, রোগীদের খাদ্যমান যাচাই ও সরকারী ওষুধ বিতরণ ব্যবস্থাপনা নিয়মিত জবাবদিহিতার মধ্যে আনা সহ এই হাসপাতালের যাবতীয় অনিয়ম ও দুর্নীতির স্থায়ীভাবে সমাধানের জন্য তাড়াশের  সচেতন নাগরিক সমাজ উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের আশু দৃষ্টি আকর্ষণ করছে।

 

Please follow and like us:
Pin Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Website Design, Developed & Hosted by ALL IT BD